অনলাইনে অর্ডার করেছেন একটি নামী কোম্পানির মোবাইল ফোন। অথচ, বাড়িতে যে জিনিসটি এল, সেটি ওই কোম্পানির লোগো লাগানো হুবহু নকল। ক্রেতারা অনেক সময়ে বুঝতেও পারতেন না, তাঁরা প্রতারণার শিকার হয়েছেন। এই ভাবেই নকল বা ডামি পণ্য পাঠিয়ে দিনের পর দিন চলত প্রতারণা। রবিবার এই চক্রের পাঁচ জনকে গ্রেপ্তার করল সুরাট পুলিশ।
পুলিশের তদন্ত অনুযায়ী, এই প্রতারণা চক্রটির মূল লক্ষ্য ছিল ইলেকট্রনিক পণ্য। অনলাইনে অর্ডার করা পণ্য ডেলিভারির আগে ডেলিভারি বয়দের হাতে আসে। সেখানেই হতো কেরামতি। বাক্স থেকে আসল জিনিস সরিয়ে ফেলা হত। তার বদলে একই রকম দেখতে ডামি বা কম দামের পণ্য রাখা হত। ফলে ক্রেতার হাতে পৌঁছতে নকল পণ্য।
সুরাটের ঘটনায় প্রায় ৮ লক্ষ টাকা মূল্যের প্রতারণা হয়েছে বলে খবর। পুলিশ অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এই চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখছে। উল্লেখ্য, এর আগে দেশের বিভিন্ন জায়গায় এরকম পার্সেল-সোয়াপ চক্রের হদিশ মিলেছে। চলতি বছর গুজরাট ও রাজস্থানের একটি মামলায় ডামি ফোন, ইয়ারবাড ও অন্যান্য নকল পণ্য দেওয়ার অভিযোগে পাঁচ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
যত দিন যাচ্ছে, মানুষের অনলাইন কেনাকাটার প্রবণতা বাড়ছে। সেই সুযোগে ই-কমার্সের ডেলিভারি ব্যবস্থাকে কাজে লাগিয়ে নতুন ধরনের প্রতারণার অভিযোগ উঠে আসছে। Amazon, Flipkart-সহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের দামি অর্ডার বদলে দেওয়ার অভিযোগে উঠে আসছে বিভিন্ন রাজ্য থেকে।
বিষয়টি নিয়ে পুলিশের তরফে ক্রেতাদের সতর্ক করা হচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, দামি কোনও পণ্য অনলাইনে অর্ডার করলে ডেলিভারির সময়ে পার্সেলের প্যাকেজিং ভালো করে পরীক্ষা করে নেওয়া উচিত। প্যাকেট ছেঁড়া, টেপ বদলানো বা কোনও ধরনের অস্বাভাবিকতা চোখে পড়লে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। কোনও সন্দেহ হলে সঙ্গে সঙ্গে সেই অনলাইন ডেলিভারি সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত।