• ‘ডাকাতের গ্রাম’ থেকে এবার ডাক্তার! কালিমুল্লাহর নিট সাফল্যে ‘বদনাম’ ঘোচানোর স্বপ্ন বাঁকুড়ার মুক্ষ্যাপাড়ায়
    প্রতিদিন | ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • কয়েক দশক আগেও ডাকাতির সঙ্গে নাম জুড়ত গ্রামের! আসল নামের বদলে লোকমুখে পরিচিত হয় ‘ডাকাতের গ্রাম’ হিসেবে। এখন সেই নামেই জেলায় পরিচিত ওই এলাকা। কিন্তু সেই তকমা মুছতে চান এলাকার মানুষজন। ‘ডাকাতের গ্রাম’ বদলে ‘ডাক্তারের গ্রাম’ বলে এলাকাকে চিনুক। এমনই চাইছেন বাসিন্দারা। হবে নাই বা কেন? এবারই প্রথম, ওই গ্রামের মেধাবি ছাত্র নিট পরীক্ষায় সাফল্য পেয়েছে। গ্রামের বাসিন্দারা বলছেন, “গ্রামে প্রথম ডাক্তার আসছে। কৃতী কালিমুল্লাহ মণ্ডল আগামীর ডাক্তার।”

    বাঁকুড়ার ওন্দা ব্লকের পুলিশোল গ্রাম। মুক্ষ্যাপাড়া এলাকায় বাড়ি কালিমুল্লাহ মণ্ডলের। ছোট থেকেই পড়াশোনায় ভালো কালিমুল্লাহ এবার নিট পরীক্ষায় ভালো ফল করেছে। রাজ্যের মধ্যে আট হাজার র‍্যাঙ্ক করেছে সে। সর্বভারতীয় স্তরে তাঁর র‍্যাঙ্ক পাঁচ লক্ষ। ছেলের সাফল্যে খুশি বাবা-মা। গ্রামের মানুষজনও খুশি এই সাফল্যে। গত মঙ্গলবার তিনি বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজে এমবিবিএস কোর্সে ভর্তি হয়েছেন। কালিমুল্লাহ জানান, চিকিৎসক হওয়ার পর তিনি নিজের গ্রামের গরিব ও দুস্থ মানুষদের বিনামূল্যে চিকিৎসা করতে চান।

    কালিমুল্লাহের বাবা বু আলি মণ্ডল এগ্রি মেকানিক্যাল দপ্তরের অবসরপ্রাপ্ত কর্মী। মা মমিনা মণ্ডল সাধারণ গৃহবধূ। বাবা-মা ছেলের এই সাফল্যে গর্বিত। লাজুক মমিনার কথায়, ‘‘ছেলেকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন ছিল। ও ছোট থেকেই পড়াশোনায় মনোযোগী। সংসারে খুব বেশি কিছু দেওয়ার সামর্থ্য ছিল না। ছেলে কখনও কিছু চায়ওনি। নিজের চেষ্টাতেই পড়েছে।” তিনি আরও বলেন, “নিট পরীক্ষায় ও সফল হয়েছে—এটাই আমার কাছে সবচেয়ে বড় আনন্দ। ছেলে ডাক্তার হয়ে মানুষের সেবা করুক, এটাই চাই।”

    গ্রামে আগে অনেকেই সরকারি চাকরি পেয়েছে। কিন্তু গ্রামে ডাক্তার এবারই প্রথম। বাঁকুড়ার বঙ্গ বিদ্যালয় থেকে ৪৪০ নম্বর পেয়ে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেন কালিমুল্লাহ। অনলাইনে পড়াশোনা করেই নিটের প্রস্তুতি ও সাফল্য। সেজন্য গরিব ও দুস্থ পড়ুয়াদের নিটের প্রস্তুতিতেও সাহায্য করতে চান তিনি। তাঁর কথায়, “আমি নিজেও অনলাইনে পড়াশোনা করে নিটের প্রস্তুতি নিয়েছি। তাই সুযোগের অভাবে যাতে কোনও মেধাবী ছাত্রছাত্রীর পড়াশোনা থেমে না যায়, সেটাই চাই।”

    স্থানীয় বাসিন্দা আবু বক্কারের কথায়, ‘‘বদলে যাচ্ছে গ্রামের পরিচয়। ‘ডাকাতের গ্রাম’ বলে যে তকমা ছিল, তা আর থাকবে না। এই গ্রাম থেকেই এবার ডাক্তার বেরবে।’’ সাধারণ পরিবারের সেই ছেলের সাফল্যের খবর ছড়াতেই বাড়ির উঠোনে নিত্য ভিড় প্রতিবেশীদের। কেউ শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন, কেউ মিষ্টিমুখ করাচ্ছেন। আর এক কোণে বসে কখনও হাসছেন, কখনও চোখ মুছছেন মা মমিনা মণ্ডল।
  • Link to this news (প্রতিদিন)