• ক্যামাক স্ট্রিট কাণ্ডে ‘সুপ্রিম’ ধাক্কা কালীঘাট তৃণমূলের! মামলায় হস্তক্ষেপ নয়, ফিরল হাই কোর্টে
    প্রতিদিন | ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ক্যামাক স্ট্রিট কাণ্ডে সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) ধাক্কা কালীঘাট তৃণমূলের। বোর্ড খোলা নিয়ে কালীঘাট তৃণমূলের মামলায় কোনও হস্তক্ষেপ করল না সুপ্রিম কোর্ট। আজ, সোমবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি এবং বিচারপতি ভি. মোহনার বেঞ্চে এই সংক্রান্ত মামলার শুনানি হয়। শুনানিতে আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, মামলাটি কলকাতা হাই কোর্টেই শুনানি হবে। তবে মামলায় যে সমস্ত প্রশ্ন উঠছে, তা বিবেচনা করে দ্রুত শুনানি করুক কলকাতা হাই কোর্ট। তবে এদিন সওয়াল-জবাবে একাধিক বিষয় উঠে আসে।

    কালীঘাট তৃণমূলের হয়ে এদিন সওয়াল করেন আইনজীবী কপিল সিব্বল। তিনি জানান, ভবনটি লিজ নেওয়া হয়েছে। সেখানে অফিস চলছে। আর সেই অফিসেই কেন রেজিস্টার্ড পার্টির বোর্ড রাখা যাবে না তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন আইনজীবী। এই প্রসঙ্গে বেশ কিছু উদাহরণ তুলে ধরেন। কপিল সিব্বল বলেন, তৃণমূলের যেখানে বোর্ড ছিল, তার পাশেই হলদিরামের একটি বোর্ড ছিল। কিন্তু তা খোলা হয়নি। এই বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ দাবি করেন আইনজীবী। যদিও প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ জানায়, হাই কোর্টে মামলাটি বিচারাধীন রয়েছে। এখনও তা খারিজ হয়নি। ফলত আবেদনকারীদের কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার পরামর্শ দেয় আদালত।

    বলে রাখা প্রয়োজন, ক্যামাক স্ট্রিটে তিন হাজার স্কোয়ার ফুটের বেশি জায়গা জুড়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিস রয়েছে। তৃণমূল আমলে এই অফিস থেকেই নানান ‘নির্দেশ’ যেত জেলায় জেলায়, নেতাদের কাছে। সেই বাড়ির মাথায় জ্বলজ্বল করত ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ লেখা একটি সাইনবোর্ড। গত ২৭ আগস্ট বিকেলে সেই সাইনবোর্ডই ভেঙে দেয় কলকাতা পুরসভা। কাজটা অবশ্য নির্বিবাদে হয়নি। দফায় দফায় বচসায় জড়ান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। উপস্থিত তৃণমূল নেতা-কর্মীদের সঙ্গে রীতিমতো ধস্তাধস্তি হয় পুলিশ এবং পুরসভার কর্মীদের। সিঁড়িতে শুয়ে পড়ে পুলিশ ও পুরসভার কর্মীদের আটকানোর চেষ্টা করেন রাজ্যসভার তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন-সহ অন্যরা। বেশ কয়েক জন পুলিশকর্মীকে ধাক্কা দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ। শেষ পর্যন্ত অবশ্য কোনও বাধাই কাজে আসেনি। তারা বিলবোর্ড খুলে দেয়।

    অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দপ্তর থেকে বিলবোর্ড খোলার ঘটনায় হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয় কালীঘাট তৃণমূল। হাই কোর্টে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের বক্তব্য ছিল, বিলবোর্ডটি আবার আগের জায়গায় লাগিয়ে দেওয়া হোক। অন্য দিকে, ক্যামাক স্ট্রিটের ওই ভবনের মালিক হাই কোর্টে জানান, বিলবোর্ড ঝোলানো হয়েছিল তাঁর অনুমতি ছাড়াই। তবে সেই মামলায় হস্তক্ষেপই করেনি কলকাতা হাই কোর্ট। এরপরই সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় কালীঘাট শিবির।
  • Link to this news (প্রতিদিন)