• ১০ হাজার টাকায় বিক্রি! ৪ বছর ‘ক্রীতদাস’ জীবন কাটানোর পর গুজরাটে উদ্ধার কিশোর
    প্রতিদিন | ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • আইনকে ফাঁকি দিয়ে মধ্যযুগীয় ক্রীতদাস প্রথা আজও বহাল ভারতে? সম্প্রতি এই প্রশ্নই তুলে দিল গুজরাটের এক ঘটনা। ১০ হাজার টাকায় বিক্রি হওয়ার পর ৪ বছর ক্রীতদাসের জীবন কাটিয়ে অবশেষে উদ্ধার হল এক কিশোর। ভয়াবহ এই ঘটনা সামনে আসতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে। কিশোরের পাশাপাশি আরও ২ জনকে ভয়াবহ সেই জীবন থেকে উদ্ধার করেছে গুজরাট ক্রাইম ব্রাঞ্চ ও অ্যান্টি-হিউম্যান ট্রাফিকিং ইউনিট।

    ঘটনার সূত্রপাত ২০২২ সালে। গুজরাটের আহমেদাবাদের হেবাতপুর এলাকা থেকে নিখোঁজ হয়ে যায় ১৪ বছরের এক কিশোর। এই ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের করেন কিশোরের মা। এই ঘটনার পর চার বছর কেটে যায়। মামলার তদন্তে নেমে বিশেষ দল গঠন করে তদন্তে নামে ক্রাইম ব্রাঞ্চ ও অ্যান্টি-হিউম্যান ট্রাফিকিং ইউনিট। গোপন খবরের ভিত্তিতে, সম্প্রতি গুজরাটের পঞ্চমহল জেলার গোধরার কাছে নাদিসার গ্রামে হানা দেয়। সেখানে নিখোঁজ কিশোর-সহ ১৬ ও ১৭ বছর বয়সি আরও দুই নাবালককে উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তার করা হয় দিনেশ ওড (৪৭) নামে এক লেবার কন্ট্রাক্টর ও ভরত ভারওয়াড (৩৫) নামে এক পশু পালককে। অভিযোগ, এই অভিযুক্তরা তিন কিশোরকে ক্রীতদাস হিসেবে ব্যবহার করছিল। অভিযুক্ত দু’জনই নাদিসার গ্রামের বাসিন্দা বলে জানিয়েছে পুলিশ।

    পুলিশের দাবি অনুযায়ী, ২০২২ সালে দিনেশ ওই কিশোরকে অপহরণের পর ভরতের কাছে ১০ হাজার টাকায় বিক্রি করে। সেখানে ওই কিশোরকে গবাদি পশুর খামার ও বাড়িতে জোর করে কাজ করানো হত। দু’বার ওই কিশোর সেখান থেকে পালানোর চেষ্টা করে। কিন্তু ধরা পড়ে যাওয়ায় বেধড়ক মারধরের পাশাপাশি তাঁকে বন্দি করে রাখা হয়। পুলিশ জানিয়েছে গোপন খবরের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করা হয়েছে কিশোরকে। পাশাপাশি উদ্ধার হওয়া বাকি দুই নাবালকের একজনের বাড়ি নাদিসার ও অন্যজন ভাদোদরার ছানির বাসিন্দা। তাঁদেরকে পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।

    অন্যদিকে যাকে কেন্দ্র করে এই তদন্ত। সেই কিশোরের বাবা মানসিকভাবে অসুস্থ। তার মায়েরও মৃত্যু হয়েছে। এই অবস্থায় ওই কিশোরকে তাঁর কাকার হেফাজতে দেওয়া হয়েছে। ধৃত দুজনকে সোলা থানার পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
  • Link to this news (প্রতিদিন)