সোনা বন্ধক রেখে একটি ফিন্যান্স সংস্থা থেকে মোটা অঙ্কের টাকা ঋণ হিসেবে নিয়েছিলেন এক মহিলা। প্রেমিককে সঙ্গে নিয়েই ওই ঋণ নিয়েছিলেন তিনি। আর সেই ঋণ থেকে মুক্তি পাওয়ার পাশাপাশি বন্ধক রাখা সোনা উদ্ধারের জন্য ফিন্যান্স সংস্থার ম্যানেজারকে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ। প্রেমিককে সঙ্গে পরিকল্পনা করেই ওই মহিলা এই খুনের এই খুনের ছক কষেন বলে অভিযোগ। অভিযুক্ত মহিলাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গুজরাটের প্রান্তিজ এলাকার ঘটনায় পলাতক ওই মহিলার প্রেমিক। তাঁর খোঁজে তল্লাশি চলছে বলে জানিয়েছেন আধিকারিকরা।
খুনের ঘটনায় গ্রেপ্তার
পুলিশ সূত্রে খবর, মৃতের নাম ভরত চৌধুরী। একটি ফিন্যান্স সংস্থার ব্র্যাঞ্চ ম্যানেজার ছিলেন তিনি। গত ২ সেপ্টেম্বর থেকে নিখোঁজ ছিলেন তিনি। এর পরেই প্রান্তিজ (Prantij) এলাকার লিমলা গ্রামের কাছে একটি গাড়ির মধ্যে থেকে উদ্ধার হয় তাঁর দেহ। এই খুনের ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে ভাবনা ওরফে ভাবু ঠাকুরকে। তাঁর প্রেমিক যোগেশ ঠাকুরের খোঁজ চালাচ্ছে পুলিশ। তাঁদের দু’জনের মধ্যে প্রায় সাত বছর ধরে সম্পর্ক আছে।
ঋণ থেকে মুক্তি পেতে খুনের পরিকল্পনা
পুলিশ জানিয়েছে, ওই সংস্থা থেকে দেড় লক্ষ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন ভাবনা। আর তাঁর প্রেমিক যোগেশ নিয়েছিলেন সাড়ে ৪ লক্ষ টাকা। সোনা বন্ধক রেখেই এই ৬ লক্ষ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন দু’জনে। তবে, ওই ঋণের কিস্তি এড়ানোর পাশাপাশি বন্ধক রাখা সোনার গয়না ফেরত পেতে চেয়েছিলেন দু’জনে। এই জন্য ভরত চৌধুরীকে খুনের পরিকল্পনা করেন তাঁরা।
এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে, টাকা দেওয়ার অজুহাতে ভরতকে ফোন করে প্রান্তিজে আসতে বলেন ভাবনা। প্রেমিকার কথায় নিজের গাড়ি নিয়ে অপেক্ষা করছিলেন যোগেশ। সেই গাড়িতেই ওই ম্যানেজারকে নিয়ে ওঠেন ভাবনা। তার পরেই দু’জনকে ওই গাড়িতে করে মানসা থেকে ভাদভাসায় নিয়ে যান যোগেশ। ভাদভাসায় পৌঁছনোর পর গাড়ির ভেতরেই যোগেশ ধারালো অস্ত্র দিয়ে ওই ম্যানেজারের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ। সেখানেই মৃত্যু হয় ভরতের। এর পরেই লিমলার দিকে গাড়িটি নিয়ে যান যোগেশ। রাস্তার পাশের একটি খাদে আটকে পড়লে সেখানেই গাড়ি ফেলে পালান যোগেশ এবং তাঁর প্রেমিকা। ওই গাড়ির মধ্যেই ছিল ভরতের দেহ। সেই দেহ উদ্ধারে পরেই তদন্ত শুরু করে পুলিশ।
অভিযুক্তের খোঁজে তল্লাশি
ওই এলাকার পুলিশ আধিকারিকরা জানিয়েছেন, ফোনের কললিস্ট এবং অন্যান্য সূত্র ধরেই ভাবনা এবং যোগেশের খোঁজ পাওয়া যায়। তদন্তের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ভাবনাকে। তবে ওই মহিলার প্রেমিক পলাতক। যোগেশের খোঁজ চালাচ্ছে পুলিশ। তাঁকে ধরার জন্য একাধিক দল গঠন করাও হয়েছে। কী কারণে ওই দু জন এই ঋণ নিয়েছিলেন তাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।