বাড়ি-গাড়ি লুকাচ্ছেন অনেকে! অন্নপূর্ণা-আয়ুষ্মান পেতে ভুয়ো তথ্য জনগণনায়
প্রতিদিন | ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আয়ুষ্মান ভারত (Ayushman Bharat), মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবীমা, যুবশক্তি, অন্নপূর্ণা যোজনার (Annapurna Yojana) মতো নানা সামাজিক প্রকল্প ও ভাতা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন এমন আশঙ্কায় চলতি জনগণনায় প্রকৃত তথ্য গোপন করছে বহু পরিবার। আবার যৌথপরিবার হওয়া সত্ত্বেও বাবা-মা আলাদা থাকেন, ভাইরা পৃথক সংসারে থাকেন, এমন কথা জানিয়ে পরিবারের মাসিক আয় কম দেখাচ্ছেন নাগরিকরা। গ্রামে বহু পরিবারে নিজস্ব ট্রাক্টর, ধানঝাড়াই মেশিন, মোটরবাইক, চার চাকার গাড়ি, বাড়িতে দুটির বেশি ঘর থাকা সত্ত্বেও তা আত্মীয়ের অথবা বন্ধুর বলে গণনাকর্মীদের ভুয়ো তথ্য লিখতে বাধ্য করছেন গৃহকর্তারা।
তাৎপর্যপূর্ণ হল, বেসরকারি সংস্থার চাকুরিজীবীও রাজ্য সরকারের ‘যুবশক্তি’ প্রকল্পে মাসিক তিন হাজার টাকা পাওয়ার আশায় জনগণনায় পরিবারকে আর্থিক দুর্বল দেখাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন গণনাকর্মীরা। সামাজিক প্রকল্পে এই তথ্য কার্যকর নয় বলে গণনাকর্মীরা সবাইকে আশ্বস্ত করলেও অন্নপূর্ণা যোজনায় মহিলাদের একাংশ অযোগ্য হওয়ার অভিজ্ঞতা থেকেই এমন ভুয়া তথ্য দিচ্ছেন বলে রিপোর্ট এসেছে জনগণনা দপ্তর। ইতিমধ্যে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, অন্নপূর্ণায় ঘর-জমি নিয়ে নিয়ম কলকাতা পুরসভা ছাড়া রাজ্যের সর্বত্র প্রত্যাহার করা হয়েছে।
আর মাত্র এক সপ্তাহ বাকি রয়েছে জনগণনার (Census) দ্বিতীয় ধাপ গৃহগণনার কর্মসূচি সম্পূর্ণ হতে। বাড়ি বাড়ি গৃহগণনার শেষদিন ১৪ সেপ্টেম্বর। রাজ্যের সমস্ত জেলায় অধিকাংশ ব্লকে ইতিমধ্যে প্রায় ১০০ শতাংশ গণনার কাজ সম্পূর্ণ। যদিও সাতদিন আগেই অর্থাৎ ৭ সেপ্টেম্বর সম্পূর্ণ করার টার্গেট নিয়েছে রাজ্য প্রশাসন। কলকাতার পাশাপাশি বহু জেলায় পুরসভা এলাকায় অধিকাংশ ওয়ার্ডে এনুমারেটররা ৯৫ শতাংশের বেশি গৃহ ‘ভিজিট’ শেষ করে ফেলেছেন। যাঁদের দু-তিনবার গিয়ে পাওয়া যায়নি সেই সমস্ত বন্ধ দরজায় স্টিকার দিয়ে নিজের ফোন নম্বর সেঁটেছেন
গণনাকর্মীরা। কিছু ওয়ার্ডে বহুতলের বাসিন্দারা রবিবার বা ছুটির দিন ছাড়া ফ্ল্যাটে ঢুকতে না দেওয়ায় সঙ্কটে পড়েন দায়িত্বে থাকা গণনাকর্মীরা। তাঁদের গৃহগণনার কাজ রবিবারই অনেকটাই শেষ হয়েছে। আবার সংখ্যালঘু প্রধান এলাকায় পর্দানসীন মহিলারা স্বামী বা পুরুষ সদস্যরা বাড়ি না থাকায় তথ্য সংগ্রহে গিয়ে গণনাকর্মীদের কিছুটা সমস্যা হয়। বিষয়টি স্থানীয় বিশিষ্টদের সাহায্যে জটিলতা মেটান সেন্সাস সুপারভাইজাররা। তবে এসআইআর-এর জেরে যাঁদের নাম ভোটারতালিকা থেকে বাদ পড়েছে তাঁরা অনেকে ক্ষোভপ্রকাশ করে জনগণনায় তথ্য দিতে চাইছেন না। যাঁরা অন্নপূর্ণা বা আয়ুষ্মান ভারত থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা করে আর্থিকভাবে দূর্বল বা সম্পত্তি লুকিয়েছেন তাঁদের বারে বারে আশ্বস্ত করেছেন জনগণনা আধিকারিকরা। বলেছেন, “গৃহগণনার সঙ্গে এই ভাতা বা সামাজিকপ্রকল্প পাওয়ার কোনও সম্পর্ক নেই। ৩৪টি প্রশ্নের বাইরে কোনও তথ্য যাচাই করা হয়নি। আর জনগণনার এই সংগৃহীত তথ্য সম্পূর্ণ গোপন থাকবে, অন্য কোথাও দেওয়া হবে না।