বীরভূমের ইলামবাজারের নামকরা ‘বনলক্ষ্মী’ রিসর্টে খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের আকস্মিক অভিযান চলে। সেখানকার আচারে মিলল ছত্রাক! কাঁচামাল সংরক্ষণের ড্রামে রাখা আমগুলি ফাঙ্গাসে সাদা হয়ে গিয়েছে। এমন অস্বাস্থ্যকর প্রক্রিয়া দেখে ক্ষুব্ধ খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের আধিকারিকরা। রবিবার এই অভিযান পর থেকেই উদ্বিগ্ন কলকাতার বহু পর্যটকও। কারণ, এই রিসর্টে খাওয়া সঙ্গে সেখান থেকে আচার সংগ্রহ করার লোকের অভাব নেই।
কর্তৃপক্ষের দাবি, প্রায় ৩০-৪০ বছর ধরে চলে আসা পুরোনো পদ্ধতি মেনে এ ভাবে আচার ও কাঁচামাল সংরক্ষণ করা হয়। তবে সেই যুক্তি মানতে নারাজ খাদ্য সুরক্ষা আধিকারিক সঞ্জুয়ারা খাতুন। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, ফাঙ্গাসযুক্ত এই ধরনের খাদ্য সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এর ফলে মারাত্মক ফুড পয়জনিং হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। তাই সমস্ত ফাঙ্গাসযুক্ত আচার অবিলম্বে ফেলে দেওয়ার কড়া নির্দেশ দেন তিনি।
বনলক্ষ্মীর অন্যতম কর্ণধার দিয়া বিশ্বাস পাল এই ঘটনার দায় এড়িয়ে দাবি করেন, আচার তৈরির ইউনিটটি পরিবারের অন্য এক সদস্যের এবং মূল বনলক্ষ্মীর সঙ্গে এর কোনও সম্পর্ক নেই। তাঁরা কোনও দায় নিতে পারবে না।
বনলক্ষ্মীর আর এক কর্ণধার কানন পাল বলেন, ‘বনলক্ষ্মীর ক্যান্টিন চালান আমার এক ভাইপো। আর এই আচারের প্রোডাক্টটির রেজিস্ট্রেশন রয়েছে আমার নামে। এই প্রোডাক্ট বনলক্ষ্মীর বিপণী নামক যে আউটলেট আছে, সেখান থেকেই বিক্রি হয়।’ কিন্তু আচারের আম এমন ছত্রাকে ঢাকা কেন?
কানন পালের দাবি, আচারের ফাঙ্গাস প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘প্রায় ৪০ বছর আগে এই আচার তৈরির প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল। সেই পদ্ধতি মেনেই এতদিন আচার তৈরি হতো। আর এই আচার তৈরি করেই অনেক মহিলা স্বনির্ভর হয়েছেন। এর পরে আর কোনও রকমের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়নি। যদি এই পদ্ধতিতে কিছু ভুল থাকে আমরা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে অনুরোধ জানাব, আমাদের আবার প্রশিক্ষণ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হোক।’
তিনি আরও জানান, তাঁদের একটি নোটিস দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন খাদ্যের নমুনাও সংগ্রহ করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। রিপোর্ট আসার পরে তাঁদের ডাকা হবে। এই অভিযান প্রসঙ্গে খাদ্য সুরক্ষা আধিকারিক সঞ্জুয়ারা খাতুন বলেন, ‘আগেও এই বনলক্ষীতে আমরা এসেছিলাম। তখন নোটিসও দেওয়া হয়েছিল। তার পরে খাদ্য সুরক্ষার দিকে অনেকটাই উন্নতি করেছেন তাঁরা। তবে তাঁরা যে কাঁচামালগুলি মজুত করে রেখেছেন, সেগুলি সঠিক নিয়মে মজুত করেননি। যেমন তিনটি কাঁচামালের ড্রাম পেয়েছি, যাতে পুরো ফাঙ্গাস পরে গিয়েছে। প্রক্রিয়াজাত সামগ্রীর দুটি ড্রাম পেয়েছি, যেখান থেকে দুর্গন্ধ বেরোচ্ছে।’ কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করা হয়েছে, স্থানীয় পঞ্চায়েতকেও বিষয়টি জানানো হবে বলে জানান তিনি।