'দুর্গাপুজোয় বাঙালি কী খাবে...' বাগেশ্বর বাবার আমিষ-মন্তব্য যেভাবে সামলালেন শমীক
আজ তক | ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বাগেশ্বর বাবার দুর্গাপুজোয় আমিষ না খাওয়ার নিদান সমর্থন করলেন না রাজ্য BJP সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর মতে, বাঙালি দুর্গাপুজোর সময়ে কী খাবে তা কোনও সাধু-সন্ত বলতে ঠিক করে দিতে পারেন না। তিনি সোমবার একটি সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, 'বাঙালি অষ্টমীর দিন লুচি খাবে, নবমীর দিন কচি পাঁঠার মাংস খাবে।'
শমীকের মতে, 'বাগেশ্বর বাবা অন্য দুনিয়ার মানুষ। দেশে উনি জনপ্রিয়। খুব সুন্দর দেখতে, আমিও দেখতে গিয়েছিলাম। নমস্কার জানিয়েছেন, আমিও প্রতি নমস্কার জানিয়েছি। কিন্তু বাগেশ্বর বাবা বলতে পারেন না পশ্চিমবঙ্গের মানুষ পুজোর সময় কী খাবেন আর কী খাবেন না।'
তৃণমূল সরকারের আমলে বাধা পেয়েছিলেন, সেই বাগেশ্বর বাবা শুভেন্দু অধিকারীর সরকারে বাংলায় এসে ধর্মীয় অনুষ্ঠান করলেন। সেখানে এসে বাঙালিদের দুর্গাপুজোর সময়ে খাদ্যাভ্যাস নিয়ে বিশেষ মন্তব্য করেন, যা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী বলেন, 'যাঁরা দুর্গাপুজোর সময়ে আমিষ খান, তাঁরা পাষণ্ড। পুজো প্যান্ডেলের পিছনে নোংরা নোংরা খাবার খাওয়া হয়। সেগুলি হওয়া উচিত নয়। আমি আশা করব, এবার হিন্দু বাঙালি জাগবে এবং পুজোর সময়ে আর ননবেজ খাবে না।' এই মন্তব্য ঘিরে কার্যত তেলেবেগুনে জ্বলে উঠেছে অধিকাংশ বাঙালি। পুজোর সময়ে ননভেজ খাবার বন্ধ করা হবে কি না, তা নিয়ে মানুষের মধ্যে কৌতুহলও তৈরি হয়েছে।
এদিন রাজ্য BJP সভাপতি গোটা বিষয়টা সামাল দিয়ে এদিন স্পষ্ট করেন, পশ্চিমবঙ্গের কোথাও কে কী খাবে, কে কী পরবে তা নিয়ে BJP-র কোনও বক্তব্য নেই। যাঁর ধুতি পরার ইচ্ছে সে ধুতি পরবে, যার লুঙ্গি পরার ইচ্ছে সে লুঙ্গি পরবে। শমীকের কথায়, 'কাউকে নিরামিষাশী হওয়ার উপদেশ দেওয়ার মধ্যে কোনও অন্যায় বা পাপ নেই। BJP বা অন্য কোনও সন্ত নয়, চিকিৎসকরাও এই উপদেশ দেন আজকাল। কিন্তু আপনি আপনার বাড়িতে কি খাবেন সেটা BJP বা কোনও সন্ত ঠিক করে দেবে না। আরে বাঙালি মাছ খাবে না? মাংস খাবে না?'
একইসঙ্গে শমীক জানিয়েছেন তিনি 'পাষণ্ড' শব্দটিকে সমর্থন করছেন না। তিনি বলেন, 'কোন সাধু, কোন মৌলবী কী বলবে আমাদের কোনও লেনাদেনা নেই। আমাদের রীতিতে আছে, পুজো আসছে আমরা অষ্টমীর দিন লুচি খাই, নবমীর দিন কচি পাঁঠা খাই, তাই খাব।'