দিল্লির সত্য নিকেতনে ছয়তলা একটি পিজি বিল্ডিং ভেঙে পড়ার ঘটনায় একের পর এক প্রশ্ন উঠছে দিল্লি পুরসভার ভূমিকা নিয়ে। উদ্ধারকাজ, বেআইনি নির্মাণ এবং নিরাপত্তাবিধি না মানার অভিযোগের মধ্যেই এ বার সরাসরি নিশানায় দিল্লি পুরসভার কমিশনার সঞ্জীব খিরওয়ার। ছাত্র সংগঠনগুলির একাংশ তাঁর পদত্যাগের দাবি তুলেছে। এই প্রথম নয়, অতীতেও পোষ্য কুকুরকে হাঁটানো নিয়ে বিতর্কে নাম জড়িয়েছিল এই IAS অফিসারের।
সঞ্জীব খিরওয়ার ১৯৯৪ ব্যাচের AGMUT ক্যাডারের IAS অফিসার। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে তাঁকে দিল্লি পুরসভার কমিশনারের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এর আগে দিল্লি সরকারের রাজস্ব দফতরের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।
২০২২ সালে দিল্লির ত্যাগরাজ স্টেডিয়ামের এক ঘটনায় বিতর্কে নাম জড়িয়েছিল খিরওয়ারের। অভিযোগ উঠেছিল, সরকারি আধিকারিক হিসেবে তিনি সন্ধ্যার সময়ে স্টেডিয়ামের ট্র্যাকে নিজের পোষ্য কুকুরকে হাঁটাতে নিয়ে যেতেন। সেই সময়ে ক্রীড়াবিদদের অভিযোগ ছিল, ওই আধিকারিকের কুকুর হাঁটানোর কারণে তাঁদের অনুশীলন ব্যাহত হচ্ছে। আসলে পোষ্যের যাতে কোনও অসুবিধা না হয়, তাই খেলোয়াড়দের প্র্যাকটিস শেষ না হলেও তাঁদের স্টেডিয়াম খালি করে দিতে নির্দেশ দিতেন আধিকারিকের নিরাপত্তারক্ষীরা। নির্ধারিত সময়ের আগেই স্টেডিয়াম ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হতেন ক্রীড়াবিদরা।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পরে ব্যাপক বিতর্ক হয়। কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে খিরওয়ারকে দিল্লি থেকে বদলি করে লাদাখে পাঠানো হয়েছিল। তাঁর স্ত্রী, IAS অফিসার রানি শর্মাকেও অরুণাচল প্রদেশে বদলি করা হয়।
তবে কয়েক বছর পরে ফের দিল্লিতে ফিরেছেন খিরওয়ার। এ বার তাঁর প্রশাসনিক দায়িত্বের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে দিল্লির পুরসভা এবং শহরের নির্মাণ ও নাগরিক পরিকাঠামোর নজরদারি। তাই সত্য নিকেতনের বিল্ডিং ধসে পড়ার ঘটনায় একাধিক প্রশাসনিক ফাঁকফোকর নজরে আসায় নিশানায় সঞ্জীব খিরওয়ারও।
সত্য নিকেতনের ভবনটি ভেঙে পড়ার পর থেকেই দিল্লিতে বেআইনি নির্মাণ এবং পিজি ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। ছাত্র সংগঠনগুলির অভিযোগ, আবাসিক বাড়িকে পিজিতে পরিণত করে বিপুল সংখ্যক ছাত্র রাখা হলেও অনেক ক্ষেত্রেই নির্মাণবিধি ও অগ্নি-নিরাপত্তা বিধি যথাযথ ভাবে মানা হচ্ছে না।
এই পরিস্থিতিতেই MCD কমিশনারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ছাত্র সংগঠনগুলি। রবিবার রাতে ABVP-র কর্মীরা MCD সদর দপ্তরের সামনে বিক্ষোভ দেখিয়ে খিরওয়ারের পদত্যাগ দাবি করেন। বিক্ষোভ তীব্র আকার নিলে পুলিশ বেশ কয়েক জনকে আটক করে।
অন্য দিকে, ঘটনার পরে MCD দক্ষিণ জোনের পাঁচ আধিকারিককে সাসপেন্ড করেছে। তাঁদের মধ্যে ডেপুটি কমিশনারও রয়েছেন। পাশাপাশি চারতলার বেশি বেআইনি নির্মাণ চিহ্নিত করে তা সিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সমালোচনার মুখে খিরওয়ারের নেতৃত্বাধীন MCD-র তরফে বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে অভিযানের পরিসংখ্যানও তুলে ধরা হয়েছে। খিরওয়ার জানিয়েছেন, গত তিন মাসে ৯৬০টি বেআইনি নির্মাণ ভেঙে ফেলা হয়েছে এবং আরও ৪০৭টি ভবন সিল করা হয়েছে। তবু সত্য নিকেতন বিপর্যয় সেই দাবির কার্যকারিতা নিয়েই নতুন প্রশ্ন তুলেছে। নিয়ম ভেঙে কোনও বিল্ডিং পিজি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে কি না, নির্মাণের সময়ে নিরাপত্তা বিধি মানা হচ্ছে কি না এবং পুরসভার নজরদারি কতটা কার্যকর—এই প্রশ্নগুলির উত্তর এখন খুঁজছে দিল্লি।