কলকাতা-সহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে খাবারের দোকান, রেস্তোরাঁয় নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছেন খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের আধিকারিকরা। এর মাঝেই রবিবার হুগলির একটি চানাচুর কারখানায় পরিদর্শনে গিয়ে বাধার মুখে পড়তে হয়েছে বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে যায় তারকেশ্বর থানার পুলিশ। ওই কারখানার মালিকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের আধিকারিকরা।
এ দিন দুপুরে তারকেশ্বরের মুক্তারপুর এলাকায় একটি চানাচুর কারখানায় হানা দেয় খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের কয়েকজন আধিকারিক। কারখানার ভিতরে প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গেই কারখানার মালিক রীতিমতো তর্কবিতর্ক শুরু করে দেন। খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে এমনকী আধিকারিকদের ধমক-চমক দিতেও দেখা যায় ওই কারখানার মালিককে। এমনকী ছুটির দিন (রবিবার) কেন খাদ্য দপ্তরের আধিকারিকরা এসেছেন সেই বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন দোকানের মালিক।
খাদ্য দপ্তরের এক আধিকারিক বিশ্বজিৎ মান্না জানান, আইন অনুসারে যে কোনও সময়ে খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের আধিকারিকরা পরিদর্শনে যেতে পারেন। সেইমতো রবিবার ওই কারখানায় যাওয়া হয়েছিল। চানাচুর তৈরির সময়ে যে উপাদান দেওয়া হচ্ছে, সেগুলি খাদ্যযোগ্য কি না, কোনও অস্বাস্থ্যকর কিছু প্যাকেটজাত করা হচ্ছে কি না সেটা দেখতেই অভিযান। বিশ্বজিৎ বলেন, ‘এখানে অভিযানে এসে আমাদের বাধার মুখে পড়তে হয়েছে। আমাদের সঙ্গে পুলিশ আধিকারিকরা রয়েছেন। তাঁরা বিষয়টি দেখছেন। আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা নেব।’
যদিও তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কারখানার মালিক বংশীবদন দোলুই। তিনি বলেন, ‘আমি ওঁদের সঙ্গে কোনও অসযোগিতা করিনি। কাউকে বাধা দেওয়া হয়নি।’ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন স্থানীয় বিধায়ক সন্তু পান। তিনি বলেন, ‘আমি শুনলাম খাদ্য দপ্তরের আধিকারিকদের ঢুকতে দেওয়া হবে না বলা হয়েছে। আমাদের জানার অধিকার আছে, খাদ্য সামগ্রী কী ভাবে হচ্ছে সেটা জানার। সেই কারণেই রাজ্য জুড়ে এই অভিযান চলছে। আমি পুলিশকে জানিয়েছি আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে।’