আবাসের বাড়ি চুরির অভিযোগ। তৃণমূল নেতাকে ঘিরে ধরে চলল ‘ডিমথেরাপি’। মারধরও করা হয়েছে বলে অভিযোগ। রবিবার সকালে এই ঘটনাটি ঘটেছে দুর্গাপুরের কোকওভেন থানা এলাকায়। ওই তৃণমূল নেতার নাম বিশ্বজিৎ মাঝি। পুলিশ ওই তৃণমূল নেতাকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। কী অভিযোগ উঠেছে ওই তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে?
সরকারি অনলাইনে উপভোক্তাদের নাম ‘সাকসেসফুল’ দেখালেও বাস্তবে মেলেনি পাকা বাড়ি! এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে তৃণমূল নেতাকে ঘিরে বিক্ষোভে ফেটে পড়লেন এলাকার মহিলারা। শুধু তাই নয়, তৃণমূল নেতা বিশ্বজিৎ মাঝির মাথায় পরপর ডিম ছোড়া হল। ঘটনাটি কোকওভেন থানার আনন্দপুর এলাকার।স্থানীয় তৃণমূল নেতা বিশ্বজিৎ ওরফে বিশু মাঝির বিরুদ্ধে অভিযোগ, গত সরকারের আমলে আবাস যোজনার বাড়ি পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিতে এলাকার গরিব মানুষদের কাছ থেকে বিভিন্ন নথি নেওয়া হয়েছিল।
পরবর্তীতে বাড়ি না পাওয়ায় ক্ষোভ তৈরি হয় উপভোক্তাদের মধ্যে। বিক্ষোভকারীদের দাবি, সম্প্রতি অনলাইনে আবাস যোজনার তথ্য যাচাই করতে গিয়ে দেখা যায়, নামের পাশে প্রকল্পের স্ট্যাটাস ‘সাকসেসফুল’ দেখাচ্ছে। অথচ তাঁরা কোনও পাকাবাড়ি মেলেনি। এদিন সেই ইস্যুতেই ক্ষোভ ছড়ায়। বিশ্বজিৎ মাঝিকে ঘিরে ধরে বিক্ষোভ দেখান মহিলারা। বিক্ষোভের মধ্যেই তাঁর মাথায় একাধিক ডিম ছোড়া হয় বলে অভিযোগ। পরে তাঁকে এলাকাতেও ঘোরানো হয়।
বিক্ষোভকারী সুষমা বাগদির অভিযোগ, “আমাদের নামে বাড়ি নথিভুক্ত হয়েছে। কিন্তু আমরা বাড়ি পাইনি। আমাদের বাড়ি দিতে হবে। না হলে আমরা বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটব।” নাম নথিভুক্ত হলে তো টাকাও এসেছে। সেই টাকা কোথায়, কার কাছে গেল? ওই মোটা টাকা কারা আত্মসাৎ করল? সেই প্রশ্নও উঠেছে। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তৃণমূল নেতা বিশ্বজিৎ মাঝি। তাঁর দাবি, “সেসময় অনেকের নাম নথিভুক্ত হয়েছিল। সেই কারণে আইডি তৈরি হয়েছিল। কিন্তু কে কাকে বেছে বেছে ঘর দিয়েছে, তা আমি জানি না।” “কার অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকেছিল, কে টাকা তুলে নিয়েছে, সেটা দেখতে হবে।” সেই কথাও বলেছেন তিনি।
ঘটনার খবর পেয়ে কোকওভেন থানার পুলিশ সেখানে যায়। আক্রান্ত ওই তৃণমূল নেতাকে উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ঘটনার তদন্তও শুরু করেছে পুলিশ।