এই সময়, তমলুক: মণ্ডল সভাপতিদের সঙ্গে সমন্বয় রেখেই বিধায়ক ও সাংসদদের কাজ করতে হবে। সেই সঙ্গে বিধায়ক ও সাংসদ তহবিলের কাজ কী ভাবে দ্রুত এবং স্বচ্ছতার সঙ্গে করতে হবে, তার সুস্পষ্ট রূপরেখাও রবিবার তমলুকে সাংগঠনিক জেলা বিজেপির কোর কমিটির বৈঠকে তৈরি করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
এ দিন সন্ধ্যা ৭টা নাগাদ মানিকতলায় দলীয় কার্যালয়ে পৌঁছান শুভেন্দু। সেখানে ছিলেন তমলুকের সাংসদ অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় এবং তমলুক, পূর্ব পাঁশকুড়া, ময়না, নন্দকুমার, মহিষাদল ও হলদিয়ার বিধায়ক, জেলা সভাপতি মলয় সিনহা, জেলা সভাধিপতি বামদেব গুছাইত-সহ কোর কমিটির সদস্যরা।
দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বৈঠকে মণ্ডল সভাপতিদের সঙ্গে বিধায়ক ও সাংসদদের সমন্বয়ের অভাব ঘোচানোর উপরে জোর দেওয়া হয়। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'মণ্ডল সভাপতিরাই সংগঠনের মূল ভিত্তি। তাই তাঁদের সঙ্গে সমন্বয় রেখে বিধায়ক ও সাংসদদের কাজ করতে হবে।' বৈঠক শেষে জেলা সভাধিপতি বলেন, 'আলোচনার মূল নির্যাস উন্নয়ন এবং সংগঠনের শ্রীবৃদ্ধি করা।' তাঁর দাবি, সরকারের উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলি আরও বেশি করে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন শুভেন্দু। বিধায়কদের সঙ্গে সংগঠনের সমন্বয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। দলের অভ্যন্তরে সমন্বয় নিয়ে সাংসদ বলেন, 'কোথাও কোথাও মণ্ডল সভাপতিদের সঙ্গে বিধায়কদের যোগাযোগের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। তা দূর করে সকলকে সঙ্গে নিয়ে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মণ্ডল সভাপতিদের সঙ্গে কোথাও একটা কমিউনিকেশন গ্যাপ তৈরি হচ্ছে। যার ফলে ক্ষোভ তৈরি হচ্ছে। সেটা যাতে আর না হয়, তার জন্য এমএলএ-দের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।' এ দিন দুর্নীতি ও তোলাবাজি নিয়েও কড়া বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। বামদেব জানান, সরকারি সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনও উপভোক্তার কাছ থেকে দলের কেউ যেন কাটমানি না নেন, সে বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় নগদে টাকা সংগ্রহের বদলে অনলাইন বা ডিজিটাল ব্যবস্থা ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অভিজিৎ বলেন, 'তোলাবাজি ও অনৈতিক ভাবে টাকা তোলা (যেমন বাস স্ট্যান্ডে কুপন কেটে টাকা আদায়) সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে।' জেলা সভাপতি মলয় সিনহা জানান, সংগঠনকে 'জনমুখী' করে তোলার পাশাপাশি আগামী দিনে আরও বেশি করে মানুষের পাশে থাকার উপরে জোর দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। নন্দীগ্রামে ইতিমধ্যেই প্রায় ৩০০ কোটি টাকার প্রকল্পের উদ্বোধন হয়েছে। সেই কাজগুলি সুচারুভাবে সম্পন্ন করার বিষয়ে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে উন্নয়ন, সংগঠন ও স্বচ্ছতাকে সামনে রেখেই আগামী দিনে দলীয় কর্মসূচির রূপরেখা তৈরি হয়েছে বলে দাবি জেলা নেতৃত্বের।