স্যর বার বার করে বলে দিয়েছিলেন, ‘কেক আনবি আন। কিন্তু ফোম নিয়ে আসবি না!’ তা সত্ত্বেও কথা শোনেনি ছেলেমেয়েরা। ফোম তো তারা এনেইছে। সেই সঙ্গে স্যর কেক কাটার সময়ে তাঁর মুখেও স্প্রে করে দিয়েছে এক ছাত্র! এতেই মেজাজ হারান গৃহশিক্ষক। চোখে-মুখে ফোম মাখামাখি অবস্থাতেই ওই ছাত্রকে লাথি-ঘুষি মেরে দিলেন মাস্টারমশাই।
বাঁকুড়ার ছাতনার ঝাঁটিপাহাড়ির এই ঘটনার একটি ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। জানাজানি হতেই কয়েক জন স্থানীয় বিক্ষোভ দেখান জগদীশ দণ্ডপাট নামে ওই গৃহশিক্ষকের বাড়িতে। পরে উত্তেজনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে সেখান থেকে নিয়ে যায় পুলিশ। যদিও এই ঘটনায় পুলিশে কোনও অভিযোগ দায়ের হয়নি এখনও।
দীর্ঘদিন ধরে ছাতনার ঝাঁটিপাহাড়িতে গৃহ শিক্ষকতা করেন জগদীশ। তাঁর বিরুদ্ধে যে ছাত্রকে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে, রাজু কুন্ডু নামে একাদশ শ্রেণির সেই ছাত্রের বক্তব্য, ‘স্যর ১৫ দিন আগেই বলেছিল, যাতে আমরা ফোম নিয়ে না যাই। কিন্তু আমরা তো সব স্যরকেই ফোম মাখিয়েছি। জগদীশ স্যরকে ফোম মাখাতে গিয়েছিলাম। সেই সময়ে ভুলবশত চোখে-মুখে লেগে যায়। স্যর উত্তেজিত হয়ে মারধর করেছে। লাথি মেরেছে। পরে প্রচুর মানুষ জড়ো হয়। পুলিশ আসে।’
অন্য দিকে, জগদীশ দাবি করেছেন, গত বছরও শিক্ষক দিবসে তাঁর চোখে ফোম স্প্রে করেছিল ছাত্রছাত্রী। তাতে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছিল তাঁকে। সেই কারণেই তিনি এ বার শিক্ষক দিবসের উদযাপনে ফোম আনতে বারণ করেছিলেন। তার পরেও সেই একই কাজ করেছে পড়ুয়ারা। মাস্টারমশাইয়ের কথায়, ‘আমি রাগের মাথায় এই কাজ করেছি। ইচ্ছাকৃত ভাবে নয়। কিন্তু বাইরের কিছু ছেলে এসে ঝামেলা করেছে। পরে তারাই পুলিশকে ফোন করে।’