কুপিয়ে খুন করা হয়েছে কোটিপতি এক ব্যবসায়ীকে। ওই ব্যবসায়ীকে খুনের চক্রান্তের অভিযোগ উঠেছে তাঁর পুত্রবধূর বিরুদ্ধে। এই জন্য সুপারি দিয়েছিলেন তিনি। কানপুরের এই ঘটনায় ওই পুত্রবধূকে আটক করেছে পুলিশ। খুনের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে বাড়ির এক পরিচারক-সহ আরও দু'জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
দেহে ২৬টি কোপ
গত শনিবার কানপুরের কল্যাণপুর এলাকার এক সুরক্ষিত অ্যাপার্টমেন্ট থেকে উদ্ধার হয় প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী বিনীত বিনোচা (Vineet Vinocha)-র দেহ। ৬৩ বছরের ওই ব্যবসায়ীর দেহে ধারালো অস্ত্র দিয়ে ২৬ বার কোপানোর চিহ্ন পাওয়া যায় বলে জানিয়েছেন পুলিশ।
খুনের জন্য সুপারি
ওই ব্যবসায়ীর দেহ উদ্ধারের পরেই তদন্ত শুরু করে কানপুর পুলিশ। এই তদন্তেই পুলিশ জানতে পারে, কোটিপতি বিনীত বিনোচাকে খুনের পরিকল্পনা করেন তাঁরই পুত্রবধূ শালু বিনোচা। এই জন্য তিনি একজনকে সুপারিও দেন।
পুত্রবধূর কথায় খুন
কানপুরের ডেপুটি কমিশনার অফ পুলিশ (পশ্চিম) জানিয়েছেন, খুনের ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে ওই বাড়ির পরিচারক বিশাল গৌতম-কে। তিনিই শালুর কথায় রাজ কিশোর নামে একজনকে খুনের জন্য ‘ভাড়া’ করেন। রবিবার গভীর রাতে গ্রেপ্তার করা হয় ওই দু’জনকে। জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশকে জানান, শালুর নির্দেশই ওই ব্যবসায়ীকে খুন করেছিলেন তারা। তার পরেই আটক করা হয়েছে শালুকে। এই হত্যাকাণ্ডে শালুর ভূমিকা কী ছিল, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে, শালুর দেওয়ার বক্তব্যের সঙ্গে তাঁর কল ডিটেলস রেকর্ড এবং অন্যান্য প্রমাণ থাকার বিষয়গুলি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
অর্থ নিয়ে বিবাদের জের
জানা গিয়েছে, বীরহানা রোডে ছেলে সুব্রতের সঙ্গে মিলে ওষুধের কারবার করতেন বিনীত। এই ব্যবসার বার্ষিক লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৪০ কোটি টাকারও বেশি। তবে আর্থিক বিষয়ের ওপর তাঁর বা সুব্রতর কোনও নিয়ন্ত্রণ ছিল না বলে দাবি করেছেন শালু। পুলিশকে তিনি জানিয়েছেন, কর্মীদের মতোই তাঁদেরও প্রতি মাসে একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা দেওয়া হতো। এর বাইরে বাড়তি কোনও অর্থের প্রয়োজন হলে অনুরোধ করতে বা হাত পাততে হতো শ্বশুরের কাছে। এর থেকে মুক্তি পেতে পেতে চেয়েছিলেন তিনি।
পরিকল্পনা করেই খুন
শনিবার রাতে বাড়িতে একাই ছিলেন বিনীত। তাঁর স্ত্রী পুনিতা একজন ম্যারেজ কাউন্সেলর। এই কাজের জন্য গাজিয়াবাদ গিয়েছিলেন তিনি। আর সুব্রত তাঁর স্ত্রী শালু ও পুত্রকে নিয়ে একটি পার্টিতে গিয়েছিলেন। পরিকল্পনামাফিক সেই সময়েই খুন করা হয় বিনীত-কে।
সিটিটিভি ফুটেজ দেখে তদন্তের কিনারা
সেখানকার সিসিটিভি ফুটেজ-ও খতিয়ে দেখে পুলিশ। তাতেই শনিবার মধ্যরাতে ওই অ্যাপার্টমেন্টে দু’জনকে ঢুকতে দেখা যায়। তাদের মধ্যে একজন বিশাল। এর কিছুক্ষণ পরেই মুখ ঢাকা একজনকে সঙ্গে নিয়ে ওই বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসতে দেখা যায় তাকে। সঙ্গে থাকা ব্যক্তিই রাজ।
পুলিশ সূত্রে খবর, গভীর রাতে বিশাল যখন রাজকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে আসেন, তখন তাদের ঢুকতে বাধা দেন নিরাপত্তা রক্ষী। এর পরেই বিশাল ফোন করেন শালুকে। ওষুধের কারবারি রাজ সেখানে এসেছেন বলে শালু জানান নিরাপত্তা রক্ষীকে। তার পরেই তাদের ঢুকতে দেওয়া হয়।