• দিল্লিতে বহুতল ভেঙে পড়ার ঘটনায় মালিকের বিরুদ্ধে লুকআউট সার্কুলার, হাইকোর্টে জরুরি শুনানি সোমবারই
    এই সময় | ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • দিল্লির সত্য নিকেতনে বহুতল ভেঙে পড়ার ঘটনায় এ বার আরও কড়া পদক্ষেপ পুলিশের। বাড়ির মালিক হরিরামের বিরুদ্ধে লুকআউট সার্কুলার (LOC) জারি করেছে দিল্লি পুলিশ। দুর্ঘটনার পর থেকেই তাঁর কোনও খোঁজ মিলছে না। তাঁকে ধরতে একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। এ দিকে ধ্বংসস্তূপের তলায় আর কেউ আটকে রয়েছেন কি না, তা নিশ্চিত করতে জোরকদমে চলছে উদ্ধারকাজ। পরিস্থিতি অনুকূল থাকলে সোমবার সন্ধ্যার মধ্যেই উদ্ধার কাজ শেষ হতে পারে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বিধায়ক।

    অন্যদিকে, বাড়ি ভেঙে মৃত্যুর ঘটনায় জল গড়াল দিল্লি হাইকোর্টে। আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করে জরুরি শুনানির আবেদন জানানো হয় সোমবারই। বিচারপতি ডিকে উপাধ্যায় এবং বিচারপতি তেজস কারিয়ার ডিভিশন বেঞ্চে ওই মামলার শুনানি হবে বলে জানা গিয়েছে। মামলাকারীদের পক্ষ থেকে মৃতদের পরিবারের জন্য কমপক্ষে এক কোটি টাকা আর্থিক সাহায্যের দাবি জানানো হয়েছে।

    রবিবার দক্ষিণ-পশ্চিম দিল্লির চাণক্যপুরীর কাছে সত্য নিকেতন এলাকায় একটি পাঁচতলা বাড়ি আচমকাই ভেঙে পড়ে। বাড়িতে একটি বেসরকারি ছাত্রাবাস অর্থাৎ পেইং গেস্ট (PG) অ্যাকোমোডেশন চলছিল। দুর্ঘটনার সময়ে ভিতরে বেশ কয়েকজন ছিলেন। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে এখনও পর্যন্ত একাধিক ব্যক্তিকে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে সাত। দুর্ঘটনার পরেই ধ্বংসস্তূপ থেকে বার করে AIIMS ট্রমা সেন্টারে ১১ জনকে নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে পাঁচ জনকে হাসপাতালে আনার পরে মৃত বলে ঘোষণা করা হয় এবং আরও দুই জনের চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়। কয়েকজন এখনও চিকিৎসাধীন।

    সোমবার সকালে ঘটনাস্থলে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে গিয়ে আর কে পুরমের বিজেপি বিধায়ক অনিল কুমার শর্মা জানান, দুর্ঘটনার সময়ে PG-তে থাকা পড়ুয়া এবং কয়েক জন শ্রমিক মিলিয়ে মোট ১৬-১৭ জনের মতো ভিতরে থাকতে পারেন বলে প্রাথমিক ভাবে অনুমান করা হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে ১২ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে ছয় জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ছয় জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাঁর আশা, সোমবার দুপুরের মধ্যে, না হলে সন্ধ্যার মধ্যেই উদ্ধার অভিযান শেষ করা সম্ভব হবে।

    এর আগে দুর্ঘটনার পরে ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে শর্মা জানিয়েছিলেন, ধ্বংসস্তূপের নীচে পড়ুয়ারা আটকে রয়েছেন— এটা নিশ্চিত। এমনকী কয়েক জন পড়ুয়া মোবাইল ফোনে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছিলেন বলেও জানিয়েছিলেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘কিছু পড়ুয়া এখনও ধ্বংসস্তূপের নীচ থেকে ফোন করছেন।’’ সেই পরিস্থিতিতে উদ্ধারকারী দলকে দ্রুত কাজ করার অনুরোধ জানান তিনি।

    শর্মা বলেন, ‘বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পড়াশোনা করতে দিল্লিতে আসা ছেলেমেয়েরা এই PG-তে থাকতেন। এই ঘটনা অত্যন্ত মর্মান্তিক।’’ তাঁর বক্তব্য, মুখ্যমন্ত্রী ঘটনাস্থলে পুরো জরুরি উদ্ধারকারী দল পাঠিয়েছেন। সাংসদ হর্ষ মালহোত্রও ফোনে পরিস্থিতির খোঁজ রাখছেন। প্রশাসনের কাছে এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার হলো ধ্বংসস্তূপের নীচে কেউ আটকে থাকলে তাঁকে জীবিত উদ্ধার করা।

    রবিবার দুপুরে দক্ষিণ-পশ্চিম দিল্লির সত্য নিকেতন এলাকায় আচমকাই ভেঙে পড়ে পাঁচতলা একটি বাড়ি। সেখানে পড়ুয়াদের জন্য PG চলছিল। পুলিশ সূত্রে খবর, দুর্ঘটনার সময় বাড়িটির বেসমেন্টে নির্মাণকাজ চলছিল। প্রাথমিক তদন্তে সেই কাজ এবং বাড়িটির কাঠামোগত নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

    স্থানীয় এক প্রত্যক্ষদর্শীর দাবি, বাড়িটিতে বেসমেন্ট তৈরি এবং নীচের তলায় ভাড়ার জন্য জায়গা তৈরির কাজ চলছিল। তাঁর অভিযোগ, উপরের অংশ শক্ত করার কাজ হলেও নীচের স্তম্ভগুলি দুর্বল ছিল। তবে এই দাবিগুলি এখনও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।দুর্ঘটনার পরে দিল্লি ফায়ার সার্ভিস, NDRF, দিল্লি পুলিশ, MCD, DDMA, CATS এবং সিভিল ডিফেন্সের দল ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। ধ্বংসস্তূপ সরাতে যন্ত্রও নামানো হয়।

    দিল্লি পুলিশ ইতিমধ্যেই বাড়ির মালিকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। তাঁর বিরুদ্ধে অবহেলা এবং অনিচ্ছাকৃতভাবে মৃত্যুর কারণ হওয়ার অভিযোগে আইনি পদক্ষেপ করা হয়েছে। দুর্ঘটনার পর থেকেই তিনি নিখোঁজ থাকায় তাঁকে দ্রুত খুঁজে বের করাই এখন পুলিশের অন্যতম লক্ষ্য। সেই কারণেই তাঁর বিরুদ্ধে LOC জারি করা হয়েছে, যাতে দেশ ছেড়ে পালানোর চেষ্টা করলে বিমানবন্দর বা অন্য সীমান্তপথে তাঁকে আটক করা যায়। অন্যদিকে, ৫ MCD সিনিয়র আধিকারিককে সাসপেন্ড করেছে প্রশাসন।

    একটি বাড়ি ভেঙে পড়ার পরে সত্য নিকেতনের অন্য বাড়িগুলির নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ইতিমধ্যে পাশের একটি বাড়িকে বিপজ্জনক বলে চিহ্নিত করেছে দিল্লি পুরসভা। সেটি খালি করে তিন দিনের মধ্যে ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের আশঙ্কা, ওই বিল্ডিং আশপাশের বাসিন্দা, পথচারী এবং সংলগ্ন বাড়িগুলির জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে।

  • Link to this news (এই সময়)