• কালীঘাট মন্দিরের গয়না কোথায়? উধাও ভল্টের চাবি ফেরতের দাবিতে আদালতে সাবর্ণ রায়চৌধুরী পরিবার পরিষদ
    প্রতিদিন | ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • কালীঘাট মন্দিরে মা কালীর নামে থাকা গয়না, ভক্তদের দান করা মূল্যবান সামগ্রীর পরিমাণ কত? বর্তমানে কোথায় রয়েছে? এমনই নানা প্রশ্ন তুলে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা জজের কাছে লিখিত অভিযোগ জানাল সাবর্ণ রায়চৌধুরী পরিবার পরিষদ। জেলা জজের অভিযোগের ভিত্তিতে কোনও তদন্ত শুরু হয় কিনা, সেটাই এখন দেখার।

    কালীঘাট মন্দিরের সম্পত্তি গরমিলের অভিযোগ উঠেছে আগেও। গত ২০০৬ সালে কলকাতা হাই কোর্টে এই অভিযোগের জল গড়ায়। প্রণামীর সম্পূর্ণ অংশ নির্ধারিত জায়গায় জমা পড়ছে না বলেই অভিযোগ ওঠে। সেই সময় তৎকালীন চেয়ারম্যান তথা জেলা জজ অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তার প্রায় ২০ বছর পর ফের কালীঘাটের দক্ষিণাকালীর গয়না, সম্পত্তির নথি চেয়ে তৎপর সাবর্ণ রায়চৌধুরী পরিবার পরিষদ। তাদের দাবি, কালীঘাট মন্দিরের দক্ষিণাকালীর গয়নাগাটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের ভল্টে রাখা রয়েছে। তবে ওই ভল্টের চাবি ১৯৮০ সাল থেকে আর পাওয়া যাচ্ছে না। তাই ভল্টের ভিতর ঠিক কী রয়েছে, তা আদৌ একইরকম রয়েছে কিনা, তা জানা নেই কারও।

    আবার এদিকে, মন্দিরের গয়নাগাটি-সহ নানা সম্পদ সংরক্ষণ কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছে। বলে রাখা ভালো, এই কমিটিতে ছিলেন পাঁচ সেবায়েত, মন্দিরের দৈনন্দন কাজের সঙ্গে যুক্ত নন এমন ৬ জন বহিরাগত সদস্যও ছিলেন কমিটি। জেলা জজ হলেন কমিটির চেয়ারম্যান। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, এই কমিটির মেয়াদ ৫ বছর। অভিযোগ, গত ২০১৪ সালের পর থেকে মন্দির পরিচালন কমিটির নির্বাচন হয়নি। সুতরাং তারপর থেকে আর ওই গয়নাগাটির কোনও খোঁজখবর করা হয়নি। মন্দিরের সম্পদের ক্ষতির আশঙ্কা করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সাবর্ণ রায়চৌধুরী পরিবারের পরিষদের তরফে জেলা জজের কাছে এফআইআর করার নির্দেশ দেওয়ার আর্জি জানানো হয়েছে। এছাড়া ভল্টের ভিতরে থাকা গয়নাগাটির তালিকা দেওয়ার দাবিও জানানো হয়েছে। শেষমেশ কী হয়, সেটাই এখন দেখার।
  • Link to this news (প্রতিদিন)