দিল্লির সত্য নিকেতনে একটি ছ’তলা ভবন ধসে পড়ার ঘটনায় এখনও অবধি তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। দু’জন আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ধ্বংসস্তূপের নীচে অনেকেই আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত নয় জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। ৭৫ শয্যাবিশিষ্ট পিজি বা হস্টেল হিসেবে ব্যবহৃত ভবনটিতে এ দিন দুপুর দেড়টা নাগাদ ধসে পড়ে। ভবনটির মালিক গুরুগ্রামে থাকেন। সত্য নিকেতন এলাকাটি দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাউথ ক্যাম্পাসের কাছে অবস্থিত। স্বাভাবিক ভাবেই এখানে প্রচুর শিক্ষার্থী বসবাস করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, ভবনটি ৪০-৫০ বছরের পুরোনো ছিল। ছ’তলা আবাসনের বেসমেন্ট-এ মেরামতের কাজ চলছিল। এনডিআরএফ, দিল্লি পুলিশ, দিল্লি ফায়ার সার্ভিস এবং জেলা বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের দ্রুততার সঙ্গে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে।
এ দিনের ঘটনার ভয়াবহ বর্ণনা দিয়েছেন উন্নয়ন নামে এক ১৮ বছরের ছাত্র। তিনি একটি সংবাদমাধ্যমকে জানান, বুলন্দশহর থেকে তিনি দিল্লিতে পড়তে এসেছিলেন। হস্টেল না পাওয়ায় এত দিন সত্য নিকেতনের একটি পিজি আবাসে থাকতেন। তবে দ্বিগুণ ভাড়ার ঘর ও অপরিসর পরিবেশের কারণে রবিবার সকালে তিনি নতুন ফ্ল্যাটের খোঁজে বেরিয়েছিলেন। একজন ব্রোকারের স্কুটারে চেপে ফ্ল্যাট দেখতে যাওয়ার সময়েই ঘটে সেই ভয়াবহ দুর্ঘটনা। উন্নয়ন ‘দ্য হিন্দু’-কে বলেন, ‘আমি ঠিক তখনই স্কুটারে বসেছিলাম। আমরা রওনা দেব দেব করছি। ঠিক আমার চোখের সামনেই পুরো ভবনটি হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল।’ তাঁর সংযোজন, ‘স্কুটারটি যদি আর একটু এগিয়ে থাকত, তবে আমরা সোজা ওই ধ্বংসস্তূপের নীচে চাপা পড়তাম। হাত-পা এখনও কাঁপছে, মনকে কিছুতেই বোঝাতে পারছি না।’
দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাউথ ক্যাম্পাসের সংলগ্ন সত্য নিকেতন এলাকাটি মূলত বহিরাগত শিক্ষার্থীদের বসবাসের প্রধান জায়গা। ওই এলাকায় রয়েছে প্রচুর পিজি এবং ভাড়া বাড়ি। ওই প্রতক্ষদর্শী জানান, ভবনটি বেশ পুরোনো ছিল এবং তার নীচে কয়েকটি দোকান ছিল।
ঘটনার পর পর স্থানীয় বাসিন্দা এবং দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজে সহায়তা করেন। অনেক প্রতক্ষদর্শীরাই জানিয়েছেন, ৪০-৫০ জন পড়ুয়া ভিতরে আটকে থাকতে পারেন।
এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এক্স হ্যান্ডলে শাহ লিখেছেন, ‘দিল্লির সত্য নিকেতনে একটি ভবন ধসে পড়ার ঘটনায় আমি গভীর ভাবে ব্যথিত। আমি মুখ্যমন্ত্রী, দিল্লির পুলিশ কমিশনার এবং এনডিআরএফ (NDRF)-এর ডিরেক্টর জেনারেল সঙ্গে কথা বলেছি এবং সরেজমিনে পরিস্থিতির খোঁজ নিয়েছি। স্থানীয় প্রশাসন ও এনডিআরএফ নিবিড় সমন্বয়ের মাধ্যমে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে।