• দিল্লির বিপর্যয়ে চলে গেল সাতটি প্রাণ, গলদ কোথায়? কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?
    এই সময় | ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • পাঁচতলার ছাত্রাবাস। একতলা, চারতলা এবং পাঁচতলা ভাড়া দেওয়া হয়েছিল। শয্যাপিছু প্রায় ১৫ থেকে ১৮ হাজার টাকা ভাড়া নিয়ে থাকতেন পড়ুয়ারা। এক নিমেষে বহুতলের একাংশ ধূলিসাৎ। রাজধানীর বুকে মর্মান্তিক ঘটনায় একাধিক প্রশ্ন উঠেছে। ঠিক কী কী কারণে এই দুর্ঘটনা? কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?

    স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, ৪০ থেকে ৫০ বছর আগে বহুতলটি তৈরি করা হয়েছিল। দোতলা নির্মাণের অনুমতি ছিল দিল্লি পুরসভার। এর পরে প্রশাসনের নজর এড়িয়ে আরও তিনটি ফ্লোর নির্মাণ করা হয়। ১৯৭৩ সালে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাউথ ক্যাম্পাস তৈরি হয়েছিল। এছাড়াও দিল্লির সত্য নিকেতন এলাকায় একাধিক কলেজ রয়েছে। স্বাভাবিক ভাবেই, গুরুত্ব বাড়তে থাকে এই ধরনের পিজি-র। অভিযোগ, কয়েকমাস আগেও এই বাড়িটি জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়েছিল। মালিক হরিরাম গুপ্তা কিছু রক্ষণাবেক্ষণের কাজ শুরু করেন। সংস্কারের কাজ শেষ হয়নি। তার মাঝেই পড়ুয়াদের ভাড়া দেওয়া হয়ে যায়।

    স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, টানা কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টির ফলে ভবনের বেসমেন্টে জল জমে গিয়েছিল। যা সম্ভবত এর ভিতকে দুর্বল করে দিয়েছিল।

    ধসে পড়া বহুতলটি প্রায় ৫৫ বর্গ ইয়ার্ড আয়তনের জমির উপরে নির্মাণ করা হয়েছে। অথচ, নিয়ম অনুযায়ী সেখানে কেবল দোতলা (নিচতলা ও একটি ওপরের তলা) ভবন নির্মাণের অনুমতি ছিল। জিজ্ঞাসাবাদের সময় অভিযুক্ত হরিরাম পুলিশকে জানায়, বেসমেন্টে নির্মাণকাজ চলছিল এবং সেই কারণেই ধসের ঘটনাটি ঘটেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ওই কাজে নিয়োজিত শ্রমিকদের বক্তব্য থেকেও সেখানে নির্মাণকাজ চলার বিষয়টি নিশ্চিত করা গিয়েছে।

    Indian Institute of Engineering Science and Technology, Shibpur (IIEST)-এর প্রাক্তন রেজিস্ট্রার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘পাঁচতলা একটি বিল্ডিং স্টেপ বাই স্টেপ উঠতেই পারে, তবে ওই বিল্ডিংয়ের পাঁচতলা অনুমোদন ছিল না বলেই মনে হয়। দ্বিতীয়ত, ওখানে যে হেতু পড়ুয়ারা রয়েছে, সেই অবস্থায় কী করে এই নির্মাণকাজ হয়, তা বিস্ময়কর। পুরো কাজটাই আইনবিরুদ্ধ। এত দিনের পুরোনো বাড়ি ফাঁকা করে তবে এই কাজ করা উচিত ছিল।’ স্থানীয় প্রশাসন, দিল্লি পুরসভার নিয়মিত ভিজিল্যান্স-এর ব্যাপারে জোর দেওয়া উচিত বলে জানান তিনি।

    বেশ কিছু সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, ওই আবাসনে পড়ুয়াদের থেকে মুচলেকা নিয়ে ভাড়া দেওয়া হতো। সেই মুচলেকায় জানিয়ে দেওয়া হতো, বাড়িটির কোনও ক্ষয়ক্ষতি হলে সেই দায় পিজি কর্তৃপক্ষের নয়। পিজিতে ঘর হিসেবে নয়, শয্যা পিছু ভাড়া নেওয়া হতো। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে হস্টেলের জায়গা না পাওয়ায় বাধ্য হয়েই অনেক পড়ুয়া মোটা টাকা ভাড়া দিয়ে এই ধরনের পিজিতে থাকতে শুরু করেন। যার মূল্য চোকাতে হলো রবিবারের ঘটনায়।

    উল্লেখ্য, দিল্লির ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে পশ্চিমবঙ্গেও এই ধরনের পিজি বা ছাত্রাবাসগুলিতে সুরক্ষা বিধি মেনে চলার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘অবশ্যই এই ধরনের ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে আমাদের কাজ করা উচিত।... কলকাতা শহরেই এত পুরোনো বাড়ি রয়েছে, বৃষ্টি হলেই বাড়ি ভেঙে পড়তে পারে। সেগুলিকে কেন ভেঙে দেওয়া হচ্ছে না?’

  • Link to this news (এই সময়)