ভাই-এর সম্পর্কে কটু মন্তব্য করেছিলেন ননদ বলে অভিযোগ। তাও আবার রক্ষাবন্ধনের দিনে! ওই মন্তব্য সহ্য হয়নি বৌদির। এই কারণে তিনি তাঁর ননদকে খুন করেন বলে অভিযোগ। এর পরেই ননদের দেহ বাড়ির বাইরে একটি জলের ট্যাঙ্কে ফেলে দেন তিনি। তবে শেষরক্ষা হলো না। মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরের এই ঘটনায় অভিযুক্ত পার্বতী বাই কুশওয়াহাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে খবর, মৃতের নাম বন্দনা (২১)। এই খুনের ঘটনা ঘটেছে ইন্দোরের রাউ ( Rau) থানার নিউ নেহরু নগর এলাকায়। পরিবারের অমতে, গত ১১ অগস্ট, একটি মন্দিরে প্রেমিক উপেন্দ্রকে বিয়ে করেন তিনি। এই কারণে স্বামীকে নিয়ে ভাড়া বাড়িতে রাজ নগর এলাকায় আলাদা থাকার সিদ্ধান্ত নেন বন্দনা। অন্য দিকে, ধর্ষণের অভিযোগ আছে পার্বতীর ভাইয়ের বিরুদ্ধে। ওই অভিযোগে দামোর (Damoh) কারাগারে আছেন ওই ব্যক্তি। রাখির সময়ে ওই ভাইকে নিয়ে মন্তব্য করায় ক্ষিপ্ত হন পার্বতী। তা নিয়ে বন্দনা এবং পার্বতীর মধ্যে বচসাও হয়। এর পরেই বন্দনাকে খুনের পরিকল্পনা করেন তিনি বলে অভিযোগ।
জানা গিয়েছে, বাড়িতে যখন কেউই ছিলেন না সেই সময়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে নিজের ননদকে খুন করেন পার্বতী। এরই সঙ্গে বাড়ির বাইরে একটি জলের ট্যাঙ্কে বন্দনার দেহ ফেলে দেন পার্বতী বলেও অভিযোগ। এদিকে, পার্বতীর স্বামী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি। ননদকে খুনের পরে স্বামীকে দেখতে চলে যান তিনি।
অন্য দিকে, বন্দনাকে দেখতে না পেয়ে তাঁর খোঁজ শুরু হয়। বিষয়টি জানানো হয় স্থানীয় থানাতেও। এই নিয়ে শুরু হয় তদন্ত। খতিয়ে দেখা হয় ওই এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ। তা দেখেই খুনের কিনারা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সেখানকার ডেপুটি পুলিশ কমিশনার নরেন্দ্র সিং রাওয়াত।
পুলিশ জানিয়েছে,সিসিটিভি ফুটেজে পার্বতীর গতিবিধি সন্দেহজনক বলে মনে হয়। তা দেখেই তাঁকে জেরা করা হয়। প্রথমে পুলিশকে বিভ্রান্ত করতে চাইলেও জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনি নিজের অপরাধের কথা স্বীকার করেছেন বলে দাবি ডিসিপির। এর পরেই উদ্ধার হয় বন্দনার দেহ। ওই খুনে ব্যবহৃত অস্ত্রটিও পাওয়া গিয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এই নিয়ে আরও তদন্ত চলছে বলেও জানিয়েছেন আধিকারিকরা।