ধুলিয়ান পুরসভার গরুর হাটের বিজেপি কর্মী সুজিত মণ্ডল অপহরণ ও নৃশংস খুনের ঘটনায় উত্তাল সামশেরগঞ্জ। এই ঘটনায় সামশেরগঞ্জ থানার পুলিশ আধিকারিকদের বিরুদ্ধে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কড়া পদক্ষেপ করেছেন। একইসঙ্গে ঘটনায় সিআইডি তদন্তেরও নির্দেশও দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রীর এহেন সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাল নিহতের পরিবার। তবে মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষিত ১০ লক্ষ টাকার আর্থিক সাহায্য ও হোমগার্ডের চাকরি নিতে অস্বীকার করেছেন মৃত সুজিত মণ্ডলের স্ত্রী সুমনা মণ্ডল। তাঁর কান্না ভেজা গলায় একটাই দাবি, “ক্ষতিপূরণ ও চাকরির থেকে আমি আমার স্বামীকে ফিরে পেতে চাই। যারা আমার স্বামীকে খুন করেছে, তাদের ফাঁসি চাই।” তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে দুই নাবালক সন্তানকে নিয়ে চরম অসহায় অবস্থায় পড়েছেন সুমনা। স্বামীকে হারিয়ে দিশেহারা গোটা পরিবার।
মৃতের ভাই সঞ্জয় মণ্ডল বলেন, “সব থেকে বড় কথা দাদার বডি আমরা এখনও পাইনি। যতক্ষণ পর্যন্ত বডি না পাওয়া যাচ্ছে আমরা কিছুই বুঝতে পারছি না। আমরা সিআইডি তদন্ত চাইছি। অভিযুক্তদের ফাঁসির দাবি জানাচ্ছি।” তিনি আরও বলেন, “যে বাড়িতে পুলিশ বলছে দাদাকে নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছে, সেই বাড়ির মালিককে জেরা করা হোক। কাদের বাড়ি ভাড়া দিয়েছিল, কীসের জন্য দিয়েছিল তা খতিয়ে দেখা হোক। এই ঘটনায় আরও অনেকে জড়িত, তাদের তদন্ত করে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করা হোক।”
পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার প্রথম থেকেই সামশেরগঞ্জ থানার পুলিশ অসহযোগিতা করছে। পুলিশের ভূমিকায় ক্ষুব্ধ পরিবার। এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী পুলিশের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করায় খুশি তারা। সঞ্জয় মণ্ডল বলেন, “মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে একবার দেখা হলে ভালো হতো। তাঁকে সব ঘটনা আমরা খুলে বলতে পারতাম।” মুখ্যমন্ত্রীর ১০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ ও হোমগার্ডে চাকরির প্রসঙ্গে সঞ্জয় আবেগপ্রবণ হয়ে বলেন, “এসব সাহায্যের থেকে দাদা থাকলে কষ্ট করে আমরা খেটে খেতাম। টাকা-চাকরি দিয়ে কি আর মানুষ ফিরে আসে?” উল্লেখ্য, গত কয়েকদিন আগে ধুলিয়ান পুরসভার গরুর হাট এলাকা থেকে অপহরণ করা হয় বিজেপি কর্মী সুজিত মন্ডলকে। পরে তাঁকে নৃশংসভাবে খুন করা হয় বলে অভিযোগ। ঘটনার তদন্তে ইতিমধ্যেই সিআইডিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।