দিল্লির সত্য নিকেতনে পুরোনো বিল্ডিং ধসে এখনও পর্যন্ত পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত বহু। জোরকদমে চলছে উদ্ধারকাজ। তবে পাঁচ তলা ওই মেসবাড়ির নীচে ঠিক কতজন আটকে রয়েছেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। এর মধ্যেই রবিবার বিকেল থেকে ধ্বংসস্তূপের নীচে আটকে থাকা এক পড়ুয়ার ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। কোনও কথা বলতে পারছেন না তিনি। শুধু নিজের ভিডিয়ো তুলে সাহায্য চেয়ে বন্ধুকে পাঠিয়ে দিয়েছেন বলেই অনুমান করা হচ্ছে।
ভিডিয়োটি নিজেদের X হ্যান্ডলে পোস্ট করেছে কংগ্রেসের ছাত্র সংগঠন এনএসইউআই। তাতে দেখা যাচ্ছে, ধ্বংসস্তূপের নীচে চাপা পড়ে রয়েছেন ওই যুবক। ঘাড়ের উপরে আড়াআড়ি ভাবে একটা লোহার চাঙড় পড়ে। তাঁর চোখেমুখে ধুলো, শরীরে রক্তের দাগ। একটা হাত বেরিয়ে আছে। সেই হাতেই মোবাইল ধরে রেখেছেন তিনি। ক্যামেরা ঘুরিয়ে চারপাশের ধ্বংসস্তূপ আর ভেঙে পড়া বাড়ির কিছু অংশ দেখানোর চেষ্টা করছেন।
ওই পড়ুয়ার নাম-পরিচয় জানা যায়নি। তাঁর মতো অনেকেই কংক্রিটের নীচে চাপা পড়া অবস্থায় ফোন করছেন আত্মীয়স্বজনকে। একটাই আর্জি, ‘আমাদের বাঁচান।’ উদ্ধারকারী দল ইতিমধ্যেই ধ্বংসস্তূপ থেকে বেশ কয়েক জনকে বের করে এনেছে। রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন বিজেপি বিধায়ক অনিল শর্মা। তিনি বলেন, ‘যাঁরা ভিতরে আটকে রয়েছেন, তাঁদের অনেকেই ফোন করে সাহায্য চাইছেন। উদ্ধারকারী দল তাঁদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। আমরা ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করছি, সকলেই যেন নিরাপদে থাকেন।’
সত্য নিকেতনের ওই পাঁচ তলা বাড়িতে মূলত পড়ুয়ারা ভাড়া থাকতেন বলে জানা গিয়েছে। বাড়িটি কয়েক দশকের পুরোনো। এ দিন দুপুরে আচমকাই সেটি তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ভূমিকম্পের মতো গোটা এলাকা কেঁপে উঠল। তার পরেই হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল বাড়িটি। স্থানীয়রাই প্রথমে উদ্ধারকাজে হাত লাগান। কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দিল্লি পুলিশ, দমকল ও জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীও। এখনও পর্যন্ত পাঁচ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। ধ্বংসস্তূপের নীচ থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে পাঁচ জনকে। আটকে পড়াদের খোঁজে আনা হয়েছে স্নিফার ডগ।
ওই বাড়িতে অন্তত ৪০ থেকে ৫০ জন পড়ুয়া ছিলেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই বাড়ির মালিক হরিরামের বিরুদ্ধে সাউথ ক্যাম্পাস থানায় এফআইআর দায়ের করেছে দিল্লি পুরসভা। বাড়িটির একতলায় মেরামতির কাজ চলছিল। তার জেরেই পাঁচতলা বাড়িটি ধসে পড়ে বলে প্রাথমিক ভাবে অনুমান। বিকেলেই ঘটনাস্থলে যান দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্ত। তাঁর সঙ্গে ছিলেন শ্রমমন্ত্রী কপিল মিশ্র, বিজেপি সাংসদ বাঁসুরি স্বরাজ-সহ অন্যান্য আধিকারিকরা। উদ্ধারকাজ খতিয়ে দেখেন তাঁরা।