• ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থার ‘বেসরকারিকরণ’ হচ্ছে? স্পষ্ট জবাব দিল ISRO
    এই সময় | ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা সম্প্রতি দু’টি খবর প্রকাশিত হয়েছে। প্রথমটি, ইসরো থেকে পদত্যাগ করেছেন একশোর বেশি বিজ্ঞানী। দ্বিতীয় খবরটি হলো— ইসরো আর কোনও রকেট তৈরি করবে না। যে কোনও রকম উৎক্ষেপণ যান তৈরির দায়িত্ব দায়িত্ব বেসরকারি এবং সরকারি অধীনস্থ সংস্থার হাতে তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে ইসরো। তা হলে কি ISRO-র ‘বেসরকারিকরণ’ শুরু হলো? বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন ইসরোয় কর্মরত বিজ্ঞানীরা। সংস্থার ভবিষ্যৎ কোন পথে তা জানতে চেয়ে ডিরেক্টর ভি নায়ারণনকে চিঠি দেন প্রায় ৫ হাজার বিজ্ঞানী ও কর্মী। ইসরো জানিয়েছে, ইসরোর বেসরকারিকরণের ধারণা 'অমূলক'।

    ISRO জানিয়েছে, সংস্কারের উদ্দেশ্য সংস্থাটির গুরুত্ব কমানো বা তাকে বেসরকারি হাতে তুলে দেওয়া নয়। বরং দেশের মহাকাশ-ভিত্তিক শিল্প ও প্রযুক্তি ব্যবস্থাকে আরও বড় করে তোলা এবং বেসরকারি সংস্থাগুলিকে এই ক্ষেত্রে আরও বেশি সুযোগ দেওয়াই সংস্কারের লক্ষ্য। সংস্থাটি জোর দিয়ে জানিয়েছে, ভারতের মহাকাশ কর্মসূচির কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে তাদের অবস্থান অপরিবর্তিত থাকবে।

    ভারতের মহাকাশ ক্ষেত্রকে আরও বড় এবং প্রতিযোগিতামূলক করে তুলতেই বেসরকারি সংস্থাগুলিকে বেশি সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। ISRO-র নিজস্ব সংস্কার নীতিতেও বলা হয়েছে, মহাকাশ প্রযুক্তির বিস্তার এবং দেশের স্পেস ইকোনমিকে শক্তিশালী করতে বেসরকারি জগতের অংশগ্রহণ বাড়ানো প্রয়োজন। অর্থাৎ, বিষয়টি শুধুমাত্র ‘বেসরকারিকরণ’ নয়। ISRO-র মূল গবেষণা ও কৌশলগত দায়িত্ব বজায় রেখেই মহাকাশ শিল্পে একটি বৃহত্তর ইকোসিস্টেম তৈরি করার পরিকল্পনা চলছে।

    ইসরো জানিয়েছে, মহাকাশ গবেষণায় বেসরকারি সেক্টরের অংশগ্রহণ মানেই ইসরোর (ISRO) ভূমিকা কমিয়ে আনা নয়। বরং এই পদক্ষেপের ফলে ইসরো ভারতের পরবর্তী প্রজন্মের মহাকাশ কর্মসূচির উপরে আরও নিবিড় ভাবে মনোযোগ দিতে পারবে। ইসরো বেসরকারি খাতে তাদের কিছু প্রযুক্তি হস্তান্তরও করেছে। তবে তারা স্পষ্ট জানিয়েছে, এ ধরনের হস্তান্তরের অর্থ এই নয় যে ইসরো সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রগুলো থেকে সরে আসছে।

  • Link to this news (এই সময়)