উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় নজরকাড়া নম্বর পেয়েছিল এক পড়ুয়া। তবে পছন্দের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ পায়নি সে। এর পরেই আত্মহত্যা করেছে ১৭ বছর বয়সি ওই পড়ুয়া। সোমবার পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে তাদের মনে হয়েছে হতাশা থেকেই এই চরম পদক্ষেপ করেছে ওই পড়ুয়া।
পুলিশ জানিয়েছে, থানের ঘোড়বন্দর রোডের হিরানন্দানি এস্টেটের একটি আবাসন কমপ্লেক্সে পরিবারের সঙ্গে থাকত ১৭ বছর বয়সি ওই কিশোর। দ্বাদশ শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের পরীক্ষায় ৯৫.৭ শতাংশ নম্বর পেয়েছিল সে। জানা গিয়েছে, পছন্দের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে না পারায় হতাশ ছিল সে।
জানা গিয়েছে, শুক্রবার সন্ধ্যায় ওই আবাসিক ভবনে ২২ তলার ‘রিফিউজ় এরিয়া’ বা নিরাপদ স্থল থেকে ঝাঁপ দেয় সে। এর আগেই পরিবারের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে নিজের জীবন শেষ করে দিতে চায় বলে জানিয়ে একটি মেসেজ পাঠিয়েছিল ওই কিশোর। পরিবারের লোকজন তার কাছে পৌঁছনোর আগেই ঝাঁপ দিয়েছিল সে।
সূত্রের খবর, দ্বাদশ শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের পরীক্ষায় ৯৫.৭ শতাংশ নম্বর পেয়েছিল সে। ওই কিশোর কলকাতার শিবপুরের ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ইঞ্জিনিয়ারিং সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (IIEST)-তে বিএস-এমএস ডুয়াল ডিগ্রি (BS-MS dual degree) কোর্সে পড়াশোনা করতে চেয়েছিল। তবে অ্যাপটিটিউড টেস্টে (aptitude test) ১০৪৭৪তম স্থান অর্জন করায় সেখানে ভর্তির সুযোগ পেতে ব্যর্থ হয় সে। নামী ওই প্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ না পাওয়ায় তার হতাশা আরও বেড়ে যায় বলেও জানিয়েছেন পরিবারের লোকজন এবং আত্মীয়রা।
পুলিশ আধিকারিকরা জানিয়েছেন, ওই দিন সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে সাইকেল চালানোর কথা বলে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল । এর কিছুক্ষণ পরেই পরিবারের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে মেসেজ পাঠায় সে। তাতেই নিজের জীবন শেষ করার ইচ্ছার কথা জানিয়েছিল ওই কিশোর। ওই মেসেজ দেখার পরেই তার মোবাইল ফোন সুইচড অফ পান পরিবারের লোকজন। অবিলম্বে কাসারভাদাবলি থানায় বিষয়টি জানান তাঁরা। সেখানে যাওয়ার পরেই ওই কিশোরকে নীচে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন আধিকারিকরা। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরে তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।
পুলিশ জানিয়েছে, ওই কিশোরের মর্মান্তিক এই পদক্ষেপ করার জন্য পুরোপুরি পড়াশোনা-সংক্রান্ত মানসিক চাপকেই দায়ী করছেন তার পরিবারের লোকজন।