• শ্রাদ্ধের ১৫ দিন পরে ফোনের ও প্রান্ত থেকে জানানো হলো ছেলে বেঁচে আছে, তার পর...
    এই সময় | ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • শোকের পরিবেশ বদলে গেলে আনন্দে। সেই সঙ্গে চমক-ও। বাড়ির ছেলে মারা গিয়েছে জেনে তাঁর শেষকৃত্য করেছিল পরিবার। হয়েছিল তাঁর শ্রাদ্ধ-ও। বাড়ির এই শোকের পরিবেশের মধ্যেই আসে একটি ফোন। তাতে জানানো হয়, যাঁর অত্যেষ্টিক্রিয়া হয়েছে তিনি আছেন পাঞ্জাবের কাপুরথালা কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারে। ওই ফোন আসার পরে ছেলের সঙ্গে দেখাও করে এসেছেন পরিবারের লোকজন।

    নিখোঁজের পর দেহ উদ্ধার

    পুলিশ এবং পরিবার সূত্রে খবর, ওই যুবকের নাম রবি কুমার। তাঁর বাড়ি কাপুরথালার (Kapurthala) কাদুপুর গ্রামে। গত ৫ অগস্ট থেকে বাড়ি থেকে বেরনোর পরে আর ফেরেননি তিনি। পরিবারের লোকজন খোঁজ করেও তাঁর সন্ধান পাননি। এর পরে গত ১১ অগস্ট কাপুরথালা সিটি থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেন রবির বাবা এবং ভাই আমনদীপ।

    এরই মধ্যে কাঞ্জালি রোড (Kanjli Road) এলাকা থেকে উদ্ধার হয় এক যুবকের দগ্ধ দেহ। সেটি কার দেহ তা চেনার উপায় ছিল না। তবে উদ্ধার হওয়া দেহের ছবি দেখানো হয় রবির পরিবারের সদস্যদের। তাঁরা এবং আরও কয়েকজন দেহটি রবির বলে শনাক্ত করেন।

    শেষকৃত্যর পরে ফোন

    গত ১৩ অগস্ট শেষকৃত্য সম্পন্ন করে রবির পরিবার। এর দু'দিন পরে রবির স্মরণে বিশেষ প্রার্থনা এবং ‘ভোগ’-এর আয়োজন করাও হয়। এর প্রায় ১৫ দিন পরে, গত ২ সেপ্টেম্বর, পরিবারের সদস্যদের ফোন করেন কাপুরথালা কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারের এক কর্মী। তাতেই জানানো হয়, ওই জেলে বন্দি হিসেবে আছেন রবি। তা শুনেই অবাক হয়ে যান পরিবারের লোকজন। প্রথমে সেই কথা বিশ্বাসই করতে পারেননি তাঁরা। তবে ওই ফোন পাওয়ার পরেই কাপুরথালা সেন্ট্রাল জেলে-এ গিয়ে রবিকে জীবিত দেখতে পান তাঁরা।

    কার দেহের শেষকৃত্য?

    এর পরেই দেখা দিয়েছে নতুন প্রশ্ন। রবির মনে করে কার দেহের শেষকৃত্য করা হয়েছে তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। জলন্ধর এলাকার পুলিশ সূত্রে খবর, সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করার জন্য, মাস খানেক আগে, গ্রেপ্তার করা হয় রবি কুমারকে। তাঁকে পাঠানো হয় কাপুরথালা কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারে। সেই কথা জানতেন না তাঁর পরিবারের লোকজন।

    পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

    এ দিকে, রবি বেঁচে আছেন বলে জানার পরে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে, এই ঘটনায় পুলিশের কোনও গাফিলতি ছিল না বলে দাবি করেছেন ওই এলাকার ডেপুটি পুলিশ সুপার শীতল সিং। তিনি জানিয়েছেন, যার দেহ উদ্ধার হয় তাঁর মুখ চেনার কোনও উপায় ছিল না। পোশাক দেখে দেহটি রবির বলে শনাক্ত করেছিলেন পরিবারের সদস্যরা। এই ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ওই পরিবারের সদস্যদের তলব করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

  • Link to this news (এই সময়)