• দিল্লিতে মেসবাড়ি ভেঙে মৃত বেড়ে ৬, চারতলার বেশি উঁচু বেআইনি নির্মাণ সিল করার নির্দেশ পুরসভার
    এই সময় | ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • দিল্লিতে পুরোনো পাঁচতলা মেসবাড়ি ধসে পড়ার ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬। রবিবার দুপুর দেড়টা নাগাদ দক্ষিণ-পশ্চিম দিল্লির সত্য নিকেতন এলাকার দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন অনেকে। ঘটনার কিছুক্ষণের মধ্যেই পুলিশ এবং দমকল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করেছিল। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১১ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে, এখনও ওই ভাঙা বাড়ির ধ্বংসস্তূপের নীচে কয়েকজন চাপা পড়ে থাকতে পারেন বলে প্রশাসনের আশঙ্কা।

    রবিবারের ওই ঘটনার পরেই দিল্লির মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন (MCD) সেখানে চারতলার বেশি উঁচু সব বেআইনি নির্মাণ চিহ্নিত করে যত দ্রুত সম্ভব সিল করে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। দিল্লি পুরসভার মেয়র প্রবেশ ওয়াহি একটি এক্স পোস্টে জানিয়েছেন, প্রায় ৫০ বছরের পুরোনো মেসবাড়ি কী ভাবে তৈরি হয়েছিল, সে ব্যাপারে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চলছে। তদন্তে যাঁরা দোষী প্রমাণিত হবেন, তাঁদের সবার বিরুদ্ধেই কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

    দুর্ঘটনার পরে রবিবারই দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা AIIMS Trauma Care Centre-এ গিয়ে আহতদের সঙ্গে দেখা করেন। চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্য দপ্তরের আধিকারিকদের সঙ্গেও দেখা করেন তিনি। আহতদের যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। এ দিন AIIMS থেকে তিনি বলেন, ‘কাউকে রেয়াত হবে না।’ সত্য নিকেতনে এই বেআইনি বাড়ি তৈরির সঙ্গে যাঁরা যুক্ত, তাঁদের প্রত্যেককে খুঁজে বের করে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।

    রবিবার বিকেলে দিল্লি পুরসভার সদর দপ্তরের বাইরে বিক্ষোভ দেখান ABVP (অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ)-র সদস্যরা। পুরসভার বাইরে ধর্নায় বসে তাঁদের অভিযোগ, দিল্লিতে পড়ুয়াদের থাকার জায়গাগুলিতে যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই। এ ব্যাপারে প্রশাসনের উদাসীনতাকেও দায়ী করেছেন তাঁরা। উল্লেখ্য, দিল্লির শাসন ক্ষমতায় এখন বিজেপি।

    প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানিয়েছে, দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাউথ ক্যাম্পাসের কাছে অবস্থিত এই এলাকায় একাধিক বাড়ি মেসবাড়ি বা পিজি (Paying Guest Accomodation) হিসেবে ব্যবহৃত হয়। অধিকাংশ বাড়ির নীচেই রয়েছে বেসমেন্ট। শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া একটানা বৃষ্টিতে ওই বেসমেন্টে জল জমে গিয়েছিল। তার মধ্যেই ওই বেসমেন্টে নির্মাণকাজ চালানো হচ্ছিল বলে অভিযোগ। এর ফলে বাড়িটির কাঠামো নড়বড়ে হয়ে গিয়ে থাকতে পারে বলে অনুমান।

    ঘটনার পর থেকেই পলাতক বাড়ির মালিক। জানা গিয়েছে তাঁর বাড়ি গুরুগ্রামে। মালিকের খোঁজে একাধিক তদন্তকারী দল গঠন করে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ। বর্ষার মরশুমে বাড়ির বেসমেন্টে নির্মাণকাজ চালানোর অনুমতি কী ভাবে পাওয়া গেল, তাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

    তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, বাড়িটি তৈরির ক্ষেত্রে একাধিক নিয়ম লঙ্ঘন করা হয়েছে। দিল্লি পুরসভার এক আধিকারিক জানিয়েছেন, বাড়িটির উচ্চতা ১৭.৫ মিটারের বেশি। কিন্তু রেসিডেন্সিয়াল বিল্ডিংয়ের উচ্চতা সর্বাধিক ১৭.৫ মিটার হতে পারে। কী ভাবে ওই বাড়ি তৈরির অনুমোদন পাওয়া গেল তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বাড়িটির প্ল্যান তৈরির সময় তা কমার্শিয়াল বিল্ডিং না রেসিডেন্সিয়াল বিল্ডিং হিসেবে দেখানো হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

  • Link to this news (এই সময়)