• হবু ডাক্তারদের অন্তর্বাসে হাত দিয়ে তল্লাশি! ন্যাশনাল মেডিক্যালের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি
    প্রতিদিন | ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • পরীক্ষার হলে প্রবেশের আগে তল্লাশির নামে অন্তর্বাসে হাত দেওয়ার অভিযোগ উঠল ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজে। এমবিবিএস পরীক্ষার আগে ছাত্রীদের শারীরিক তল্লাশি ঘিরে চূড়ান্ত বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, তল্লাশি করতে গিয়ে শালীনতার সীমা ছাড়িয়েছে কর্তৃপক্ষ। এই ঘটনায় তদন্তের জন্য কমিটি তৈরি করল স্বাস্থ্যবিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়।

    গত শনিবার ছিল অ্যানাটমি পরীক্ষা, সেই পরীক্ষার আগে অশোভন তল্লাশির জন‌্য ইতিমধ্যেই অভিযোগ করা হয়েছে। ন‌্যাশনাল মেডিক‌্যাল কলেজ এবং স্বাস্থ্যবিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয় পৃথকভাবে তৈরি করেছে তদন্ত কমিটি। সোমবার ছিল ফিজিওলজি পরীক্ষা। অভিযোগ পেয়েই, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অভিযুক্ত মহিলা সুরক্ষাকর্মীদের সরিয়ে দিয়েছে। তার জায়গায় সম্পূর্ণ নতুন সুরক্ষাকর্মীরা দায়িত্ব পেয়েছেন। সোমবারের পরীক্ষা নিয়ে কোনও অভিযোগ জানাননি ছাত্রীরা। নির্বিঘ্নেই মিটেছে এদিনের পরীক্ষা।

    কী হয়েছিল শনিবার? অভিযোগ, বেলা ১১টায় অ্যানাটমি পরীক্ষা থাকায় ১০টা ৩০ মিনিট নাগাদ ন্যাশনাল মেডিক‌্যাল কলেজে ছাত্রীদের আলাদা ঘরে নিয়ে তল্লাশি শুরু হয়। সেই সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে নিযুক্ত মহিলা সুরক্ষাকর্মীদের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের অন্তর্বাসে হাত দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। কিছু ছাত্রী জানান, ঋতুস্রাব চলাকালীন ছাত্রীদের স্যানিটারি ন্যাপকিন পরা নিয়েও আপত্তি তোলেন কিছু সুরক্ষাকর্মী। অভিযোগ, দীর্ঘক্ষণ ধরে চলে এমন অশোভন তল্লাশি। অনেক ছাত্রীই জানান, এমন বিচিত্র তল্লাশির জেরে পরীক্ষার হলে ঢুকতে দেরি হয়ে যায়। সে কথা বারবার জানালেও কানে তোলেননি সুরক্ষাকর্মীরা। এর ফলে এক ছাত্রী নির্দিষ্ট সময়ের অনেক পরে পরীক্ষা হলে ঢুকতে পারেন। স্বাভাবিকভাবেই এই ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয়।

    রবিবারের ছুটির দিন থাকায় লিখিত অভিযোগ জমা না পড়লেও, ছাত্রীরা বিষয়টি নিয়ে অধ্যক্ষকে মৌখিকভাবে ও হোয়াটসঅ্যাপ মারফত জানান। একাধিক ভুক্তভোগী ছাত্রী সোশাল মিডিয়ায় প্রতিবাদ জানিয়ে এহেন শারীরিক তল্লাশিকে ‘অ্যাবসলিউটলি ক্রিমিনাল অ্যাক্ট’ বলে উল্লেখ করেন। সোমবার ন্যাশনাল মেডিক্যালের অধ্যক্ষ সুস্মিতা ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘ছাত্রীদের থেকে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। এভাবে তল্লাশি চালানো যায় না। সব ক্ষেত্রেই একটা সীমা রয়েছে। শালীনতা লঙ্ঘন যাতে না হয়, সে দিকে খেয়াল রাখতে হয়। সব কাজের একটা এসওপি থাকে। ঘটনার কথা শুনে আমি হতবাক! বিষয়টি লিখিতভাবে বিশ্ববিদ্যালয়কে জানিয়েছি।’’ স্বাস্থ্যবিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মুকুল ভট্টাচার্য ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুতর বলে অভিহিত করে জানান যে, তদন্ত শুরু হয়েছে এবং দোষ প্রমাণিত হলে আইনি ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।
  • Link to this news (প্রতিদিন)