• কেজি কেজি চিকেন-মটন ফেলা হল ভ্যাটে! গড়িয়াহাট বাজার থেকে সব মাছের নমুনা সংগ্রহ পুরসভার
    প্রতিদিন | ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • সপ্তাহের শুরু দিন। সবে পসরা সাজিয়ে বসেছেন ব্যবসায়ীরা। বেচা-কেনা শুরু হতে না হতেই গড়িয়াহাট বাজারে ঢু দেয় পুরসভার খাদ্য সুরক্ষা দপ্তর। মাংসের দোকানে যেতেই চোখ কপালে আধিকারিকদের। কাঁচামাল সংরক্ষণের ক্রেট খুলেই দেখা যায়, তাতে কাঁড়ি কাঁড়ি চিকেন-মাটন ঠাসা প্যাকেট করে ঠাসা। এরপরই তড়িঘড়ি অ্যাকশন। ফ্রোজেন মাংস বাজেয়াপ্ত করে পুরসভা। ব্যবহারের অযোগ্য করতে তাতে ঢালা হয় ফিনাইল, পুরসভার গাড়িতে সেগুলি ফেলা হয় ভ্যাটে। মাছের গুণগত মান যাচাই করতে সব মাছের দোকান থেকে নমুনা সংগ্রহ করেন ফুড সেফটি আধিকারিকরা।

    খাবারের নামে মানুষের পাতে ‘বিষ’ উঠছে! শহর থেকে জেলায় খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের টিম ছেয়ে গেছে। দিকে দিকে হোটেল, রেস্তরাঁ, মিষ্টির দোকান থেকে পাউরুটি-দুধ ফ্যাক্টরিতে অভিযান চলছেই। এই আবহে এবার কাঁচা মাছ-মাংসের গুণগত মান যাচাইয়ে বাজারেও শুরু হল অভিযান। সোমবার গড়িয়াহাট বাজারে একের পর এক মাছের দোকান ঘুরে খতিয়ে দেখেন আধিকারিকরা। প্রত্যেকটি দোকান থেকে মাছের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। ব্যবসায়ীর নাম, স্বাক্ষর সহ সেই নমুনা ল্যাবে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে বলে জানা গিয়েছে। একই পদ্ধতিতে বাজারের প্রত্যেকটি দোকান থেকে স্যাম্পেল নেন তাঁরা।

    কিন্তু মাংসের দোকানে যেতেই বেনিয়ম নজর পড়ে খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের আধিকারিকদের। দেখা যায়, সংরক্ষণ করার ক্রেটে কেজি কেজি চিকেন-মটন ঠাসা। ফ্রোজেন মাংসের প্যাকেটের কোনওটাতেই কবেকার সংরক্ষণ বা কতদিন পর্যন্ত তা ব্যবহারের যোগ্য থাকবে, তার কোনও তারিখ লেখা নেই। আর এর পরেই সেই মাংস বাজেয়াপ্ত করেন তাঁরা। সেগুলি ব্যবহারের অযোগ্য করতে ঢালা হল ফিনাইল জল, তারপর ভ্যাটে ফেলার ব্যবস্থা করা হয় প্রায় ১০ থেকে ১৫ কেজি মাংস। পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, ফ্রোজেন মাংস হোটেল, রেস্তরাঁতেও থাকে, কিন্তু সেগুলিতে নির্দিষ্ট ডেট ট্যাগিং করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু এই বাজারে যে মাংসগুলি ফ্রোজেন করা ছিল, তাতে কোনও তারিখের উল্লেখ না থাকার কারণেই সেগুলি বাজেয়াপ্ত করে নষ্ট করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। কাঁচা মাছ-মাংসের গুণগত মান বজায় রাখতে এদিন বাজারে ঘুরে ঘুরে ব্যবসায়ীদের সতর্ক করেন ফুড সেফটি অফিসাররা। 
  • Link to this news (প্রতিদিন)