• ধীর গতিতে পেরলো বন্দে ভারত, প্রায় ৩ দিন পর ছন্দে ফিরছে নিউ ফরাক্কা
    প্রতিদিন | ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • রেলকর্মীদের অক্লান্ত পরিশ্রমে প্রায় তিনদিন পর ছন্দে ফিরছে নিউ ফরাক্কা দিয়ে ট্রেন পরিষেবা। লাইনের কাজ প্রাথমিক শেষ হওয়ার পর প্রথম একটি মালগাড়ি গিয়েছিল। আজ, রবিবার নতুন পাতা লাইনে পেরলো বন্দে ভারত এক্সপ্রেস। তবে ধসের ওই অংশটি পার হওয়ার সময় ট্রেনের সর্বাধিক গতি ছিল ১০ থেকে ১৫ কিমির মধ্যে। আজ, রবিবার বেলা সাড়ে এগারোটা নাগাদ প্রথম যাত্রীবাহী ট্রেন হিসেবে নতুন পাতা লাইনের উপর দিয়ে গন্তব্যের দিকে যায় হাওড়া-কামাখ্যা বন্দে ভারত এক্সপ্রেস।

    প্রায় ৬২ ঘণ্টার দীর্ঘ টানাপোড়েন ও উদ্বেগের পর অবশেষে নিউ ফরাক্কায় রেললাইনের ভূমিধস মেরামতের কাজ সম্পূর্ণ। ধসের কারণে বুধবার প্রায় গভীর রাত থেকে বন্ধ হয়ে যায় ট্রেন চলাচল। কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে দক্ষিণবঙ্গের সঙ্গে উত্তরবঙ্গের রেল যোগাযোগ। অবশেষে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। ধীরে ধীরে শুরু হয়েছে ট্রেন চলাচলও। তবে প্রশ্ন উঠেছে, ওই লাইন দিয়ে কি সব ট্রেনই চলবে? নাকি কোনও ট্রেন বাতিল হবে?

    পূর্ব রেলের তরফে জানানো হয়েছে, রাতের সব দূরপাল্লার ট্রেনই ওই লাইন দিয়ে চলবে। কোনও ট্রেন বাতিল করা হয়নি। ট্রেনলাইন ফের চালু হওয়ায় হাঁফ ছেড়েছেন যাত্রীরা। ফরাক্কা ধস নামার কারণে ট্রেন চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বহু যাত্রী আটকেছিলেন বিভিন্ন জায়গায়। এদিন নিউ ফরাক্কা স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছনোর আগেই বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের চালক গতি কমিয়ে দিয়েছিলেন। ট্রেন পার হওয়ার পর লাইনে কোনও অস্বাভাবিকতা নজরে আসেনি। এমনই জানিয়েছেন রেলকর্মীরা।  

    মালদহ ডিভিশনের নিউ ফরাক্কা স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় আপ রেল লাইনে হঠাৎ ধস দেখা দেওয়ায় গত বুধবার রাত থেকে উত্তরবঙ্গের সঙ্গে দক্ষিণবঙ্গের রেল যোগাযোগ বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। বাতিল করা হয় একের পর এক ট্রেন। এমনকী বেশ কিছু ট্রেনকে ঘুরপথে চালাতে বাধ্য হয় পূর্ব রেল। চরম ভোগান্তিতে পড়েন হাজার হাজার যাত্রী। পরিস্থিতি সামাল দিতে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ শুরু করে রেল। শনিবার সকাল থেকে মেরামতির কাজে গতি বাড়ে। কর্মীদের মনোবল বৃদ্ধি করতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে তাঁদের করতালি দিয়ে অভিনন্দন জানান খোদ পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজার গীতিকা পান্ডে।

    পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজার গীতিকা পান্ডে জানান, নিউ ফরাক্কার সবকটি লাইন সক্রিয় হয়েছে এবং ওভারহেডে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছে। এরপরই নতুন লাইনে মালগাড়ি চালানো শুরু হয়। তিনি আশ্বাস দিয়েছিলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে ‘কশান’ দিয়ে ধীরে ধীরে যাত্রীবাহী ট্রেন চালানো হবে। কিন্তু শনিবার গভীর রাত থেকে ফরাক্কায় বৃষ্টি শুরু হওয়ায় ঝুঁকি নেয়নি পূর্ব রেল। গতকাল রাত পর্যন্ত ওই লাইনে কোনও যাত্রীবাহী ট্রেন চালানো হয়নি। রবিবার সকালেও লাইনের ধারে কাজ করতে দেখা যায় রেলকর্মীদের। এদিন সকাল পর্যন্ত ফরাক্কায় ডাউনের দুটি লাইন দিয়ে আপ ও ডাউন উভয়মুখী ট্রেন চালানো হচ্ছিল। ফলে বেশ কিছু ট্রেন দেরিতে চলেছে। বেলা বাড়ার সঙ্গে নতুন লাইনে বন্দে ভারত চলায় আশা বেড়েছে। এবার উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের মধ্যে ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হবে।
  • Link to this news (প্রতিদিন)