• থিমপুজোয় সংস্কৃতিতে আঘাত? অবস্থান স্পষ্ট করলেন মুখ্যমন্ত্রী
    প্রতিদিন | ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই প্রথমবার দুর্গাপুজো। স্বাভাবিকভাবে এবারের পুজোর দিকে নজর সকলের। এই পরিস্থিতিতেই আবার থিমপুজো নিয়ে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের নির্গুণানন্দ মহারাজের মন্তব্যে বিতর্ক দানা বাঁধে। সোমবার পুজো কমিটি সদস্যদের সঙ্গে বৈঠকের পর রাজ্যের অবস্থান স্পষ্ট করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

    এদিন তিনি স্পষ্ট জানান, থিমপুজো চাইলে করা যেতেই পারে। তবে পুজো কমিটিগুলিকে খেয়াল রাখতে হবে, যাতে কোনওভাবেই সনাতনী সংস্কৃতিতে আঘাত না লাগে। তাই থিম ভাবনাচিন্তার ক্ষেত্রে পুজো কমিটিগুলিকে আরও সতর্ক হতে হবে, সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই। বলে রাখা ভালো, সম্প্রতি নির্গুণানন্দ মহারাজ থিমপুজো নিয়ে নিজের মতামত জানান। তিনি স্পষ্ট দাবি করেন, থিমপুজো করা যেতে পারে। সেক্ষেত্রে দেশের নানা জায়গার মন্দিরকে থিম হিসাবে বেছে নিতে পারেন পুজো কমিটির সদস্যরা। কারণ, মন্দিরেই অধিষ্ঠান দেবীর। যদিও শুভেন্দু জানিয়ে দেন, বাংলার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির গুরুত্বকে মাথায় রেখে থিমের পুজোর আয়োজন করা যাবে।  

    এরপরই পুজো নিয়ে একাধিক সিদ্ধান্তের কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী। জানালেন, পুজো কমিটিগুলোকে অনুদান হিসেবে দেওয়া হবে ১ লক্ষ টাকা। লাগবে না বিদ্যুতের টাকা। তবে স্পষ্ট করে দিলেন, দেবীপক্ষের আগে কোনও পুজো উদ্বোধন হবে না। অর্থাৎ মহালয়ার পরই হবে উদ্বোধন। কার্নিভ্যালও হবে না। তবে সরকারের তরফে শারদ সম্মানের আয়োজন করা হবে।

    তৃণমূল জমানায় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পুজো কমিটিগুলোকে অনুদান দেওয়া শুরু করেছিলেন। প্রথম বছর সব ক্লাবকে দেওয়া হয়েছিল ২৫ হাজার টাকা। পরবর্তীকালে বেড়েছে অনুদানের পরিমাণও। গতবছর অর্থাৎ ২০২৫ সালে দুর্গাপুজোর অনুদান বাবদ ক্লাবগুলো পেয়েছিল ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা করে। তবে পালাবদলের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, বড় ক্লাবগুলোকে আর্থিক অনুদান দেওয়া হবে না। ফলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কী হবে সেদিকেই নজর ছিল সকলের। সোমবার পুজো বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী জানালেন, সব ক্লাবকে অনুদান বাবদ দেওয়া  হবে ১ লক্ষ টাকা। তবে মুখ্যমন্ত্রীর আর্জি, বড় পুজো কমিটিগুলো যেন এই আর্থিক সহায়তার পথে না হাঁটেন। তাতে খুশি হবেন মুখ্যমন্ত্রী।
  • Link to this news (প্রতিদিন)