• সামশেরগঞ্জের খুনের ঘটনায় শাস্তির মুখে একাধিক পুলিশকর্মী, নিহতের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা সাহায্য
    এই সময় | ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • সামশেরগঞ্জের বিজেপি কর্মী সুজিত মণ্ডল খুনের ঘটনায় কড়া পদক্ষেপের কথা জানালেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পরিবারের তরফে পুলিশি গাফিলতির অভিযোগ উঠেছিল। সেই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট একাধিক পুলিশ আধিকারিকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ করেছে প্রশাসন। নিহতের পরিবারকে রাজ্যের তরফে ১০ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করা হয়েছে। সুজিতে স্ত্রী চাইলে তাঁকে চাকরি দেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

    এর আগে ওই খুনের মামলার তদন্তের অগ্রগতি খতিয়ে দেখতে সামশেরগঞ্জে এসেছিলেন মুর্শিদাবাদ রেঞ্জের ডিআইজি অজিত সিং যাদব। রবিবার দুপুরে তিনি মামলার তদন্তকারীদের সঙ্গে বৈঠক করেন। পরে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান। ধুলিয়ানের বাড়িতে মৃতের পরিবারের সঙ্গেও দেখা করেন। ডিআইজির সঙ্গে ছিলেন জঙ্গিপুর পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার সুরিন্দর সিং, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, এসডিপিও, সামশেরগঞ্জ থানার আইসি-সহ অন্য আধিকারিকেরা। সুজিত কী ভাবে নিখোঁজ হন, তাঁকে খুঁজতে কী পদক্ষেপ করা হয়েছিল, কী ভাবে খুনের ঘটনা সামনে এল—সমস্ত বিষয় নিয়েই বৈঠকে আলোচনা হয়। পাশাপাশি হত্যার কারণ, আরও কেউ জড়িত কি না ও তদন্ত কত দূর এগিয়েছে, সে বিষয়েও রিপোর্ট নিয়েছেন ডিআইজি।

    অজিত সিং যাদব জানিয়েছেন, খুনের নেপথ্যে টাকা-পয়সার লেনদেন সংক্রান্ত বিবাদ জড়িত রয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে। তবে সেটিই চূড়ান্ত কারণ কি না, তা নিশ্চিত করতে তদন্ত চলছে। এখনও সুজিতের দেহের সব অংশ উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। বল্লালপুর ফিডার ক্যানাল থেকে শুক্রবার একটি কাটা পা উদ্ধার হয়েছিল, প্রাথমিক ভাবে সন্দেহ সেটি সুজিতের। প্রমাণ পেতে ডিএনএ টেস্ট করানো হবে বলে পুলিশ সূত্রের খবর। দেহের বাকি অংশ খুঁজে পেতে তল্লাশি চলেছে রবিবারও।

    ২৮ অগস্ট সকাল থেকে ধুলিয়ান পুরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সুজিত মণ্ডল (৩৬) নিখোঁজ ছিলেন। নিখোঁজের আট ঘণ্টা পরে থানায় অভিযোগ দায়ের হয়। ওই এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে সুজিতের গতিবিধি জানতে পারে পুলিশ। তার ভিত্তিতে তদন্ত চালিয়ে এবং ফোনের টাওয়ার লোকেশন চিহ্নিত করে তিন জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

  • Link to this news (এই সময়)