Big Breaking: দিল্লির সত্য নিকেতনে বহুতল ভেঙে পড়ার ঘটনায় অবশেষে পুলিশের জালে বাড়ি মালিক। সংবাদ সংস্থা সূত্রে খবর, রাজস্থানের ভিয়াডি থেকে বাড়ি মালিক হরিরাম গুপ্তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রবিবার দুপুরে দিল্লির চাণক্যপুরীর কাছে অবস্থিত সত্য নিকেতন এলাকায় একটি বহুতল আচমকা ভেঙে পড়ে। সেখানে অনুমোদনহীন ভাবে একটি ছাত্রাবাস চালানো হচ্ছিল বলে অভিযোগ। ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে সাত জনের মৃত্যু হয়। আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন ১০। এখনও ধ্বংসস্তূপে কয়েকজন আটকে থাকা আশঙ্কা।
এ দিন সকালেই বাড়ির মালিক হরিরামের বিরুদ্ধে লুকআউট সার্কুলার (LOC) জারি করে দিল্লি পুলিশ। দুর্ঘটনার পর থেকেই তাঁর কোনও খোঁজ মিলছিল না। তাঁকে ধরতে একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালানো শুরু করে পুলিশ। পরে দুপুর গড়াতেই রাজস্থান থেকে মিলল তাঁর খোঁজ। দেশ ছেড়ে যাতে হরিরাম পালাতে না পারেন তার জন্য আগেই পাসপোর্টের তথ্য সংগ্রহ করে পুলিশ। তাঁকে খুঁজে বার করতে অভিযানে নামে পুলিশের চারটি টিম।
হরিরামের রং ও হার্ডওয়্যারের ব্যবসা রয়েছে। সেক্টর ২৩-তে তাঁর একটি দোকানও রয়েছে। গত ১৫ বছর ধরে এলাকার পরিচিত ব্যবসায়ী ছিলেন তিনি। গত দু’দিন ধরে সেই দোকানও তালাবন্ধ ছিল। দিল্লির ধসে পড়া বাড়ির মালিককে খুঁজতে প্রতিবেশী ও স্থানীয়দেরও জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। স্থানীয় সূত্রে পাওয়া খবর অনুযায়ী, সেক্টর ২৩ ও পালাম বিহারে গুপ্তা পরিবারের বেশ কয়েকটি বাড়ি রয়েছে।
সত্য নিকেতনের বাড়ি ভাঙার ঘটনায় হরিরাম ছাড়াও কয়েজনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়েছে সাউথ ক্যাম্পাস থানায়। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত খুন, বাড়ি মেরামতিতে গাফলতি এবং বাড়ির আবাসিকদের জীবন বিপজ্জনক করে তোলার ধারায় মামলা হয়েছে।
রবিবার দক্ষিণ-পশ্চিম দিল্লির চাণক্যপুরীর কাছে সত্য নিকেতন এলাকায় একটি পাঁচতলা বাড়ি আচমকাই ভেঙে পড়ে। বাড়িতে একটি বেসরকারি ছাত্রাবাস অর্থাৎ পেইং গেস্ট (PG) অ্যাকোমোডেশন চলছিল। দুর্ঘটনার সময়ে ভিতরে বেশ কয়েকজন ছিলেন। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে এখনও পর্যন্ত একাধিক ব্যক্তিকে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে সাত। দুর্ঘটনার পরেই ধ্বংসস্তূপ থেকে বার করে AIIMS ট্রমা সেন্টারে ১১ জনকে নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে পাঁচ জনকে হাসপাতালে আনার পরে মৃত বলে ঘোষণা করা হয় এবং আরও দুই জনের চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়। কয়েকজন এখনও চিকিৎসাধীন।
বাড়িটি ভেঙে পড়ার নেপথ্যে নির্মাণ ও সংস্কারের সময় নিরাপত্তাবিধি মানা হয়েছিল কি না, তা নিয়েও তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, বাড়িটির বেসমেন্টে সংস্কারের কাজ চলছিল। সেই সময়ই বাড়িটি ধসে পড়ে। বাড়িটির কাঠামোগত নিরাপত্তা, নির্মাণের অনুমোদন এবং সংস্কারের নিয়ম মেনে কাজ হয়েছিল কি না—সবই খতিয়ে দেখছে প্রশাসন।
ঘটনার পরেই বেআইনি নির্মাণের বিষয়টি সামনে এসেছে। প্রশাসনের তরফে সত্য নিকেতন ও আশপাশের এলাকায় অনুমোদনহীন নির্মাণের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। চার তলার বেশি বেআইনি নির্মাণ চিহ্নিত করে সেগুলি সিল করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
১. সত্য নিকেতন বাড়ি ধসের ঘটনায় কাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে?
দিল্লি পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাড়ির মালিক হরিরাম গুপ্তা। রাজস্থানের ভিয়ান্ডি থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে সংবাদ সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে।
২. হরিরাম গুপ্তার বিরুদ্ধে কেন LOC জারি করা হয়েছিল?
দুর্ঘটনার পর থেকেই হরিরামের কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। তিনি যাতে দেশ ছেড়ে পালাতে না পারেন, সেই কারণে দিল্লি পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে Lookout Circular বা LOC জারি করে।
৩. সত্য নিকেতনের বাড়ি ধসে কত জনের মৃত্যু হয়েছে?
দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনায় সাত জনের মৃত্যু হয়েছে। আরও ১০ জন আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন।
৪. ধসে পড়া বাড়িতে কী চলছিল?
বাড়িটিতে একটি বেসরকারি ছাত্রাবাস বা PG accommodation চলছিল বলে অভিযোগ। অনুমোদনহীন ভাবে এই ছাত্রাবাস পরিচালনা করা হচ্ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
৫. বাড়ি ধসের সময় কি নির্মাণকাজ চলছিল?
হ্যাঁ। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, বাড়িটির বেসমেন্টে সংস্কারের কাজ চলছিল। সেই সময়ই বাড়িটি ভেঙে পড়ে।
৬. বাড়ি ধসের ঘটনায় কী কী বিষয় তদন্ত করা হচ্ছে?
বাড়িটির কাঠামোগত নিরাপত্তা, নির্মাণের অনুমোদন, সংস্কারের নিয়ম এবং কাজের সময় নিরাপত্তাবিধি মানা হয়েছিল কি না—সবই খতিয়ে দেখছে প্রশাসন।
৭. হরিরাম গুপ্তার বিরুদ্ধে কী মামলা হয়েছে?
সাউথ ক্যাম্পাস থানায় হরিরাম গুপ্তা-সহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে FIR দায়ের হয়েছে। অনিচ্ছাকৃত ভাবে মৃত্যুর কারণ হওয়া, বাড়ি মেরামতে গাফিলতি এবং আবাসিকদের জীবন বিপন্ন করার মতো অভিযোগে মামলা হয়েছে।
৮. সত্য নিকেতন বাড়ি ধসের পর প্রশাসন কী ব্যবস্থা নিয়েছে?
সত্য নিকেতন ও আশপাশের এলাকায় বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে প্রশাসন। চার তলার বেশি অনুমোদনহীন নির্মাণ চিহ্নিত করে সেগুলি সিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।