ভাতার ক্ষেত্রে আগের সরকারের ওয়েটিং লিস্ট বাতিল করা হলো। ওয়েটিং লিস্টে যাঁরা আছেন, তাঁদের জনকল্যাণ শিবিরে আবেদন করতে হবে এ বার। সোমবার নবান্ন সভাঘর থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এ কথা ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে পুজোর মুখে রাজ্যের তিন প্রকল্পের ভাতা ৫০০ টাকা করে বাড়ানো হলো। বাড়ল বার্ধক্য ভাতা, স্বামীহীনাদের ভাতা ও বিশেষ ভাবে সক্ষম মানুষের ভাতা। এত দিন তাঁরা মাসে ১ হাজার টাকা করে পেতেন। এ মাস থেকে দেড় হাজার টাকা করে ঢুকবে অ্যাকাউন্টে। সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ সরকারের।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘জুলাই মাস পর্যন্ত যাঁরা মাসে ১ হাজার টাকা করে পেতেন, আজ তাঁরা অগস্ট মাসের বেনিফিট হিসেবে দেড় হাজার টাকা করে পেলেন। আমাদের রাজ্যের অর্থনৈতিক অবস্থা মোটেই ভালো নয়। বিগত সরকারগুলির অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা না মানা, বিপুল রাজস্ব চুরি হয়ে যাওয়া এবং কেন্দ্রীয় সরকারের নানা কর্মসূচিতে যুক্ত না হওয়ার ফলে এই পরিস্থিতি। সেই জায়গা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে ন্যূনতম আরও এক বছর লাগবে বলে আমি মনে করি। ইতিমধ্যেই ভারত সরকারের নানা স্কিমে যুক্ত হতে শুরু করেছি। তাতে ভারত সরকারের নানা অর্থ আসতে শুরু করেছে। আরও অর্থ আমরা পাব। গতবারের তুলনায় ১৮ শতাংশ রেভিনিউ আসছে। রাজস্ব লিকেজ অর্থাৎ রেভিনিউ যে চুরি হতো কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছি। পুরোটা নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে রেভিনিউ আরও বাড়বে।’
তবে এ দিন বার বারই শুভেন্দু মনে করিয়ে দেন, একজনও ভুয়ো উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে যাতে টাকা না যায়, সরকার তা সব সময়ে নজরে রাখছে। বিজেপি সরকারের লক্ষ্যই হলো, যোগ্য উপভোক্তা যাঁরা, তাঁরাই যেন সমস্ত সুবিধা পান।
এ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বার্ধক্য ভাতা পাওয়ার ক্ষেত্রে বয়স বাড়িয়ে, ভুয়ো বার্থ সার্টিফিকেট দিয়ে অনেকে সুবিধা নিচ্ছেন। এই সরকারের নীতি হলো, যোগ্য লোকের হাতে যোগ্য সুবিধা পৌঁছে দেওয়া। একটা সরকারের কাজ শুধু ভাতা দেওয়া হতে পারে না। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, শিল্প, বাণিজ্য, আধুনিক কৃষি, উন্নয়নের কাজকে অগ্রাধিকার দিতে হয়। কেউ নিশ্চয়ই চাইবেন না, কোনও পুরুষের অ্যাকাউন্টে স্বামীহীনা ভাতা যাক। চন্দ্রকোণায় একজন গ্রেপ্তার হয়েছেন, যিনি নিজে পুরুষ হয়েও স্বামীহীনা ভাতা নিচ্ছিলেন। আমরা স্বচ্ছতায় বিশ্বাস করি।’ শুভেন্দুর বার্তা, কেউ যদি মনে করেন, অন্যায় ভাবে ভাতা নিচ্ছেন, তিনি এসে সারেন্ডার করুন।
একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, এ দিন থেকে ভাতার ক্ষেত্রে আগের সরকারের সমস্ত ওয়েটিং লিস্ট বাতিল করা হলো। বর্তমান সরকারের জনকল্যাণ শিবিরে যাঁরা নাম লিখিয়েছেন, ভেরিফিকেশন করে তাঁদের আগে সুবিধা দিতে হবে। এর বাইরে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের চালু করা ‘আপনার সরকার আপনার পাশে’-তে যারা আবেদন করেছেন, তাঁদেরও ভেরিফিকেশন করে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
মুখ্যমন্ত্রীর সংযোজন, বর্তমান সরকারের আমলে নতুন করে প্রাপকদের ওয়েটিং লিস্টের তালিকা তৈরি হবে। শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘আমরা গ্রামপঞ্চায়েত ও ওয়ার্ড স্তরে দু’দিনের জনকল্যাণ শিবির করব। সেখানে নতুন করে আমরা আবেদন নেব। দীর্ঘদিন ধরে ওল্ডেজ পেনশনের জন্য অপেক্ষা করে বসে আছেন, রাজনৈতিক কারণে বা অন্য কারণে বঞ্চিত হয়েছেন, সেই আবেদনের ভিত্তিতে আগামিদিনে আমরা যুক্ত করব।’
একই সঙ্গে যাঁরা উইডো পেনশন পান, অথচ বয়স ২৫ থেকে ৬০ এর মধ্যে, তাঁদের জন্য মুখ্যমন্ত্রীর পরামর্শ— স্বামীহীনা ভাতা সারেন্ডার করে ৩ হাজার টাকার অন্নপূর্ণা যোজনার নিন। তাতে একটু বেশি অঙ্কের অর্থের সুবিধা পাবেন।
যাঁরা বিশেষ ভাবে সক্ষম, বয়স ২৫ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে, তাঁদের জন্য এ দিন বড় ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। ২৫ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে যে মহিলারা বিশেষ ভাবে সক্ষম মানুষের ভাতা পান, তাঁরা মাসে সাড়ে ৪ হাজার টাকা পাবেন। তিনি বলেন, ‘আমরা দু’টো ভাতা দিচ্ছি না। কেবল মাত্র দিব্যাঙ্গজনদের বলেছি, ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সি মহিলা হলে, দেড় হাজার টাকা ভাতার সঙ্গে ৩ হাজার টাকার অন্নপূর্ণা যোজনাও পাবেন। অর্থাৎ মাসে সাড়ে ৪ হাজার টাকা।’