ফুচকা দেখলে জিভে জল আসে না এমন মানুষের সংখ্যা হাতে গোনা। বাড়ির ছোটদের ফুচকা খাওয়া থেকে বিরত রাখতে বড়রা যে কত রকমের গল্প বলেন! তবু ফুচকা থেকে কাউকে দূরে রাখা মোটে অত সহজ না। কিন্তু এই টকজলে ভরা মুখরোচক খাবার কতটা স্বাস্থ্যসম্মত? খাদ্য সুরক্ষা সপ্তাহ চলাকালীন এই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। হুগলিতে ফুচকার টকজলের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছিল। যে রিপোর্ট এসেছে, তা যথেষ্ট উদ্বেগের।
বাঙালির প্রিয় মুখরোচক খাবারের তালিকায় একেবারে প্রথম সারিতে ফুচকা। মুচমুচে খাস্তা ফুচকা, ভিতরে আলুর পুর আর তেঁতুল জলে ডোবানো। সে স্বাদ ৮ থেকে ৮০ সকলেরই জিভে জল আনে। ছেলে-মেয়ে নির্বিশেষে ফুচকাপ্রেম সর্বজনীন। রাস্তার ধারে, পাড়ার মোড়ে, পার্কে, মাঠের পাশে যেখানেই লোকের জমায়েত, সেখানেই ফুচকার স্টল। বহু মানুষের রুজি-রোজগার চলে এই ফুচকা বিক্রি করেই।
সম্প্রতি হুগলির খানাকুলে বেশ কয়েকটি জায়গা থেকে ফুচকার তেঁতুল জলের নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবে পরীক্ষা করে জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর। পরীক্ষায় চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসে। ফুচকার জলে ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়ার সন্ধান মিলেছে। এই দূষিত জল খেয়ে পেটের রোগ ছড়ানোর আশঙ্কা থাকে। এই ঘটনার পরেই সচেতনতা বাড়াতে উদ্যোগী হয়েছে জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর।
হুগলি জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক মৃগাঙ্ক মৌলিক কর জানান, ফুচকা বিক্রেতাদের ডেকে সতর্ক করা হয়েছে। ফুচকার জলের নমুনা পরীক্ষার পরে কিছু ব্যাকটেরিয়া পাওয়া গিয়েছে। সেটা ফুচকার জন্য হতে পারে, আবার টকজলে ব্যবহৃত জলের জন্যও হতে পারে।
ফুচকা বিক্রেতাদের জন্য জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের নির্দেশ, ফুচকা বিক্রির সময়ে হাত ভালো করে পরিষ্কার রাখতে হবে, সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে। হাতে অবশ্যই গ্লাভস ব্যবহার করতে হবে। খাবার জিনিস সব সময় ঢাকনা দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে, যাতে বাইরের ধুলো-ময়লা না লাগে। যে হাঁড়ি বা ড্রামে টকজল গোলা হয়, সেটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতেও বলা হয়েছে।
স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে খবর, ফুচকার জলে ব্যাকটেরিয়া থাকলে পেটের গোলমাল, পেটে ব্যথা, বমির মতো নানা সমস্যা হতে পারে। তাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে খাবার খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছে স্বাস্থ্য দপ্তর। যদিও স্থানীয় ফুচকা বিক্রেতাদের দাবি, সব রকম স্বাস্থ্যবিধি মেনেই তাঁরা ফুচকা বিক্রি করেন। রাজা ঢালী নামে এক ফুচকা বিক্রেতা জানান, ফুচকার হাঁড়ি বা ড্রামে ঢাকনা ব্যবহার করা হয়। তবে খালি হাতে কোনও কিছু মাখা উচিত নয়। স্বাস্থ্য দপ্তরের গাইডলাইন মেনেই চলা উচিত।