ডেলিভারির আড়ালে বাইক চুরি! সিসিটিভি দেখে বেলঘরিয়ার ‘বান্টি-বাবলি’কে ধরল পুলিশ
প্রতিদিন | ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুটিতে দু’জন। একজন ডেলিভারি বয়, সঙ্গে বান্ধবী। অর্ডার দিতে বেরিয়ে কখনও রহড়া, কখনও নিমতা, কখনও বেলঘরিয়া। কিন্তু ডেলিভারি ছিল ছক ঢাকার আড়াল। রাস্তার ধারে পছন্দসই বাইক দেখলেই নজর পড়ত দু’জনের। সুযোগ বুঝে বাইক চুরি করে চম্পট। অনেক ক্ষেত্রে চুরি করা বাইক নিয়ে সরে যেতেন বান্ধবী। মহিলা বলে তাঁকে দেখে সহজে সন্দেহও করত না কেউ।
রহড়ায় এমনই একটি বাইক চুরির তদন্তে নেমে জুটির পিছু নেয় পুলিশ। শুরু হয় ১৫ কিলোমিটারের সিসিটিভি ‘চেজ’। এক ক্যামেরা থেকে অন্য ক্যামেরা ধরে শেষপর্যন্ত পাকড়াও বান্টি-বাবলি। সৌরভ সামন্ত ও জিনিয়া রুদ্রকে শনাক্ত করে রহড়া থানার পুলিশ। রবিবার গ্রেপ্তার করা হয় দু’জনকে। জিনিস ডেলিভারির কাজকে সামনে রেখে একের পর এক চুরি! এই ঘটনা যেন সিনেমাকেও হার মানায়।
পুলিশের দাবি, ডেলিভারি বয়ের পরিচয় থাকায় সৌরভ স্কুটি নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় পৌঁছে যেত। সঙ্গে বান্ধবী জিনিয়া থাকত। ফলে তাদের ঘোরাফেরায় লোকজনের তেমন কোনও সন্দেহ হত না। সেই সুযোগেই দু’জনে ছক কষত বাইক চুরির। কোথায় নজরদারি কম, কোন বাইক নেওয়া যাবে—দেখে নিয়ে সুযোগ মতো সেটি চুরি করা হত। বাইক চালাতে পারে বান্ধবীও। তাই বেশিরভাগ ক্ষেত্রে চুরির বাইক নিয়ে সরে যেত জিনিয়া।
তবে সব চুরির কায়দা একই রকম ছিল না। দিন হোক বা রাত, ডেলিভারি দিতে বেরনোর সময়েই চলত বাইক চুরি বলে পুলিশের দাবি। রহড়ার একটি বাইক চুরির ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজের সূত্রে মেলে দু’জনের ঠিকানা। সৌরভের বাড়ি রহড়ায়, জিনিয়ার বেলঘরিয়ায়। জিনিয়ার বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় রহড়া থেকে চুরি যাওয়া একটি বাইক। তদন্তে এখনও পর্যন্ত সাতটি বাইক চুরির ঘটনায় তাঁদের যোগ মিলেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। বেলঘরিয়া থেকে তিনটি, নিমতা থেকে দু’টি এবং রহড়া থেকে দু’টি। চুরি করা বাইক কোথায় বিক্রি করা হত? কোনও গ্যারেজের সঙ্গে যোগ ছিল কিনা? সেসব খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। সোমবার দু’জনকে বারাকপুর আদালতে পেশ করা হলে ৬ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক। ডেলিভারির আড়ালে আরও কত বাইক উধাও করেছে এই জুটি? তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।