• ফ্রিজে রাখা সদ্যবিবাহিতা স্ত্রীয়ের কাটা মাথা, ঘরে পড়ে ক্ষতবিক্ষত ধড়, গ্রেপ্তার স্বামী
    এই সময় | ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ঘরে পড়ে রয়েছে মহিলার ক্ষতবিক্ষত মুণ্ডহীন দেহ। হাতের বেশ কয়েকটি আঙুলও কুচিয়ে কাটা। দেহ ধরেছে পচনও। গোটা ঘরে ছড়িয়েছিটিয়ে থাকা রক্ত শুকিয়ে গিয়েছে। তদন্তের প্রয়োজনে রেফ্রিজারেটর খুলতেই চক্ষু চড়কগাছ পুলিশ অফিসারদের। সেখানে রয়েছে মহিলার কাটা মাথা। এমনই ভয়াবহ দৃশ্য দেখা গেল গুয়াহাটির এক বাড়িতে।

    বিয়ের মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই ২৫ বছর বয়সি স্ত্রীকে খুন করার অভিযোগ উঠল তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে। রবিবার শহরের একটি আবাসনে তরুণীর মাথা কাটা দেহ উদ্ধারের পরে চাঞ্চল্য ছড়ায়। সেই ঘরের রেফ্রিজারেটর থেকে উদ্ধার হয়েছে তাঁর কাটা মাথাও। শরীরের কয়েকটি আঙুলও কেটে ফেলা হয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে তরুণীর স্বামীকেই মূল অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। পরে থানায় আত্মসমর্পণ করেন তিনি। পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে।

    জানা গিয়েছে, মৃতার নাম রিয়া তালুকদার গোস্বামী। গুয়াহাটির বেসিস্থাপুর এলাকার একটি ফ্ল্যাটে স্বামীর সঙ্গে থাকতেন তিনি। প্রায় ছ’মাস আগে রামানুজন গোস্বামীর সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়েছিল। রিয়া একটি বুটিকে কাজ করতেন। তাঁর স্বামী পেশায় গাড়িচালক।

    রবিবার রাতে প্রতিবেশীদের অভিযোগের ভিত্তিতেই সামনে আসে গোটা ঘটনা। কয়েক দিন ধরে ফ্ল্যাট থেকে পচা গন্ধ বেরোচ্ছিল। একই সঙ্গে দু’দিন ধরে দম্পতির কাউকেই দেখা যাচ্ছিল না। তাঁদের মোবাইল ফোনও বন্ধ ছিল বলে প্রতিবেশীরা পুলিশকে জানান।

    পুলিশ এসে বন্ধ ফ্ল্যাটের দরজা ভেঙে ভিতরে ঢোকে। তার পরেই নজরে আসে ওই বীভৎস দৃশ্য। সেখানেই উদ্ধার হয় তরুণীর দেহ। পুলিশ জানিয়েছে, দেহটি ততক্ষণে পচতে শুরু করেছিল। শরীর থেকে মাথা কেটে ফেলা হয়েছিল। হাতের কয়েকটি আঙুলও অর্ধেক কাটা অবস্থায় পাওয়া যায় ঘটনাস্থলে।

    তদন্তে নেমে ঘরটি তল্লাশি করতে গিয়ে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসে। একটি পলিথিনের ব্যাগে মুড়ে ওই তরুণীর কাটা মাথা রাখা ছিল রেফ্রিজারেটরে। মৃতার নাম রিয়া তালুকদার বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাঁর দেহ এবং মাথা ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।

    পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি ধারালো অস্ত্রও উদ্ধার করেছে। সেটিই খুনে ব্যবহার করা হয়েছিল কি না, তা ফরেন্সিক পরীক্ষার মাধ্যমে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘরের ভিতর রক্তের দাগ, ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা জিনিসপত্র এবং বেশ কয়েকটি মদের বোতলও পাওয়া গিয়েছে বলে তদন্তকারীদের সূত্রে খবর।

    প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, দেহ উদ্ধারের অন্তত ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা আগে হত্যাকাণ্ডটি ঘটে থাকতে পারে। দেহে পচন ধরার মাত্রা দেখে এমনটাই মনে করছেন তদন্তকারীরা। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পরে মৃত্যুর সঠিক সময় এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আরও স্পষ্ট হবে। রিয়ার দেহ ময়নাতদন্তের জন্য গুয়াহাটি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

    ঘটনার পর রামানুজনের কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। প্রতিবেশীদের দাবি, শুক্রবার তাঁকে শেষ বার দেখা গিয়েছিল। এরপর তাঁর ফোনও বন্ধ হয়ে যায়। ফলে পুলিশের সন্দেহের তালিকায় প্রথমেই উঠে আসে তাঁর নাম।

    পরে রবিবার রাতেই থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন রামানুজন। গুয়াহাটি পুলিশ কমিশনারেটের পূর্ব বিভাগের ADCP অনুরাগ শর্মা জানিয়েছেন, তিনিই এই মামলার মূল অভিযুক্ত। পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। তবে তাঁর এই বক্তব্যের সঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া তথ্য ও ফরেন্সিক প্রমাণ মিলিয়ে দেখা হচ্ছে।

    কী কারণে রিয়াকে খুন করা হল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। পুলিশ এখনও হত্যার নির্দিষ্ট কারণ বা মোটিভ সম্পর্কে কিছু জানায়নি। দাম্পত্য সম্পর্কে কোনও সমস্যা ছিল কি না, ঘটনার আগে দু’জনের মধ্যে কোনও ঝামেলা হয়েছিল কি না এবং হত্যাকাণ্ডে অন্য কারও ভূমিকা রয়েছে কি না—সব দিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    তদন্তে ফরেন্সিক এবং ফিঙ্গারপ্রিন্ট বিশেষজ্ঞদের সাহায্য নেওয়া হচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে সংগ্রহ করা নমুনা ও অন্যান্য প্রমাণ পরীক্ষা করে হত্যাকাণ্ডের পুরো ঘটনাক্রম পুনর্গঠনের চেষ্টা চলছে। CID-ও তদন্তে যুক্ত হয়েছে বলে স্থানীয় রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।

    প্রাথমিক ভাবে জানা যাচ্ছে, রিয়া গুয়াহাটির নুনমাটি এলাকার বাসিন্দা ছিলেন এবং ফ্যান্সি বাজারের AC Market-এর একটি বুটিকে কাজ করতেন। তাঁর বাবা-মা দু’জনেই প্রয়াত এবং তাঁর এক ভাই রয়েছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে। অন্য দিকে, রামানুজন গৌরীপুরের বাসিন্দা এবং পেশায় উবার চালক বলে জানা গিয়েছে।

    মাত্র ছ’মাস আগে বিয়ে হওয়া এক তরুণীর এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডে স্বাভাবিক ভাবেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গুয়াহাটিতে। তবে তদন্তের এই পর্যায়ে খুনের কারণ নিয়ে কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছতে চাইছে না পুলিশ। ময়নাতদন্ত, ফরেন্সিক রিপোর্ট এবং অভিযুক্তের জিজ্ঞাসাবাদ—এই তিনটি দিক থেকেই এখন পরবর্তী সূত্র খুঁজছেন তদন্তকারীরা।

  • Link to this news (এই সময়)