• মিলিয়ে দিল SIR! ‘মৃত’ দাদাকে ৩৫ বছর পর ফিরে পেলেন ভাই
    প্রতিদিন | ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • এসআইআর। দেশব্যাপী বহু মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে এই তিনটি অক্ষরের জন্য। ভোটাধিকার হারিয়েছেন লক্ষ লক্ষ মানুষ। ভোটার তালিকার এই বিশেষ নিবিড় সংশোধন আদৌ ঠিক কিনা তা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে চলছে নারদ নারদ। কিন্তু এই এসআইআরের জেরেই ৩৫ বছর পর একে অপরকে খুঁজে পেলেন দুই ভাই। তাঁদের পুনর্মিলন দেখে চোখ ভিজেছে সরকারি কর্তাদেরও।

    ঘটনাটি ঘটেছে হরিয়ানার জিন্দ জেলায়। সম্প্রতি সেরাজ্যে শুরু হয়েছে এসআইআর। সরকারি স্কুলে বসে কাজ করছেন বিএলওরা। সেসময়ে এক বৃদ্ধ আসেন স্কুল পাশ সার্টিফিকেট নেওয়ার জন্য। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন বিএলও কৃশন কুমার। জানতে পারেন, বৃদ্ধের নাম সীতা রাম। বর্তমানে তিনি থাকেন পাঞ্জাবে। একটি বেসরকারি স্কুলে পিওনের কাজ করতেন। পরে সরকারি চাকরি পেয়েছিলেন। বর্তমানে এসআইআরের জন্য় স্কুল পাশ সার্টিফিকেট নিতে স্কুলে এসেছেন।

    নিয়মমাফিক সীতা রামকে বাবার নাম, গ্রামের নাম, পরিবারে অন্য সদস্যের নাম ইত্যাদি বেশ কিছু প্রশ্ন করা হয়। তিনি জানান, বলবীর নামে এক ভাই রয়েছে তাঁর। সব শুনে বলবীরকে ফোন করেন কৃশন, সীতা রামের পরিচয় যাচাই করার জন্য। ৩৫ বছর আগে হারিয়ে যাওয়া ভাইকে চিনতে বলবীরের এতটুকু ভুল হয়নি। ফোনেই তিনি জানান, এই সীতা রাম তাঁরই ভাই। দ্রুত স্কুলে ছুটে আসেন বলবীর। ৩৫ বছর পর একে অপরকে দেখে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন। উপস্থিত সকলের চোখেই তখন আনন্দাশ্রু।

    ছয় ভাইয়ের মধ্যে সবচেয়ে ছোট বলবীর। তাঁর ঠিক আগেই সীতা রামের জন্ম। জানা গিয়েছে, ৩৫ বছর আগে সীতা রাম আচমকাই নিখোঁজ হয়ে যান। অনেক চেষ্টা করেও তাঁকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরিবারের সদস্যরা ধরেই নেন, সীতা রাম আর বেঁচে নেই। দীর্ঘ সময় পরে যখন হারিয়ে যাওয়া দাদার খোঁজ মেলে, তখন আর নিজেকে ধরে রাখতে পারেননি বলবীর। এসআইআরের কর্মীরাও বলছেন, এমন ঘটনা আজীবন মনে থাকবে তাঁদের। হারিয়ে যাওয়া দাদাকে নিজের বাড়িতে নিয়ে গিয়েছেন বলবীর।
  • Link to this news (প্রতিদিন)