• কার্নিভাল বন্ধ, পুজোয় ১ লক্ষ টাকা অনুদান ঘোষণার পরেও বিশেষ বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর
    এই সময় | ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • সোমবার মিলন মেলা প্রাঙ্গণে দুর্গাপুজো কমিটিগুলিকে নিয়ে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আলোচনার পরে বড় পুজো কমিটিগুলিকে সরকারের আর্থিক সাহায্য না নেওয়ার আবেদন জানান মুখ্যমন্ত্রী। ছোট পুজোগুলিকে সংশ্লিষ্ট থানায় আবেদন করতে হবে। সরকারের তরফে ছোট পুজোগুলিকে ১ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্য দেওয়া হবে। এ বারেও বিদ্যুতের বিল ১০০ শতাংশ ছাড় দেওয়া হবে। পাশাপাশি দুর্গাপুজো নিয়ে আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা দিয়েছে রাজ্য সরকার। 

    ২০১৮ সাল থেকে রাজ্যের পুজো কমিটিগুলোকে আর্থিক অনুদান দেওয়া শুরু করে পূর্বতন রাজ্য সরকার। প্রথম বছর ১০ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়া হয়েছিল। গত বছর পুজো কমিটিগুলিকে ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা অনুদান দেওয়া হয়েছিল। তবে এ বার মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘যারা সক্ষম (বড় বাজেটের পুজো কমিটি), তাদের বলব, সরকারের অর্থনৈতিক সাহায্য না নেওয়ার জন্য। যাদের এই টাকা না হলে পুজো করতে পারবেন না, তাদের জন্য সরকার এক লক্ষ টাকা দেবে।’

    ১) দেবীপক্ষে দুর্গাপুজোর সূচনা। দেবীপক্ষ শুরু হওয়ার আগে পুজো উদ্বোধনের অনুমতি দেওয়া হবে না। 

    ২) গোটা রাজ্যের ক্ষেত্রে রাজ্য সড়ক ব্লক করে পুজো হবে না। কলকাতার ১৩টি রাস্তা ব্লক করে পুজো করা যাবে না। 

    ৩) ডিজে বাজানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। পুজো এবং বিসর্জনেও ডিজে বাজানো নিষিদ্ধ করা হবে। 

    ৪) লক্ষ্মীপুজো ২৫ অক্টোবর। তার আগে বিসর্জন শেষ করতে হবে। প্রতিমা, প্যান্ডেল, থিম বা সজ্জা– এমন কিছু করা যাবে না, যাতে দুর্গাপুজোর যে ধর্মীয় ঐতিহ্য রয়েছে,সেটা আঘাতপ্রাপ্ত হয়। 

    ৫) অষ্টমীর দিন এই রাজ্যে সমস্ত মদের দোকান বন্ধ থাকবে। পানশালায় মদ বিক্রি করা যাবে না।

    এ বছর থেকে দুর্গাপুজোয় কলকাতার রেড রোডে অনুষ্ঠিত কার্নিভাল না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গত কয়েক বছরে কার্নিভাল-এর নামে যেটা চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছিল, সেটা এ বার হচ্ছে না। আমাদের পর্যটন ও তথ্য সংস্কৃতি দপ্তর মিলে সবথেকে বড় কর্মসূচি হবে ইডেন গার্ডেন-এ। ওখান থেকে দুর্গাপুজোর সূচনা। চার ঘণ্টার ড্রোন শো ও আতসবাজি শো হবে। শহরজুড়ে বৃহৎ রোড শো হবে।  দিঘাতে মহালয়ার পরে একটি অনুষ্ঠান হবে। রাজ্যের ছয়টি শহরে দু’দিন ব্যাপী সংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে। কলকাতার ৪টি ঘাটে সাজসজ্জা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করা হবে।

    প্রতিমা, মণ্ডপসজ্জা, পুজো প্যান্ডেলের থিম সংক্রান্ত বিষয়েও বেশ কিছু আবেদন রাখা হয়েছে সরকারের তরফে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘প্রতিমা, মণ্ডপ এমন কিছু করবে না, যাতে সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় ঐতিহ্যে আঘাত লাগে।’ কোজাগরী লক্ষ্মী পুজো ২৫ অক্টোবর। তার আগে অর্থাৎ ২৪ অক্টোবরের মধ্যে সমস্ত পুজো কমিটিকে বিসর্জন করতে হবে বলে জানানো হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘প্রতিমার নিরঞ্জন পঞ্জিকা মেনে হয়। নিজের ইচ্ছা মতো হয় না। অবশ্যই কাটঅফ ডেট রাখব। কারও উপর কিছু চাপিয়ে দিতে চাই না।’ তবে শৃঙ্খলা মেনে নিরঞ্জন হবে।

    দুর্গাপুজোর একটি সরকারি বিজ্ঞাপন নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছিল। এ দিন অনুষ্ঠানের শেষে মুখ্যমন্ত্রী জানান, সকালে ত্রুটিপূর্ণ একটা বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে। তার জন্য ক্ষমাপ্রার্থী। যাঁরা এই বিজ্ঞাপন দিয়েছেন, তাঁদের সতর্ক করা হয়েছে। একটি বিজ্ঞাপন সংস্থাকে দিয়ে এই বিজ্ঞাপন করানো হয়েছিল বলে সূত্রের খবর। সেই বিজ্ঞাপনে দেবী দুর্গার এগারোটি হাত দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ ছিল।

  • Link to this news (এই সময়)