“বিজেপি শিক্ষক সেলের সদস্য হয়ে গেছি বলেই ক্লাস না করালেও চলবে—এমন ভুল ধারণা মন থেকে বের করে দিন।” শিক্ষক দিবসে আসানসোলে শিক্ষকদের এভাবেই এক ব্যতিক্রমী ও কড়া বার্তা দিলেন বিজেপি নেতা তথা বিধায়ক জিতেন্দ্র তেওয়ারি। শিক্ষক দিবস উপলক্ষ্যে আসানসোলের রবীন্দ্রভবনে বিজেপি শিক্ষক সেলের (শিক্ষাসেল) তরফে শিল্পাঞ্চলের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের নিয়ে এক বিশেষ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের মূল নজর ছিল জিতেন্দ্র তেওয়ারির এই ব্যতিক্রমী বক্তব্যের দিকেই। তিনি শিক্ষকদের ইচ্ছা দমন করার বার্তা দেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বিগত রাজ্য সরকারের শিক্ষা নীতির তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে ভুল প্রশাসনিক নীতি ও দুর্নীতির কারণে যোগ্য শিক্ষকরা বঞ্চনার শিকার হয়েছিলেন। ফলে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে। বর্তমান শুভেন্দু সরকার শিক্ষাঙ্গনে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনা এবং শিক্ষকদের সামাজিক মর্যাদা সুনিশ্চিত করার উপর জোর দিচ্ছেন বলে আশ্বাস দেন।
এরপর বক্তব্য রাখতে গিয়ে জিতেন্দ্র তেওয়ারি শিক্ষকদের আত্মনিয়ন্ত্রণের বিষয়টি বিশদে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “বাইরের সার্ভিলেন্স বা সরকারি নজরদারি দিয়ে শিক্ষকতা চলে না। সমাজ নিজেই শিক্ষকদের উপর এক অলিখিত শৃঙ্খলা চাপিয়ে দিয়েছে।” বারে গিয়ে মদ্যপানের একটি উদাহরণ টেনে তিনি স্পষ্ট জানান, সাধারণ মানুষের যে ছাড় রয়েছে, সমাজ তা শিক্ষকদের ক্ষেত্রে মেনে নেয় না। তাই শিক্ষক সমাজকে নিজেদের ইচ্ছাশক্তি দমন করে পেশাগত মর্যাদা বজায় রাখতে হবে। শিক্ষকদের উদ্দেশে তাঁর বক্তব্য, “আপনারা সাধারণ মানুষ বা ‘কমন ম্যান’ হয়ে যাবেন না, আপনারা ‘স্পেশাল’ থাকুন”।
অনুষ্ঠানে অন্যতম প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী এবং বিজেপি বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি শিক্ষকসমাজকে সম্মান জানানোর পাশাপাশি রাজ্য সরকারের শিক্ষা নীতির তীব্র সমালোচনা করে শিক্ষকদের সামাজিক মর্যাদা ও নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার দাবি তোলেন। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন বারাবনির বিধায়ক অরিজিৎ রায় এবং আসানসোল উত্তর বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায়। পুরো অনুষ্ঠান জুড়ে মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা এবং জিতেন্দ্র তেওয়ারির এই অনন্য অনুশাসনমূলক বক্তব্য শিক্ষক সমাজে বিশেষ বার্তা তৈরি করে।