বিপর্যয়ের পর নেপালের সুড়ঙ্গে কি আটকে সন্দীপ? বর্ধমানে দুশ্চিন্তায় দিন গুনছেন স্ত্রী-পরিবার
প্রতিদিন | ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নেপালে কাজে গিয়ে কি কোনও সুড়ঙ্গেই আটকে পড়েছেন সন্দীপকুমার গড়াই? অন্যদের মতো তিনিও জীবিত উদ্ধার হবেন। সেই আশায় এখন দিন গুনছে আশায় পূর্ব বর্ধমানের দেওয়ানদিঘির সিমডাল গ্রাম। নেপালে বিপর্যয়ে ১০ দিন ইতিমধ্যেই পেরিয়ে গিয়েছে। ইতিমধ্যেই হাজার পেরিয়ে গিয়েছে নেপালে মৃত্যুর সংখ্যা। চার হাজারের বেশি মানুষ এখনও নিখোঁজ। ঘটনার এক সপ্তাহ পরেও কয়েকজনকে কাদামাটির মধ্যে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। সুড়ঙ্গের কাদামাটি সরিয়েও প্রাণের সন্ধান মিলেছে।
নেপালে কর্মসূত্রে থাকতেন সন্দীপ। বাড়িতে স্ত্রী তিথি, অষ্টম শ্রেণির ছাত্র ছেলে থাকে। পরিবারে দাদা-সহ অন্যরাও রয়েছেন। গত ২৬ আগস্ট সকালে অফিসে কাজে যাওয়ার আগে স্ত্রী তিথির সঙ্গে ফোনে কথাও বলেছিলেন সন্দীপ। ওই দিনই সেই ফোনের পর প্রকৃতির তাণ্ডবের খবর সামনে আসে। তারপর থেকে সন্দীপের সঙ্গে কোনওভাবে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি পরিবারের তরফে। দুশ্চিন্তার প্রহর কাটছে প্রিয়জনদের।
কেবল সরকারের ভরসায় না থেকে পরিবারের সদস্যরদের কয়েকজন সন্দীপের খোঁজে নেপালে গিয়েছিলেন। সন্দীপের দাদা দীপক গড়াই, শ্যালক রিন্টু সেন-সহ চারজন নেপালের বিভিন্ন অফিসে গিয়েছিলেন। সন্দীপের অফিস, ভারতীয় দূতাবাস, সেদেশের হাসপাতালে খোঁজ নেন। কিন্তু কেউই কিছু জানাতে পারেনি। অগত্যা ভগ্ন হৃদয়ে বাড়ি ফিরে আসেন তাঁরা। ইতিমধ্যে খবর মেলে ঘটনার ১০ দিন পরে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলের ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে কয়েকজনকে উদ্ধার করা হয়েছে। যদিও তার মধ্যে সন্দীপ নেই। কিন্তু ঘটনার এতদিন পরেও জীবিত কয়েকজন উদ্ধার হওয়ায় আরও অনেকে জীবিত আটকে থাকতে পারেন বলে অনুমান করা হচ্ছে।
তাঁদের মধ্যে সন্দীপও থাকতে পারেন বলে গ্রামবাসীরা আশা করছেন। এখনও আশা ছাড়েননি পরিবারের সদস্যরা। উদ্ধারকাজ ভালোভাবে হলে সন্দীপের মতো আরও অনেককেই হয়তো জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা রয়েছে। এমনই মনে করছেন সন্দীপের স্ত্রী। সন্দীপের শ্যালক রিন্টু বলেন, “আমরা নেপালে গিয়েও কোনও খোঁজ পাইনি। আশায় আছি ফিরবেন একদিন। বাড়িতে তিথি, ভাগ্না খুবই ভেঙে পড়েছে। উপরওয়ালাই এখন ভরসা।”