নথি জাল করে সরকারি জমি হাতিয়ে বটলিফ ফ্যাক্টরি নির্মাণ। এই অভিযোগে শিলিগুড়ি মহকুমার দোর্দণ্ডপ্রতাপ তৃণমূলের সভাপতি কাজল ঘোষকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। রবিবার তাঁকে শিলিগুড়ি আদালতে তোলা হলে বিজেপি কর্মীরা ডিম ছোড়েন। কিন্তু ডিম ছোড়ার ‘অপরাধে’ আদালতে থাকা পুলিশ বিজেপি কর্মীদের আটক করে থানায় পাঠিয়ে দেয়। এদিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কাজল ঘোষকে ৩দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক।
৯ বছর আগে জাল নথি বানিয়ে শিলিগুড়ি মহকুমার ফাঁসিদেওয়ার বিধাননগরের বড় পাইকপাড়া মৌজায় এক বিধবা মহিলার সরকারি পাট্টা ভুক্ত জমি হাতিয়ে নেয় তৃণমূলের দাপুটে নেতা তথা ফাঁসিদেওয়া বিধানসভার তৃণমূলের সভাপতি কাজল ঘোষ। এমনকী গোটা ঘটনায় মুখ খুললে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ। সেই জমিতেই শ্রীরূপা ট্রি অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি নামে একটি বটলিফ ফ্যাক্টরি তৈরি করে প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা কাজল ঘোষ। সেই সময় তৃণমূল সরকার থাকায় কার্যত ভয়ে মুখ খোলেননি ওই মহিলা। পালাবদল হতেই গত ৭ আগস্ট কাজল ঘোষ ও তাঁর স্ত্রী’র নামে ফাঁসিদেওয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তিনি। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে শনিবার রাতে খড়িবাড়ি থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় তৃণমূল নেতা কাজল ঘোষকে। জানা গিয়েছে, বটলিফ ফ্যাক্টরি তৈরি করতে এক মহিলার প্রায় এক একরেরও বেশি কৃষি পাট্টা জমি প্রভাব খাটিয়ে হাতিয়ে নেয় তিনি। ধৃত তৃণমূল নেতা কাজল ঘোষ বিধানসভা নির্বাচনে ফাঁসিদেওয়া বিধানসভার কো-অর্ডিনেটর এবং শিলিগুড়ি জলপাইগুড়ি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সদস্য হিসেবে ছিলেন। এছাড়াও ধৃতের বিরুদ্ধে একাধিক জমি মামলা, অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগ রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে রবিবার শিলিগুড়ি মহকুমা আদালতে তোলা হয়। আদালতেই তাঁকে ডিম থেরাপি দেন বিজেপি কর্মীরা। শুধু তাই নয়, চোর চোর স্লোগান দেওয়া হয়। এবিষয়ে এসডিপিও নকশালবাড়ি সৌম্যজিৎ রায় বলেন, “অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে৷ তবে এর বাইরে তদন্তের স্বার্থে এখনই কিছু বলা সম্ভব নয়।” এদিকে পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ বলেন, “আমাদের সরকার বলেছে অন্যায়ের সঙ্গে আপস করা হবে না। তাই যারা অন্যায় করেছে তাদের শাস্তি হবেই। এবার কেন কী বিষয়ে গ্রেপ্তার হয়েছে তা জানা নেই।”
প্রসঙ্গত শিলিগুড়ি মহকুমার ফাঁসিদেওয়া বিধানসভার এক প্রকার রাজত্ব করেছেন তৃণমূল নেতা কাজল ঘোষ। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক ব্যক্তির জমি দখল-সহ মহকুমা পরিষদে প্রভাব খাটিয়ে জমির অবৈধ প্ল্যান পাশ করানোর অভিযোগ রয়েছে। এবার এসব বিষয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে পুলিশ।