• ঘরের মেঝেতে ঘুরে বেড়াচ্ছে বিষধর সাদা কালাচ সাপ, হুলস্থুল বাগনানে
    এই সময় | ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • একটানা বৃষ্টিতে জল থইথই অবস্থা দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকায়। কিন্তু জমা জলের আতঙ্কের মাঝেই হাওড়ার বাগনানে দেখা মিলল বিরল প্রজাতির সাদা রঙের কালাচ সাপের। বাগনান ২ ব্লকের বাঁটুল গ্রামের বাসিন্দা সঞ্জীব প্রামাণিকের মাটির বাড়িতে দেখা মিলেছে বিরল এই সাপের। শনিবার রাতের ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই শোরগোল পড়ে যায় এলাকায়।

    স্থানীয় সূত্রে খবর, সঞ্জীব হঠাৎ ঘরের মেঝেতে একটি সাদা রঙের সাপ দেখতে পান। এমন দৃশ্য দেখে পরিবারের সকলেই ভয়ে সিঁটিয়ে যান। সঞ্জীব দেরি না করে দ্রুত খবর দেন ‘ওয়াইল্ডলাইফ এনভায়রনমেন্ট সেভিয়ার ট্রাস্ট’-এর সদস্য সবুজ দোলুইকে। সবুজ তৎক্ষণাৎ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সাপটিকে নিরাপদ কোণে আটকে রাখেন এবং খবর দেন ট্রাস্টের সাপ উদ্ধারকারী দলকে। এদিকে বিরল এই সাপ দেখতে সঞ্জীবের বাড়ির উঠোনে শয়ে শয়ে মানুষের ভিড় জমে যায়।

    ট্রাস্টের সদস্য চিত্রক প্রামাণিক, সুমন্ত দাস ও অর্ঘ্য মল্লিক খবর পেয়ে বাঁটুল গ্রামে পৌঁছন। তাঁরা পরীক্ষা করে নিশ্চিত হন, এটি সাধারণ কোনও সাপ নয়। সেটা বিষধর লিউসিস্টিক কালাচ বা সাদা কালাচ সাপ। এর পরে উদ্ধারকারীরা সাপটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে জারে বন্দি করেন। এর পর সঞ্জীবের ঘরের চারপাশে তন্ন তন্ন করে তল্লাশি চালানো হয়, যাতে আর কোনও বিষধর সাপ সেখানে লুকিয়ে না থাকে।

    উদ্ধারকাজ শেষে বন্যপ্রেমীদের উদ্যোগ গ্রামবাসীদের নিয়ে একটি সচেতনতা সভার আয়োজন করা হয়। বর্ষাকালে সাপের কামড় থেকে বাঁচতে কী কী সতর্কতা নিতে হবে, তা বলা হয় বৈঠকে। ট্রাস্টের সদস্য চিত্রক প্রামাণিক জানিয়েছেন, এ দেশে থাকা বিষধর সাপগুলির মধ্যে কালাচ অন্যতম। তবে সাদা রঙের কালাচ অত্যন্ত দুর্লভ। এটি মূলত একটি বিশেষ জিনগত রূপান্তর বা লিউসিজমের কারণে ঘটে থাকে। এই পরিবর্তনের জেরে প্রাণীর ত্বকে মেলানিনের ঘাটতি দেখা দেয়। ফলে গোটা শরীর সাদা বা ফ্যাকাশে হয়ে যায়। তবে অ্যালবিনো সাপের মতো এদের চোখের মণি লাল হয় না। এর আগেও হাওড়া ও রাজ্যের বেশ কিছু জায়গায় বিরল সাদা কালাচের দেখা মিলেছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

  • Link to this news (এই সময়)