ফিরল শ্রদ্ধা ওয়াকারের খুনের বীভৎস স্মৃতি। শ্রদ্ধার দেহ ৩৫টি টুকরো করার অভিযোগ উঠেছিল প্রেমিক আফতাবের বিরুদ্ধে। এবার গুয়াহাটিতে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠল স্ত্রীকে হত্যা করে তাঁর মাথা ফ্রিজে রাখার। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তাঁকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। তবে পুলিশ জোরকদমে তদন্ত করছে বলে জানা গিয়েছে।
২৫ বছর বয়সি রিয়া তালুকদারের সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল রামানুজন গোস্বামীর। তাঁরা হাতিগাঁও অঞ্চলে থাকতেন। প্রতিবেশীদের দাবি, গত সোমবার রাতে তাঁদের মধ্যে বচসা শুরু হয়। ক্রমে তা প্রবল আকার ধারণ করে। এরপর রামানুজন রাত আটটা নাগাদ বেরিয়ে যান বলে দাবি আশপাশের বাসিন্দাদের। মঙ্গলবার রাতের দিকে বাড়িটি থেকে পচা গন্ধ বেরচ্ছিল। দ্রুত খবর যায় পুলিশে। পুলিশ ঘটনাস্থলে হাজির হলে দেখা যায়, রিয়ার মাথা কালো প্লাস্টিক ব্যাগে ভরে ফ্রিজে ঢুকিয়ে রাখা হয়েছে। দেখা যায় মহিলার হাতের আঙুলও কাটা। সন্দেহের তির রামানুজনের দিকে।
জানা গিয়েছে, ফ্যান্সি বাজারের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত মার্কেটে কাজ করতেন রিয়া। তাঁর মা-বাবা জীবিত নেই। আত্মীয় বলতে একমাত্র ভাই। প্রাথমিক তদন্তে একমাত্র সন্দেহভাজন রামানুজনই। দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এখনও পর্যন্ত অভিযুক্তকে আটক করা যায়নি। পুলিশ মনে করছে রামানুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই বিস্তারিত জানা যাবে।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ১৮ মে দিল্লির মেহেরৌলিতে প্রেমিকা শ্রদ্ধা ওয়াকারকে খুন করে তাঁর প্রেমিক তথা লিভ ইন সঙ্গী আফতাব। খুনের পর শ্রদ্ধার দেহ ৩৫টি টুকরো করে সে। এরপর দিল্লি শহরের বিভিন্ন জায়গায়, সেগুলি ফেলতে থাকে। আফতাবকে ভালোবেসে পরিবার, চাকরি, শহর ছেড়ে দিল্লিতে চলে এসেছিলেন তরুণী। যদিও তাঁর পরিণতি হয় মর্মান্তিক। তবে আফতাবের নৃশংস আচরণের কথা জানা ছিল শ্রদ্ধার। এমনকী ২০২০ সালে একটি লম্বা চিঠি লিখে আফতাবের বিরুদ্ধে পুলিশে অভিযোগও করেছিলেন শ্রদ্ধা। কিন্তু তারপরও তিনি আফতাবের সঙ্গে থেকে যান। সেই ঘটনার কথাই মনে করিয়ে দিল গুয়াহাটির এই ঘটনা।