শান্তিনিকেতন বেড়াতে এলে সোনাঝুরির পাশাপাশি অনেকেই ঘুরতে যান ইলামবাজারের দিকেও। শ্রীনিকেতন পার হয়ে ইলামবাজার এলাকায়, জঙ্গলে ঘেরা এলাকায় গড়ে উঠেছে নামী রেস্তরাঁ-ও। এলাকার পরিবেশ এবং ওই রেস্তরাঁর নামের গুণে সেখানেই উইকএন্ডে এসে ভিড় জমান পর্যটকরা। আর সেখানেই ধরা পড়ল একাধিক অনিয়ম। এরই সঙ্গে সেখানে বাসি খাবার দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ। যদিও এই অভিযোগ পুরোপুরি ঠিক নয় বলে দাবি করেছেন ওই রেস্তরাঁর কর্মীরা।
গত কয়েক দিন ধরেই রাজ্য জুড়ে অভিযান চলছে বিভিন্ন হোটেল, রেস্তরাঁ এবং খাবারের দোকানে। বেশির ভাগ হোটেল এবং খাবার দোকানে সঠিক নিয়ম মানা হচ্ছে না বলেও অভিযোগ। এমনই অভিযান চালানো হয় ইলামবাজারের একটি নামী রেস্তরাঁতেও। আর, বোলপুর সাব-ডিভিশনাল হাসপাতালের খাদ্য সুরক্ষা আধিকারিক সঞ্জুয়ারা খাতুনের নেতৃত্বে চালানো এই অভিযান ঘিরেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে। কারণ, পরিদর্শনের সময় রেস্তরাঁর রান্নাঘর ও খাদ্যসামগ্রীর মজুত খতিয়ে দেখে একাধিক গুরুতর অনিয়ম ধরা পড়ে।
দপ্তরের আধিকারিকদের অভিযোগ, রেস্তরাঁটিতে কোনও রকম লেবেলিং বা সঠিক ফুড সেফটি মানদণ্ড না মেনে বাসি খাবার মজুত করে রাখা হয়েছিল। পাশাপাশি, রান্না করা ও কাঁচা খাবার আলাদাভাবে সংরক্ষণের নিয়ম না মেনে একই ফ্রিজে এক সঙ্গে রাখা হয়েছিল। ওই রেস্তরাঁর রান্নাঘরে প্রচুর মাছিও লক্ষ্য করেন আধিকারিকরা। এমন কী, জল পরীক্ষার রিপোর্ট এবং সঠিক স্টক রেজিস্টারও দেখাতে ব্যর্থ হয় ওই রেস্তরাঁ কর্তৃপক্ষ। টাটকা ইলিশ মাছ বলে আগের দিনের বাসি ইলিশ মাছ দিয়ে রান্না করে বিক্রির অভিযোগও সামনে এসেছে।
এর পরেই ওই রেস্তরাঁকে সতর্ক করা হয়েছে। সেই সঙ্গেই রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষকে নোটিস ধরানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন সঞ্জুয়ারা খাতুন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশোধনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ওই রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষকে বলে জানিয়েছেন খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের আধিকারিকরা। ত্রুটি সংশোধন করা না হলে কড়া পদক্ষেপ করার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।
যদিও ওই রেস্তরাঁর কর্মীদের দাবি, সেখানে টাটকা খাবারই দেওয়া হয়। তবে এই ইলিশ আগের দিনের রান্না করে রাখা হয়েছিল বলেও স্বীকার করেছেন তাঁরা।