মশার লার্ভার হটস্পট টালিগঞ্জ, কসবা, নিউ আলিপুর! রাজ্যজুড়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত প্রায় ৪ হাজার
প্রতিদিন | ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জ্বরের রোগী বেশি শ্যামবাজার-হাতিবাগান-শোভাবাজারে। মশা গিজগিজ করছে ঢাকুরিয়া-টালিগঞ্জ-নিউআলিপুরে। তিনদিনের ‘স্বচ্ছতা সে স্বাগত’ ডেঙ্গু (Dengue) নিধন যজ্ঞ শেষে এমনটাই জানাল কলকাতা পুরসভা। রাজ্যের স্বাস্থ্যদপ্তর, কলকাতা পুরসভার সঙ্গে যৌথভাবে শুরু করেছে এই সরেজমিনে তদন্ত। রাজ্যজুড়ে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৪ হাজার।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari) জানিয়েছেন মাঝ অক্টোবর পর্যন্ত কড়া নজর রাখবে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। আশাকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে জ্বরে আক্রান্তদের খোঁজ নেবেন। যদি বাড়ি গিয়ে দেখেন কারও দু’দিনের বেশি জ্বর রয়েছে। রয়েছে ডেঙ্গুর মতো উপসর্গ তাদের দ্রুত নিয়ে আসা হবে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। তেমন তদন্ত করতে গিয়েই দেখা গেল, কলকাতা পুরসভার ২ নম্বর বরোয় ৩৫ জন জ্বরে আক্রান্ত। এটা সর্বাধিক। এরপর ৯ নম্বর বরোয় জ্বরে আক্রান্তের সংখ্যা ৩১। কলকাতা পুরসভার ৯ নম্বর বরো অর্থাৎ আলিপুর, একবালপুর, চেতলা, মোমিনপুর। তৃতীয় স্থানে বরো আট। অর্থাৎ ভবানীপুর, গড়িয়াহাট, রাসবিহারী। পুরসভার কর্মীরা তল্লাশি করেছেন মশার লার্ভারও।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. শারদ্বত মুখোপাধ্যায় পইপই করে জানিয়েছেন, কোথাও জল জমানো যাবে না। যত্রতত্র ফেলে দেওয়া আইসক্রিমের কাপ, পরিত্যক্ত টায়ার, ফেলে দেওয়া ভাড়ে জমা জল-মশার লার্ভা পাওয়া গিয়েছে। মশার লার্ভা সবচেয়ে বেশি পাওয়া গিয়েছে কলকাতা পুরসভার ১০ নম্বর বরোয়। এখানে ৩২৬ টি জায়গায় মিলেছে মশার লার্ভা। নিউআলিপুর, টালিগঞ্জ, কসবা, রথতলা, ঢাকুরিয়া, গড়ফা, লেক গার্ডেন্স, কাটজুনগর, টালিগঞ্জ বিজয়গড় এই ১০ নম্বর বরোর মধ্যে পড়ে। কলকাতা পুরসভার ১০ নম্বর বরোর মধ্যে রয়েছে ৮১, ৮৯ এবং ৯১ থেকে ১০০ পর্যন্ত সবকটি ওয়ার্ড। মশার প্রাদুর্ভাবে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে কলকাতা পুরসভার বরো ১১। এখানে ২১৭ টি জায়গা থেকে মিলেছে মশার লার্ভা। অন্যদিকে চোদ্দ নম্বর বরো রয়েছে তৃতীয় স্থানে। এখানে ১৪৬ টি জায়গা থেকে মিলেছে মশার লার্ভা। এছাড়াও তল্লাশিতে কলকাতায় ৭৬ টি এমন নির্মাণস্থল চিহ্নিত করা হয়েছে যেখানে জল জমে রয়েছে। চিহ্নিত করা হয়েছে ৫৬ টি ফাঁকা জমি। যেগুলি অবিলম্বে পরিস্কার করতে হবে। এছাড়াও ২৮ টি আবর্জনায় ভরা পুকুর-জলাশয় মিলেছে।