ডেঙ্গির দাপট ঠেকাতে 'স্বচ্ছতা সংকল্প'কে গণআন্দোলনের রূপ দেওয়ার ডাক মুখ্যমন্ত্রীর
eTV Bharat | ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কলকাতা, 6 সেপ্টেম্বর: বর্ষা এখনও পুরোপুরি বিদায় নেয়নি । তার মধ্যেই রাজ্যে বাড়ছে ডেঙ্গির উদ্বেগ । প্রশাসনের হিসেব বলছে, সেপ্টেম্বরের শুরুতেই আক্রান্তের সংখ্যা সাড়ে চার হাজার ছাড়িয়েছে । পরিস্থিতি সামাল দিতে মশার আঁতুড়ঘর ধ্বংস এবং পরিচ্ছন্নতার উপর জোর দিয়ে তিন দিনের বিশেষ অভিযান চালাল রাজ্য সরকার ।
3 থেকে 5 সেপ্টেম্বর পর্যন্ত 22টি জেলার 128টি পুরসভায় 1600-র বেশি ওয়ার্ডে চলে 'স্বচ্ছতা সংকল্প অভিযান' । এ বার সেই কর্মসূচিকেই শুধু সরকারি অভিযান না রেখে গণআন্দোলনের চেহারা দেওয়ার ডাক দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ।
রবিবার সমাজমাধ্যমে অভিযানের খতিয়ান তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, তিন দিনে রাজ্য জুড়ে মোট 27 হাজার 378টি মশার আঁতুড়ঘর ধ্বংস করা হয়েছে । ডেঙ্গির মশা যাতে জমা জলে বংশবিস্তার করতে না পারে, সে জন্য নিকাশি এবং আবর্জনা পরিষ্কারে বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে ।
প্রশাসনের হিসাবে, এই অভিযানে 6 হাজার 65টি অবরুদ্ধ নর্দমা পরিষ্কার করা হয়েছে । দীর্ঘদিন ধরে আবর্জনা জমে থাকা 1 হাজার 608টি জায়গা থেকে জঞ্জালের স্তূপ সরানো হয়েছে । রাস্তার ধারে আরও 4 হাজার 511টি জায়গা পরিষ্কার করা হয়েছে । পুর এলাকার পাশাপাশি পরিবহণ দফতরের বাস ও ট্রাম ডিপো, ওয়ার্কশপ এবং গ্যারাজগুলিতেও বিশেষ সাফাই চালানো হয় । পড়ে থাকা বাতিল যন্ত্রাংশ, পুরনো টায়ার এবং জমে থাকা জল সরানোর উপর জোর দেওয়া হয়েছে । কারণ, বৃষ্টির জল জমে থাকা পুরনো টায়ার বা পরিত্যক্ত সামগ্রীই অনেক সময় ডেঙ্গির মশার অন্যতম প্রজননস্থল হয়ে ওঠে ।
শুধু রাস্তা-নর্দমা নয়, বাজার-হাট থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি দফতর এবং হাসপাতাল- সব জায়গাকেই অভিযানের আওতায় আনা হয়েছিল । সরকারি হিসাব অনুযায়ী, 1 হাজার 106টি বাজার ও হাট, 1 হাজার 304টি স্কুল ও কলেজ, 544টি সরকারি অফিস এবং 315টি হাসপাতাল চত্বর পরিষ্কার করা হয়েছে । ডেঙ্গি নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে বিলি করা হয়েছে 35 হাজারের বেশি প্রচারসামগ্রী । সরকারি উদ্যোগের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে 118টি স্বেচ্ছাসেবী ও সামাজিক সংগঠনও ।
সোশাল মিডিয়া পোস্টে মুখ্যমন্ত্রী লিখেছেন, "পরিচ্ছন্ন পশ্চিমবঙ্গের জন্য আমাদের সংকল্প হল 'স্বচ্ছতা সংকল্প অভিযান' ।" একই সঙ্গে তাঁর আবেদন, প্রতিটি পাড়া, রাস্তা, নর্দমা এবং জনবহুল এলাকা পরিষ্কার রাখার দায়িত্ব যেন সাধারণ মানুষও নিজেদের কাঁধে তুলে নেন । পরিচ্ছন্ন বাংলার লড়াইকে গণআন্দোলনে পরিণত করার বার্তাই দিয়েছেন তিনি ।
কিন্তু কেন আচমকা এত জোর সাফাইয়ে ? প্রশাসনের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানেই তার উত্তর । 2 সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রাজ্যে ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা সাড়ে চার হাজার পেরিয়েছে । আক্রান্তের তালিকায় শীর্ষে মুর্শিদাবাদ । সেখানে আক্রান্ত 870 জন । গত এক সপ্তাহেই নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন 96 জন ।
দ্বিতীয় স্থানে কলকাতা । শহরে ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়েছেন 402 জন । গত সাত দিনে নতুন আক্রান্ত 62 জন । উত্তর 24 পরগনায় 346, মালদাতে 331, দক্ষিণ 24 পরগনায় 324 এবং নদিয়ায় 316 জন আক্রান্ত হয়েছেন । নদিয়াতেও গত সপ্তাহে নতুন করে 41 জনের শরীরে ডেঙ্গি ধরা পড়েছে । হুগলি, হাওড়া এবং দুই বর্ধমানেও পরিস্থিতি নজরে রাখছে প্রশাসন । হুগলিতে আক্রান্ত 293 জন, হাওড়ায় 276। পূর্ব বর্ধমানে 233 এবং পশ্চিম বর্ধমানে 140 জন ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়েছেন ।
বর্ষার জল নামলেও কোথাও জল জমে থাকছে কি না, নিকাশি ব্যবস্থা ঠিক রয়েছে কি না, আবর্জনা নিয়মিত সরানো হচ্ছে কি না- এখন সেই দিকেই নজর প্রশাসনের । কারণ ডেঙ্গির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে হাসপাতাল বা ওষুধের পাশাপাশি মশার জন্ম ঠেকানোই প্রথম প্রতিরোধ । সেই লক্ষ্যেই 'স্বচ্ছতা সংকল্প'কে এবার ঘর থেকে পাড়া, পাড়া থেকে গোটা রাজ্যের আন্দোলনে পরিণত করতে চাইছে সরকার ।