এই সময়: জমি কিনে ফেলে রেখেছেন—সাফাই করছেন না, জল জমার দিকেও নজর দিচ্ছেন না? এই অবহেলার জন্য পড়তে হতে পারে বিপদে। রাজ্যের পুর এলাকায় ডেঙ্গির প্রকোপ ঠেকাতে ফাঁকা জমি রক্ষণাবেক্ষণ বাধ্যতামূলক করেছে পুর দপ্তর। জমিতে জমা জলে মশার লার্ভা মিললে সংশ্লিষ্ট মালিকের বিরুদ্ধে সরাসরি আইনি পদক্ষেপ এবং আর্থিক জরিমানা করা হবে। এত দিন শুধুমাত্র কলকাতা পুর এলাকাতেই এই নিয়ম চালু ছিল। তবে, এ বার রাজ্যের সব পুর এলাকাতেই এই নিয়ম কার্যকর করা হবে।
সূত্রের খবর, চলতি বছরের ৩১ অগস্ট পর্যন্ত পর্যন্ত রাজ্যে ডেঙ্গি আক্রান্ত হয়েছেন ৪,৮৯৯ জন। আক্রান্তদের মধ্যে শীর্ষ রয়েছে মুর্শিদাবাদ (৮৭০), কলকাতা (৪০২), উত্তর ২৪ পরগনা (৩৭৬)। গত বছরের তুলনায় পুর এলাকায় ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা ৫০ শতাংশ কম রয়েছে। আগামী দিনে আক্রান্তের সংখ্যা কমাতেই ফাঁকা জমিতে নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন—এমনটাই দাবি করছেন পুর দপ্তরের কর্তারা। কারণ, এই ফাঁকা জমিতেই ডেঙ্গির মশার বাড়বাড়ন্ত হয়।
পুর দপ্তরের কর্তারা জানাচ্ছেন, একাধিক সমীক্ষায় দেখা দেখা যাচ্ছে, ফাঁকা জমিতে জঞ্জাল এবং বৃষ্টির জল জমে মশার বংশবৃদ্ধি ঘটছে। এর ফলে মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে স্থানীয় জনস্বাস্থ্য। সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য নিয়ে এই গাফিলতি রুখতে সব পুরসভাকে ওই ফাঁকা জমিতে কড়া নজরদারি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পুরকর্মীরা বিভিন্ন এলাকায় ফাঁকা জমি পরিদর্শন করছেন। কোথাও জল জমে মশার লার্ভা পাওয়া গেলেই প্রথমে নোটিস পাঠিয়ে সতর্ক করা হচ্ছে।
প্রশাসনের স্পষ্ট বার্তা, ব্যক্তিগত সম্পত্তি হলেও তার জেরে জনস্বাস্থ্য বিপন্ন হলে তা বরদাস্ত করা হবে না। নিজের জমি পরিচ্ছন্ন রাখা এবং জলমুক্ত রাখার আইনি দায়িত্ব পুরোপুরি মালিকেরই। তাই সচেতন না হলে জরিমানা নেওয়া হবে জমির মালিকদের থেকে। এ প্রসঙ্গে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অভিদীপ্ত হাজরা বলেন, ‘ডেঙ্গি ছড়ানোর নেপথ্যে অব্যবহৃত জমিগুলোর একটা বড় ভূমিকা থাকে। প্রশাসনের এই কড়া পদক্ষেপ এবং জরিমানার নিয়ম অত্যন্ত সময়োপযোগী ও জরুরি। এতে ডেঙ্গি সংখ্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা যাবে।’