• একই ইস্যুতে প্রতিবাদ! কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের শুনানিতে মিলে দুই গেল তৃণমূল
    প্রতিদিন | ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস (KMC Delimitation) খসড়ার বিরুদ্ধে সাধারণ নাগরিক থেকে রাজনৈতিক দলগুলির দাবি ও আপত্তি নিয়ে শনিবার থেকে শুনানি শুরু হল কলকাতা পুরসভায়। আগামী নভেম্বরের শেষে পুরভোটের আগে ২০৯টি ওয়ার্ড ঘিরে মহানগরের মানচিত্রে এই রূপান্তর প্রশাসনিক ও রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সরকারি বিজ্ঞপ্তি মেনে পুরভবনের ১০টি ঘরে পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের দশজন ডবলিউবিসিএস অফিসার পুরকর্মীদের নিয়ে এই শুনানিতে অংশ নিচ্ছেন। পুরো শুনানি পর্বটি পরিচালনা করছেন পুরকমিশনার স্মিতা পাণ্ডে। এই শুনানিতে কার্যত মিলে গেল দুই তৃণমূল। পৃথকভাবে অভিযোগ জানালেও তা একই।

    এ দিন শুনানিতে কংগ্রেস, বিজেপি, তৃণমূলের দুই শিবির ছাড়াও বামপন্থী দলের প্রতিনিধিরাও শুনানিতে অংশ নেন। স্বভাবতই ডিলিমিটেশন নিয়ে রাজনৈতিক চাপান-উতোরের জেরে দিনভর পুরভবনে চাপা রাজনৈতিক উত্তাপ ছিল। শুনানিতে আসা বিরোধীদের অভিযোগ, সরকারি বিজ্ঞপ্তি মেনে নতুন প্রতিটি ওয়ার্ডে কমবেশি ১৬ হাজার ভোটার থাকার কথা। কিন্তু বিজেপি প্রভাবিত উত্তর কলকাতার ২২ ওয়ার্ডে ৭০৭৬, ২৩ ওয়ার্ডে ৬১১৯, ৪২ ওয়ার্ডে ৬৮৪১ ভোটার থাকলেও সেখানে ওয়ার্ডগুলি জুড়ে ১৬ হাজার ভোটার করা হয়নি। অথচ ৪৩ ওয়ার্ড ১০,০৭৯ হওয়া সত্ত্বেও পাশের ৪৪ নম্বরের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়েছে। প্রদেশ কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক আশুতোষ চট্টোপাধ্যায়ের অভিযোগ, “ওই তিনটি ওয়ার্ডে বিজেপির কাউন্সিলর ছিল বলেই সরকারি বিজ্ঞপ্তি মেনে দু’টি ওয়ার্ড জুড়ে পুনর্বিন্যাস করা হল না। এসআইআর, সেন্সাসের বিষয়কে ডিলিমিটেশনে গুরুত্ব দিতে নারাজ।”

    পুরভবনে এদিন শুনানিতে ছিলেন ঋতব্রত তৃণমূলের বিধায়ক জাভেদ খানের নেতৃত্বে বিশাল টিম। পাশে ছিলেন কালীঘাট-তৃণমূলের তরফে প্রাক্তন মেয়র পারিষদ বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়, অঞ্জন দাসরা। বিজেপি নেতা অশোক সিনহার নেতৃত্বে ৪ সদস্যের টিম শুনানিতে অংশ নেন। পুরভবনে ছিলেন বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষও। দুই তৃণমূল শিবিরের এ দিন পৃথকভাবে একই অভিযোগ, “ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের সময় সীমানা পরিবর্তনে যেখানে বিজেপি দূর্বল এমন ৫৮টি ওয়ার্ডকে ভেঙে ১২৩টি নতুন ওয়ার্ড হলেও বাকি ৮৬টি ওয়ার্ড কার্যত একই রয়েছে। এই ডিলিমিটেশন কার্যত বিজেপির স্বার্থরক্ষা করে করা হয়েছে। বিজেপিকে সুবিধা পাইয়ে দিতে কাজ করছেন পুরকর্তারা।” যদিও বিজেপির তরফে পাল্টা অভিযোগ, আসন্ন পুরভোটে বিরোধীদের হার নিশ্চিত জেনেই এখন থেকে নানা অজুহাত খাড়া করার চেষ্টা করছে। এ দিন নিজের ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস নিয়ে আপত্তি জানিয়ে স্বতস্ফূর্তভাবেই অংশ নেন বাসিন্দারাও। আগামী ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শুনানি চলবে। বিরোধী দলের প্রতিনিধিরা অভিযোগ করেন, “বারবার দাবি জানানো সত্ত্বেও ওয়ার্ড ডিলিমিটেশনের আপত্তি নিয়ে কোথাও ‘ফিল্ড-ভিজিট’ করা হচ্ছে না। ওয়ার্ডের মানচিত্র বিজেপির পাড়ার কর্মীদের হাতে তুলে দেওয়া হলেও বিরোধীরা চেয়েও পাচ্ছে না। এটা সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিক।” শুনানির ক্ষেত্রে আপত্তি নিয়ে পৃথক নোটিস না দিয়ে অন্য হিয়ারিং পর্বে মিশিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ কংগ্রেসের।
  • Link to this news (প্রতিদিন)