চিকিৎসার গাফিলতিতে শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ। এই অভিযোগ করে নার্সিংহোম বন্ধ করার দাবিতে,বর্ধমানে সিএমওএইচ অফিসের সামনে, বিক্ষোভ দেখালেন শিশুর পরিবারের লোকজন। সেই সঙ্গেই চিকিৎসকের শাস্তির দাবিও জানান তাঁরা। একই সঙ্গে শিশুমৃত্যুর ঘটনায় উপযুক্ত বিচারের দাবিও করেন তাঁরা। ওই পরিবারের দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন পূর্ব বর্ধমান জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক (সিএমওএইচ)।
মৃত ওই শিশুর নাম অরণ্য রায়(৪)। তার বাড়ি পশ্চিম মেদিনীপুরের রামজীবনপুরে।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে,ভাতারের ছোট বেলুন এলাকার এক বাসিন্দার মাধ্যমে শিশুটিকে বর্ধমানের একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে ভর্তি করা হয়েছিল। ওই ব্যক্তি নিজেকে নার্সিংহোমের কর্মী বলে দাবি করলেও তিনি মূলত একজন দালাল বলে অভিযোগ।
ওই পরিবারে সদস্যদের দাবি,শিশুটির ফাইমোসিসের অস্ত্রোপচার হওয়ার কথা ছিল। গত ২ তারিখ রাত ১০ থেকে প্রায় ১৬ ঘণ্টা কিছুই না খেয়েছিল সে। কিন্তু কোনও রকম পরীক্ষা ছাড়াই অ্যানাস্থেশিয়া করে অপারেশন করা হয় অরণ্যর। এই কারণেই মৃত্যু হয় শিশুটির।
চিকিৎসায় গাফিলতির কারণেই মৃত্যু হয় তাঁর সন্তানের বলে দাবি করেছেন অরণ্যর মা শিল্পা রায়। নার্সিংহোমের পরিবেশ দেখেই তাঁদের সন্দেহ হয় বলেও দাবি করেন তিনি।
অস্ত্রোপচারের নির্দিষ্ট সময় বারবার পিছিয়ে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ।
শিশুটির বাবা জয়ন্ত রায়ের অভিযোগ,নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ ও চিকিৎসকদের চরম গাফিলতির কারণেই মৃত্যু হয়ে অরণ্যের। টাকার লোভে শিশুটিকে ইচ্ছাকৃতভাবে সম্পূর্ণ অজ্ঞান করে হত্যা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ তাঁর। আর কারোর কোল যাতে খালি না হয় সেই দাবি করে ওই নার্সিংহোম বন্ধ করার পাশাপাশি অভিযুক্ত চিকিৎসকের শাস্তির দাবি করেন তিনি। সেই সঙ্গেই, সোমবার, এই মৃত্যুর বিচার চেয়ে CMOH অফিসের সামনে বিক্ষোভ দেখান তাঁরা।
এই অভিযোগ খতিয়ে দেখার জন্য ডেপুটি CMOH-১-এর নেতৃত্বে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক জয়রাম হেমব্রম। ওই নার্সিংহোমটিতে আপাতত রোগী ভর্তি প্রক্রিয়া বন্ধ রাখতেও বলা হয়েছে। তদন্ত কমিটির এবং ময়না তদন্তের রিপোর্ট আসার পরে তা বিশ্লেষণ করে পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।