ঘাটালে জল যন্ত্রণা ! শ্মশানে যেতে ভরসা ডিঙি, জানুয়ারির মধ্যে সমাধানের আশ্বাস
eTV Bharat | ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঘাটাল, 7 সেপ্টেম্বর: বন্যা প্লাবিত ঘাটালের পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে প্রতিদিন। পরিস্থিতি এখন এতটাই ভয়াবহ যে শ্মশানে পর্যন্ত যেতে হচ্ছে ডিঙির ভরসায় ! যদিও এলাকার বিজেপি বিধায়কের দাবি, আগের তৃণমূল সরকার ইলেকট্রিক চুল্লি করেনি। কিন্তু তাঁরা বন্যা কবলিত ঘাটালে দ্রুত ইলেকট্রিক চুল্লি তৈরির কাজ সম্পন্ন করবেন। সেই সঙ্গে এই সমস্যাও মিটবে ।
পশ্চিম মেদিনীপুরের বিস্তীর্ণ এলাকা বন্যার জলে ভেসে গিয়েছে । বেশি প্লাবিত হয়েছে সবং, পিংলা থেকে শুরু করে ঘাটাল। গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে চারপাশ জলমগ্ন। ইতিমধ্যেই জলের তলায় চলে গিয়েছে স্কুল-কলেজ। স্থানীয়দের নিত্য প্রয়োজনীয় কাজে বেরোতে সমস্যা হচ্ছে । পাশপাশি বন্ধ হওয়ার মুখে পঠনপাঠন। দেহ সৎকার করতেও সমস্যায় পড়ছেন এলাকার মানুষজন। নীচু এলাকায় থাকা শ্মশানগুলি ডুবে গিয়েছে ।
রবিবার এভাবেই দুটি দেহ দাহ করতে গিয়ে হিমশিম খেল একটি পরিবার। শারীরিক অসুস্থতার জেরে মৃত্যু হয়েছে গ্রামের দুই বৃদ্ধের। কিন্তু বন্যার জলে ডুবে রয়েছে গ্রামের রাস্তা। বাড়ি থেকে বেরিয়ে কোথাও যেতে হলে ভরসা সেই ডিঙি নৌকা। গ্রামের দুই বৃদ্ধের মৃত্যুতে বিপাকে পড়েন বাড়ির সদস্যরা। দেহ দাহ করতে শ্মশানে যেতে হলে জল পেরিয়ে যেতে হবে। অগত্যা রবিবার গ্রামের মানুষজন মৃতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে ডিঙি নৌকায় করে দেহ ও দাহকার্য করার জন্য সামগ্রী চাপিয়ে শ্মশানে যান।
এমনই জল যন্ত্রণার ছবি দেখা গেল ঘাটাল পুরসভার শুকচন্দ্রপুরে। জানা গিয়েছে, শুকচন্দ্রপুর দক্ষিণপাড়ার বাসিন্দা দুই বৃদ্ধ নিতাই শাসমল ও রবীন্দ্রনাথ শাসমল। দু'জনেই কয়েকদিন ধরে শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন। দুজনেরই মৃত্যু হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে তাঁদের দাহ কোথায় করা হবে তা নিয়ে চিন্তায় পড়ে পরিবার। এলাকায় যে শ্মশান রয়েছে সেটি জলে ডুবে আর দূরে থাকা শ্মশানে যেতে হলেও জল পেরিয়েই যেতে হবে। এই পরিস্থিতিতে পরিবারের লোকজন দুটি দেহ ডিঙি নৌকায় করে জল পেরিয়ে রঘুনাথচক শ্মশানে নিয়ে গিয়ে দাহকার্য সম্পন্ন করে।
ঘটনার কথা স্বীকার করে নিয়ে বিজেপি বিধায়ক শীতল কপাট । তিনি বলেন,"তৃণমূল সরকার দেড় দশক রাজত্ব করেছে । তারপরও ঘাটালকে জল যন্ত্রণা থেকে যেমন মুক্তি দেয়নি । বন্যা প্লাবিত এই ঘাটালে ইলেকট্রিক চুল্লির ভীষণ প্রয়োজন, যা এত বছরেও তৃণমূল করে উঠতে পারেনি । আমাদের সরকারের বয়স সবেমাত্র চার মাস। তবে তারই মধ্যে পূর্তমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল এখানে এসেছিলেন । তাঁর কাছে আমরা ইলেকট্রিক চুল্লি তৈরির আবেদন করেছিলাম । তিনি বিস্তারিত তথ্য জমা দিতে বলেছেন। আমরা জমা দিয়েছি। আগামী ডিসেম্বর-জানুয়ারির দিকে আমরা কাজ শুরু করে দেব।"