বাংলাদেশের খাঁটি ‘পদ্মার ইলিশ’ বলে ভিন রাজ্যের মাছ বিক্রির অভিযোগ উঠেছিল আগেই। অবশেষে রবিবার বনগাঁর নিউ মার্কেটের একটি মাছের দোকানে যৌথ তল্লাশি চালালেন বনগাঁ পুরসভা ও খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের আধিকারিকরা। তবে ইলিশগুলো সত্যিই ‘পদ্মার’ নাকি ভিন রাজ্যের, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তাদের নথিপত্র পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে।
গত কয়েক দিন ধরেই বনগাঁ নিউ মার্কেটের ওই মাছের দোকানে ক্রেতাদের ভিড় যেন উপচে পড়ছিল। সবাই খাঁটি পদ্মার ইলিশ কিনতে চান। কিন্তু সেই মন ভালো করে দেওয়া স্বাদ যেন মিলছিল না বলেই অভিযোগ। সেই নিয়ে মাছের দোকানের বিরুদ্ধে পরপর অভিযোগ জমা পড়ে। তার পরেই বিষয়টা খতিয়ে দেখতে এদিন দোকানে পৌঁছন সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আধিকারিকরা।
দোকানের মজুত ইলিশ খুঁটিয়ে দেখেন খাদ্য সুরক্ষা দপ্তর ও পুরসভার আধিকারিকরা। মাছগুলি কোথা থেকে কেনা হয়েছে, প্রয়োজনীয় নথিপত্র রয়েছে কি না, খতিয়ে দেখা হয়। বিশেষ করে মাছগুলি সত্যিই বাংলাদেশ থেকে আমদানি করা হয়েছে, নাকি অন্য কোনও রাজ্য থেকে কিনে নিয়ে এসে পদ্মার ইলিশ বলে বিক্রি করা হচ্ছে, সেই নিয়েই মূলত তদন্ত করেন তাঁরা।
বাজারে বাংলাদেশি ইলিশের চাহিদা বিপুল। দামও তুলনামূলক ভাবে বেশি। সেই সুযোগে অনেক ব্যবসায়ীই ভিনরাজ্য থেকে মাছ কিনে এনে ‘পদ্মার ইলিশ’ বলে বিক্রি করেন বলে অভিযোগ। তবে বনগাঁর ওই দোকানের ইলিশ সত্যিই বাংলাদেশের নাকি ভিন রাজ্য থেকে আমদানি করা, সেই ব্যাপারে চূড়ান্ত কিছু জানায়নি প্রশাসন। তাঁরা ইলিশের নমুনার পাশাপাশি নথিপত্রও নিয়ে গিয়েছেন। তদন্তের পরেই গোটা বিষয়টা স্পষ্ট হবে বলে প্রশাসন সূত্রে খবর।
তবে বাংলাদেশি ইলিশ বলে ভিন রাজ্যের মাছ বিক্রির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন দোকান মালিক যাদব হালদার। তিনি বলেন, ‘বারাসতের একটি স্টোর থেকে বাংলাদেশি ইলিশ কিনে নিয়ে এসে বিক্রি করি।’ এখন সেই স্টোর থেকে তিনি বাংলাদেশের নথিপত্র নিয়ে আসবেন বলে জানিয়েছেন। তার পরে জমা দেবেন খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরে। তখনই জানা যাবে ইলিশের আসল ‘বংশ পরিচয়’।